[bangla_day], [english_date], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]

৫ হাজার টাকার জন্য খুন হন আখতারুজ্জামান

প্রকাশঃ May 4, 2016 | সম্পাদনাঃ 4th May 2016

2016_05_04_13_53_43_hRsdU1gvix1XIzWjq99ZR51JRrFGw9_original

ধারের ৫ হাজার টাকা দিতে দেরি হওয়ায় খুন হয়েছেন গাজী ট্যাংকের পাবনাস্থ বিক্রয় প্রতিনিধি আখতারুজ্জামান আখতার ওরফে সরোজ মোল্লা (৩২)। আর এই খুনের ঘাতক তারই বন্ধু ও দূরসম্পর্কের চাচাতো ভাই রাহেদুজ্জামান (৩০)।

মসলা বাটা পাটার শিল দিয়ে মাথায় আঘাতের পর মৃত্যু নিশ্চিত করে লাশ সরিয়ে ফেলতে দা দিয়ে কেটে ৮ টুকরো করে বাথরুমের ফলস ছাদের উপর রেখে দেয়া হয়। রাহেদুজ্জামান পুলিশের কাছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে।

বুধবার দুপুর পৌনে ১২টায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সুপার আলমগীর কবির।

আলমগীর কবির জানান, কুষ্টিয়া জেলার মীরপুর উপজেলার নান্দিয়া গ্রামের মৃত আলতাফ হোসেন ওরফে ফারুক মোল্লার ছেলে আখতারুজ্জামান আখতার চাকরির সুবাদে পাবনার কৃষ্ণপুর মহল্লার জামিল হোসেনের বাড়িতে বাসা ভাড়া করে থাকতেন। তার সাথে থাকতেন দূরসম্পর্কের চাচাতো ভাই ও বন্ধু সমতুল্য একই এলাকার মৃত মোশারোফ হোসেনের ছেলে রাহেদুজ্জামান। আখতারুজ্জামান গাজী গ্রুপের গাজী ট্যাংকের পাবনাস্থ বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

তিনি জানান, গত ২ মে আখতারুজ্জামান অফিস শেষ করে বাসায় ফিরে যান। পরদিন ৩ মে তিনি অফিসে না গেলে মোবাইলে অফিসের অন্য স্টাফরা তাকে না পেয়ে মার্কেটের ডিলারদের সহযোগিতায় তার ভাড়া বাসায় যান। সেখানে তার বন্ধু রাহেদুজ্জামানকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি উপস্থিত লোকজনকে জানান, জরুরি কাজে আখতারুজ্জামান গ্রামের বাড়িতে গেছেন।

সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত আখতারুজ্জামান অফিসে কোনো যোগাযোগ না করলে কোম্পানির লোকজন আবারো তার বাসায় যান। সেখানে গিয়ে তারা দেখতে পান রাহেদুজ্জামান ব্যাগপত্র গুছিয়ে রিকশায় উঠছেন। এ সময় আখতারুজ্জামানের সম্পর্কে কোম্পানির লোকজন রাহেদুজ্জামানকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তার কথায় ব্যাপক গড়মিল পান। এতে তাদের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হওয়ায় তাকে থানাতে নিয়ে যান তারা।

এসপি আলমগীর আরো জানান, থানাতে নিয়ে যাওয়ার পর তার ব্যাগ তল্লাশি করে একটি নুতন ধারালো দা পাওয়া যায়। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে সে স্বীকারোক্তি দেয়, ২ মে রাত সাড়ে ১১টার সময় ঘুমন্ত অবস্থায় মসলা বাটা পাটার শিল দিয়ে মাথায় আঘাত করলে আখতারুজ্জামান মারা যান। পরদিন ৩ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শহরের একটি দোকান থেকে সে ধারালো একটি দা কিনে তা দিয়ে ৮ খণ্ড করে আখতারুজ্জামানকে। পুলিশ তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী কৃষ্ণপুরের ওই ভাড়া বাসার নিচতলার বাথরুমের ফলস ছাদের উপর থেকে বস্তাবন্দি খণ্ডিত মৃতদেহ উদ্ধার করে।

এসপি আলমগীর হোসেন প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, গ্রেপ্তারকৃত রাহেদুজ্জামান পুলিশকে জানিয়েছেন সম্প্রতি আখতারুজ্জামান তার কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা ধার নেন। কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরে এই টাকা দেয়া নিয়ে টালবাহানা শুরু করেন আখতারুজ্জামান। এরই জের ধরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ক্ষোভের বসবর্তী হয়ে তাকে হত্যা করেন রাহেদুজ্জামান।

তিনি জানান, প্রাথমিক অবস্থায় মনে হচ্ছে রাহেদুজ্জামান ইতোপূর্বের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথে সম্পৃক্ত থাকতে পারে। যেহেতু তার বাড়ি কুষ্টিয়ার চরমপন্থী অধ্যুষিত এলাকাতে। সেহেতু পুলিশ তার সম্পর্কের আরো বিস্তর খোঁজ খবর নিচ্ছেন। খোঁজ খবর নেয়ার পর আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য বেড়িয়ে আসবে এমন ধারণা পুলিশের।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল হাসান বলেন, নিহত আখতারুজ্জামান ওরফে সরোজ মোল্লার চাচা মোজাম্মেল হক বাদী হয়ে থানাতে মঙ্গলবার রাতেই একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। আর ওই মামলায় পুলিশ রাহেদুজ্জামানকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডের জন্য আদালতে হাজির করে আবেদন জানাবেন। সকালে মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ওসি বলেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসার পর আরো বিস্তারিত বলা সম্ভব হবে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ