[bangla_day], [english_date], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]

২০২০ সালে আকাশে উড়বে গাড়ি

প্রকাশঃ June 13, 2016 | সম্পাদনাঃ 13th June 2016

 

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক : অনেক দিন ধরে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি এবং শিশুদের কার্টুনে উড়ন্ত গাড়ির আষাঢ়ে গল্পের কথা শোনা যাচ্ছিল। এবার সেই আষাঢ়ে স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ২০২০ সালের টোকিও অলিম্পিক গেমসে আকাশে উড়বে গাড়ি।

সম্প্রতি জাপানের একদল প্রকৌশলী এ উড়ন্ত গাড়ি আবিষ্কার করেছেন। জাপানের টোয়োটা শহরের কাছে ১০ ফুট ওপর দিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে এ গাড়ি চালানো হয়েছে।

জানা যায়, বিভিন্ন জরুরি সংস্থা, অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিসের কথা চিন্তাভাবনা করে সম্প্রতি জাপানি প্রকৌশলীরা এই অভিনব গাড়ি আবিষ্কার করেন। তিনটি চাকা, চারটি পাখা ও এক ইঞ্জিন বিশিষ্ট গাড়িগুলো একইসঙ্গে মাটিতে চলার পাশাপাশি আকাশেও উড়বে। সেইসঙ্গে জরুরি প্রয়োজনে যেকোনো স্থানে অবতরণ করতে পারবে।

প্রকৌশলীরা জানান, জরুরি যেকোনো প্রয়োজনে গাড়িগুলো সহজেই ব্যবহার করা যাবে। এছাড়া ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাতে চলাচলে গুরুত্বপূর্ণ কাজ দেবে গাড়িগুলো।

উড়ন্ত গাড়ি আবিষ্কারের প্রকৌশলী দলের প্রধান হিসেবে কাজ করেছেন সুবাসা নাকামুরা। তার সঙ্গে অংশ নিয়েছেন জাপানের গাড়ি ইন্ডাস্ট্রির ২০ জন প্রকৌশলী ও ডিজাইনার। প্রকৌশলী নাকামুরা পড়াশুনা করেছেন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার বিষয় নিয়ে। এর আগে তিনি একটি খেলনা গাড়ির ইঞ্জিন আবিষ্কার করেছিলেন।

এর আগে উড়ন্ত গাড়ি আবিষ্কারের জন্য ২০১৪ সালে ইন্টারনেট ক্রাউড ফান্ডিং থেকে প্রায় ১৮ লাখ টাকা সংগ্রহ করেন প্রকৌশলী নাকামুরা। সেই টাকা দিয়ে তিনি ও তার দল উড়ন্ত গাড়ি তৈরির কাজ শুরু করেন। প্রকৌশলী দলের দাবি, জাপানের যেসব এলাকাতে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং চলাচলে সমস্যা হচ্ছে সেসব এলাকাতে গাড়িগুলো খুব কাজে দেবে।

এ বিষয়ে প্রকৌশলী দলের প্রধান সুবাসা নাকামুরা বলেন, ‘গাড়ি তৈরির জগতে এক নতুন যুগের সৃষ্টি করতে যাচ্ছি আমরা। এই গাড়ির মাধ্যমে মানুষ যেকোনো সময় যেকোনো স্থানে যেতে পারবে। বন্যার পানির জন্য যেসব এলাকাতে মানুষ যেতে পারতো না। সেসব এলাকাতে এই গাড়ি ব্যবহার করে যাওয়া যাবে। গাড়ি তৈরির সম্পূর্ণ কাজ শেষ। কিছুদিনের মধ্যে গাড়িগুলো বাজারে আসবে।’

গাড়িটির সবশেষ মডেল তৈরির আগে পাঁচবার ডামি মডেল তৈরি করা হয়েছে। সবশেষ মডেলটিকে চূড়ান্ত মডেল হিসেবে নির্ধারণ করে এ গাড়ির কাজ শেষ করা হয়। এই গাড়িতে ড্রোনেরমতো প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। বর্তমানে অনেকগুলো কোম্পানি উড়ন্ত গাড়ি তৈরির প্রায় কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। কয়েক বছরের মধ্যে উড়ন্ত গাড়ির বাজার অনেক জমজমাট হয়ে যাবে বলে ধারণা করছেন প্রকৌশলীরা।

এর আগে ২০১৪ স্লোভাকিয়ার একটি অ্যারো মোবাইল কোম্পানি পাখাযুক্ত একটি উড়ন্ত গাড়ি আবিষ্কার করেছেন। ২০১৮ সালের মধ্যে তারা সেই গাড়িটিকে টিএফ-এক্স মডেলের উড়ন্ত গাড়িতে পরিণত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে, লিলিয়াম অ্যাভিয়েশান নামের একটি জার্মান কোম্পানি আগামী দুই বছরের মধ্যে একটি উড়ন্ত গাড়ি তৈরি করবে। যার মধ্যে একটি ইলেক্ট্রনিক্স ইঞ্জিন ও একটি কম্পিউটার সংযুক্ত থাকবে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ