[bangla_day], [english_date], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]

৩০০ করেও যখন হারতে হয়…

প্রকাশঃ January 16, 2016 | সম্পাদনাঃ 16th January 2016

টাইম মেশিনে চড়ে চলুন ২৩ বছর আগের নিউজিল্যান্ডের পুকেকুরা পার্ক থেকে ঘুরে আসা যাক।
নিউ প্লাইমাউথের ছোট্ট মাঠটিতে চলছে ১৯৯২ বিশ্বকাপের তৃতীয় ম্যাচ। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টসে জিতে ব্যাট করতে নামল জিম্বাবুয়ে। অভিষিক্ত অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের সেঞ্চুরিতে ৫০ ওভারে ৩১২ রানের ‘এভারেস্ট’ স্কোর করে ফেলল দলটি।
ঠিক তখন কী ভাবছিলেন জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক ডেভ হটন? বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচটি হেসেখেলেই জিততে যাচ্ছেন? ভাবতেই পারেন। তিন শ রান এর আগে কেউ কখনো তাড়া করেছে নাকি!
হটন যা-ই ভেবে থাকুন, ‘কখনো তাড়া করেছে নাকি ?’ ধারণাটাকে ৪৯.২ ওভার পরই ‘এটাও সম্ভব’ বানিয়ে দিলেন অর্জুনা রানাতুঙ্গা-অথুলা সামারাসেকারারা। নিউজিল্যান্ডের হাওয়া-বাতাস গায়ে লেগেছে বলেই কিনা, ক্রিকেটের ‘এডমুন্ড হিলারি’ বনে গেলেন লঙ্কানরা। কিউই এই পর্বতারোহীর মতোই পাড়ি দিলেন জিম্বাবুয়ের ৩১২ রানের এভারেস্ট। প্রথম কোনো দল দেখাল, ৩০০-ও তাড়া করে জেতা যায়!
এবার টাইম মেশিন থেকে নেমে বর্তমানে ফিরে আসুন।
‘৩০০’ করে এখন আর কি মোটামুটি নিশ্চিত জয় ধরে বসে থাকা যায়? ১৯৯২ থেকে ২০১৫—এই ২৩ বছরে অনেকটাই বদলে গেছে ক্রিকেটের চিত্র। এখন আর ‘৩০০’ সংখ্যাটা পরে ব্যাট করা দলের মনে ভীতি জাগায় না। সর্বশেষ দুটি ওয়ানডেই দেখুন। ওয়াকা, গ্যাবার মতো মাঠেও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আগে ব্যাট করে তিন শ পেরোনো দুটি ইনিংস গড়েছে ভারত। দুবারই হেরেছে।

একটা ‘রেকর্ড’ও হয়ে গেছে ভারতের। অবশ্য প্রথমে ব্যাট করে ৩০০ বা তার চেয়ে বেশি স্কোর গড়েও সবচেয়ে বেশি ১০ বার হেরে যাওয়ার সে ‘রেকর্ড’টির পাশে ভারতেন নাম না উঠলেই বেশি খুশি হতেন অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি। অবশ্য ভারত একা নয়, ১০ বার তিন শ পেরোনো স্কোর করেও হারতে হয়েছে ইংল্যান্ডকেও।
ওয়ানডেতে প্রথমে ৩০০ পেরোনো স্কোর গড়েও এ পর্যন্ত ম্যাচ হারের ঘটনা ৫৮টি। ভারত-ইংল্যান্ডের পর এই তালিকায় আছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও অস্ট্রেলিয়া—৭ বার করে হেরেছে তারা। নিউজিল্যান্ড হেরেছে ৫ বার। এছাড়া পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ আফ্রিকা ৪ বার; জিম্বাবুয়ে ও আয়ারল্যান্ড হেরেছে ২ বার করে।
তবে নিজেদের একটু বেশি দুর্ভাগা ভাবতে পারে অস্ট্রেলিয়া। ৩০০ থেকে বাড়িয়ে ৩৫০ কিংবা তারচেয়ে বেশি রান করেও হারের যে তিনটি ম্যাচ আছে, তার তিনটিতেই পরাজিত দল যে তারাই! ২০১৩ সালে ভারতের বিপক্ষে ভারতের মাটিতে ৩৫০ ও ৩৫৯ করেও হেরেছিল অস্ট্রেলিয়া। তৃতীয় ম্যাচটি কোনটি, তা তো বুঝতেই পারছেন! ২০০৬, দক্ষিণ আফ্রিকা, ৪৩৪—মনে পড়ছে?
৩০০ করার পরও হারের হতাশা আছে বাংলাদেশেরও। ২০১৪ সালের এশিয়া কাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে এনামুল হক বিজয়ের সেঞ্চুরি, সঙ্গে ইমরুল-মুমিনুল-মুশফিকের ফিফটিতে প্রথমে ব্যাট করে ৩২৬ করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু আহমেদ শেহজাদের সেঞ্চুরি, ফাওয়াদ আলম ও শহীদ আফ্রিদির ফিফটিতে ১ বল বাকি থাকতেই জিতে যায় পাকিস্তান।
মন খারাপ হয়ে গেছে? সুখকর একটা পরিসংখ্যান দেওয়া যাক—ওয়ানডেতে এ পর্যন্ত ৪ বার তিন শ বা তারচেয়ে রান বেশি তাড়া করে জিতেছে বাংলাদেশ। ২০০৯ সালে জিম্বাবুয়ের সঙ্গে প্রথম, ২০১৩-তে শ্রীলঙ্কা ও নিউজিল্যান্ডের পর গত বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের সঙ্গে। যেটি কিনা স্কটল্যান্ডের একমাত্র ‘৩০০-আক্ষেপ’।
এভাবে ‘৩০০’—কেও মামুলি স্কোর বানিয়ে দেওয়ার পেছনে অনেকগুলো কারণ থাকতে পারে। ছোট মাঠ, বড় ব্যাট, ব্যাটসম্যান বান্ধব ক্রিকেট আইন প্রবর্তন….। তবে সবচেয়ে বড় কারণ যেটিকে মনে করা হয়, সেটি টি-টোয়েন্টি। ২০ ওভারের ক্রিকেটের ‘মারকাটারি’ ভাবটাই ওয়ানডেতেও চলে আসছে বলে মনে করা হচ্ছে। কিছুটা হয়তো সত্যিও। ২০০৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের ম্যাচ দিয়ে প্রথম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি দেখেছিল ক্রিকেট। ১৯৭১ সালের জানুয়ারিতে আন্তর্জাতিক ওয়ানডে চালু হওয়ার পর ২০০৫ পর্যন্ত ৩৫ বছরে তিন শ তাড়া করে জয় দেখেছে মাত্র ১৩টি ম্যাচ। আর ওই ম্যাচটির পরে? ১০ বছরে ৪৫ টি!

এই বিভাগের আরো সংবাদ