[bangla_day], [english_date], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]

৩য় ধাপে ভোট কাল, প্রধানমন্ত্রীর বার্তায় সতর্ক ইসি

প্রকাশঃ April 22, 2016 | সম্পাদনাঃ 22nd April 2016

2016_03_27_20_17_33_vyl8fvEgiEK7AHF6sGXPyenChlkun6_original

তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের ভোটগ্রহণের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ চলবে এসব এলাকায়। নিয়ম অনুযায়ী দেশের ৪৮ জেলার ৬২০ ইউপিতে প্রার্থীদের সব ধরনের প্রচারণা শেষ হয়েছে বৃহস্পতিবার প্রথম প্রহর থেকে।

এদিকে, গত হওয়া প্রথম দুই ধাপে ইউপি নির্বাচনে সহিংসতা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়। তৃতীয় ধাপের নির্বাচনকে কেন্দ্র করেও চলছে সংঘাত-সংঘর্ষ। দুই ধাপের ব্যাপক সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ইসি আরো সর্তক হবে বলে বিভিন্ন মহল মনে করেছিলো। তবে কমিশন বাড়তি কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা না নিয়েও এ ধাপের ভোটে কম সহিংসতার আশা করছে।

ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার উপ-সচিব সামসুল আলম জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মাঠে আছে, নির্বাচনী সামগ্রী শুক্রবার বিকেলের মধ্যে সব কেন্দ্রে পৌঁছে গেছে।

ইতোমধ্যে অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে গাজীপুরে একজন এসপি, দুজন ওসি, গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর ওসি প্রত্যাহার করা হয়েছে। সুষ্ঠু ভোটের জন্য সঠিক অভিযোগ পেলে তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, তৃতীয় ধাপের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাড়তি কোনো ব্যবস্থা না নিলেও ছয় ধাপের এ ভোটের মাঝপথে দাঁড়িয়ে সহিংসতা দমন করে সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে। এ লক্ষ্যে তৃতীয় ধাপের নির্বাচনের আগে পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় আবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে নিয়েছে কমিশন। বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে শক্ত হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানান তারা।

এবারই প্রথম দলীভাবে ইউপি নির্বাচনে ১৪টি দল প্রার্থী দিলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে। সেকারণে নির্বাচনের প্রথম ধাপ থেকেই সহিংসতা ও হতাহতের জন্য বিএনপির নেতারা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে দায়ী করে আসছে। একই সঙ্গে এসব ঘটনায় কমিশনের নিরব ভূমিকারও কঠোর সমালোচনা করে আসছে বিএনপি।

তবে আওয়ামী লীগের দাবি, অনিয়মবিশৃঙ্খলা রোধে শুরু থেকেই ইসিকে কঠোর হতে বলছে তারা। অপরদিকে, ইসিও বিএনপির সমালোচনা তেমন আমলে নিচ্ছে না।

তৃতীয় ধাপের ইউপি ভোটগ্রহণের আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীর বাহিনার সঙ্গে বৈঠক শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদও বলেছেন, ‘ইউপি নির্বাচন সব সময় ঝামেলাপূর্ণ। আগেও সহিংসতা হয়েছে। দলীয় কোন্দলের জেরে ও নির্বাচন নিয়ে সহিংসতা হয়ে থাকে। এটা এড়াতে আরো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

গত ১১ ফেব্রুয়ারি ইউপি ভোটের তফসিল ঘোষণার পর থেকে এ পর্যন্ত গোলযোগ-সহিংসতায় অন্তত ৪০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।

এদিকে, ভোটের অনিয়ম-বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে প্রয়োজনে ইসিকে আরো কঠোর হতে বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর বার্তার ফলে তৃতীয় ধাপের ভোটে সহিংসতা বন্ধ হবে বলে মনে করছে নির্বাচন কমিশন।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার শাহনেওয়াজ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর বার্তাকে আমরা স্বাগত জানিয়েছি। আশা করি, ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা এবার কোনো ধরনের বাড়াবাড়ি করবে না। দলীয়ভাবে নেতাকর্মীদের এমন নির্দেশনা দেয়ার অনুরোধও করা হয়েছে।’

তৃতীয় ধাপে সুন্দর ভোট হবে, এ আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘২৩ এপ্রিল তৃতীয় ধাপের ৬২০ ইউপির ভোট হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক করেছি দ্বিতীয়বার, তারাও আশ্বস্ত করেছে, আরো শক্ত হবে। আগের অভিজ্ঞতা নিয়ে তাদের সতর্ক থাকতে বলেছি। বাড়তি কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়ার দরকার হবে না, আশা করি, গত দুই পর্বের চেয়ে এবার সুন্দর নির্বাচন হবে।’

তৃতীয় ধাপের ভোট তথ্য :

২৩ এপ্রিল ভোটের জন্য ৬৮৫টি ইউপির তালিকা করেছিল ইসি। প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিতে না পারায় রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানের ৫৩ ইউপির ষষ্ঠধাপে নেয়া হয়েছে। নানা জটিলতায় আরো এক ডজন ইউপির ভোট বাদ যায়। শনিবার ৬২০ ইউপির ভোট হওয়ার কথা আছে।

এ ধাপে চেয়ারম্যান প্রার্থী আছে ২ হাজার ৬৭২ জন। সাধারণ সদস্য পদে ২০ হাজার ৯৪৩ জন ও সংরক্ষিত সদস্য পদে ৬ হাজার ২৯৮ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আছেন।

ইতোমধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের ২৫ জন, সাধারণ সদস্য পদে ১৭৪ জন ও সংরক্ষিত সদস্য পদে ৭৯ জন নির্বাচিত হয়েছেন।

এসব ইউপিতে মোট ভোটার আছে ১ কোটি ৯ লাখ ৮০ হাজার ৩৫৫ জন। সাড়ে ৬ হাজারেরও বেশি ভোটকেন্দ্রে লক্ষাধিক ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা ও দেড় লাখের মতো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত থাকবে।

তৃতীয় ধাপের ভোটে প্রার্থী ও দল : 

তৃতীয় ধাপের ভোটে চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থী আছেন ১ হাজার ৪৮৭ জন, স্বতন্ত্র প্রার্থী আছেন ১ হাজার ১৮৫ জন। মোট ১৪টি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগ ৬২০ জন, বিএনপি ৫৩৯ জন, জাতীয় পার্টি ১৬৭ জন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ ২৬ জন, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি ১২ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ৯২ জন, জাতীয় পার্টি-জেপি ৩ জন, খেলাফত মজলিস ২ জন, বিকল্পধারা ৩ জন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি ৫ জন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ১০ জন, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশ ৩ জন, বাসদ ১ জন ও অন্যান্য ৪ জন।

প্রসঙ্গত, ইতোমধ্যে ২২ মার্চ প্রথম ধাপে ৭১২ ইউপি ও দ্বিতীয় ধাপে ৩১ মার্চ ৬৩৯ ইউপির ভোট হয়। এতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতে জয় পাওয়াদের নিয়ে আওয়ামী লীগ ১০০১ ইউপিতে, বিএনপি ১০৮ ইউপিতে এবং স্বতন্ত্র ও অন্যান্য দলের ২১৮ ইউপির প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে জয় পেয়েছেন। এছাড়া, কিছু ইউপির ভোটের ফলাফল স্থগিত রাখা হয়েছে।

এবারই প্রথম দলীয় প্রতীকে ছয় ধাপে চলমান ইউপি নির্বাচনের শেষ ধাপের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৪ জুন।

এই বিভাগের আরো সংবাদ