[bangla_day], [english_date], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]

হত্যাকাণ্ডে সরকারের ভূমিকায় হতাশ সংখ্যালঘুরা

প্রকাশঃ June 13, 2016 | সম্পাদনাঃ 13th June 2016

 

 

ইয়াছিন রানা।।

একের পর এক হত্যাকাণ্ডের প্রতিরোধ এবং বিচারে সরকারের কার্যকারিতা নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করেছেন সংখ্যালঘু নেতারা। শুধুমাত্র সংখ্যালঘুরাই হত্যার শিকার হচ্ছে না, যারা জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করেছেন এবং অতি সাধারণ মানুষরাও হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছেন। এই ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের ফলে ভীত হয়ে পড়েছে সংখ্যালঘুরা। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতারা তাদের এই হতাশার কথা বলেছেন।

হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ ঐক্যপরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি ও মৌলবাদীরা একাত্তরের ধারাবাহিকতায় একের পর এক হত্যাকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। এই শক্তির উদ্দেশ্য একটাই সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার করে সংখ্যালঘুদের সংখ্যা শূন্যের কোঠায় নিয়ে আসা, যাতে করে বাংলাদেশকে মধ্যপ্রাচ্যের কোনো একটি দেশ বানানো যায়।

তিনি বলেন, এই মৌলবাদী শক্তির মতের বিরুদ্ধে যারা দাঁড়াচ্ছে সে মুসলিম হোক আর যাই হোক, তাদের ওপরও হামলা হচ্ছে। যেমন এসপি বাবুলের স্ত্রীকে হত্যা করা হয়েছে। জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস মোকাবিলায় সরকারের ভ‚মিকা যথেষ্ট নয়, আরও শক্ত ভ‚মিকা পালন করতে হবে।

পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তাপস পাল বলেছেন, বর্তমানে যে হত্যাকাণ্ড চলছে তাতে আমরা খুবই ভীত। গতকাল থেকে অনেক মন্দিরের পুরোহিত ফোনে যোগাযোগ করেছেন যে আমরা কি করব। আইনশৃক্সখলার অবস্থা যাই হোক এবং এক্ষেত্রে সরকারের ভ‚মিকা যাই হোক, আমরা ঝিনাইদহের পুরোহিত হত্যাকাণ্ডের পর আর কোনো লাশ চাই না।

ইসকোন-এর সভাপতি রুপানু গৌরদাস বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার শক্তিশালী সরকার, এ হত্যাকাণ্ড প্রতিরোধে সরকারের ভ‚মিকা পর্যাপ্ত নয়, তাদের ভ‚মিকা আরও শক্ত হতে হবে। দেশে শুধু যে সংখ্যালঘুরা হত্যার শিকার হচ্ছে বিষয়টা তা নয়, মৌলবাদের বিরোধী মতবাদের লোকজন এবং অতি সাধারণ মানুষও এই সন্ত্রাসের দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছেন। সরকারের ভ‚মিকা যাই হোক, একের পর এক হত্যাকাণ্ড বেড়েই চলছে, আমরা আর কোনো লাশ চাই না।

ঢাকেশ্বরী মন্দিরের পুরোহিত প্রদিপ চক্রবর্তী বলেছেন, পুরোহিত হত্যাকাণ্ডে আমরা খুবই বিব্রত, আপনারা তো বুঝতেই পারছেন আমাদের মানসিক অবস্থা, কথা বলার মতো কোনো অবস্থা নেই। কোনো ধরনের হত্যাকাণ্ড হোক আমরা তা চাই না।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার সকালে ঝিনাইদহ সদরের করাতিপাড়ায় সনাতন ধর্মাবলম্বী বৃদ্ধ পুরোহিত আনন্দ রগাপাল গাঙ্গুলিকে গলাকেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এর আগে এ বছরের জানুয়ারি মাসে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নের কালুহাটি গ্রামে হোমিও চিকিৎসক খ্রিস্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত ছামির আলীকে (৮০) ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে কয়েকজন মুখোশধারী। গতকাল বুধবার টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বেলতৈল গ্রামে আবু সাঈদ ওরফে নুরু মাস্টারকে (৭০) কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া মঙ্গলবার নাটোরের বড়াইগ্রামের বনপাড়ায় খ্রিস্টান দোকানি সুনীল গোমেজকে হত্যা করা হয়েছে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ