[bangla_day], [english_date], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]

স্কুলছাত্রী কণিকা ঘোষ হত্যায় শিক্ষামন্ত্রীর নিন্দা, তদন্তে পদক্ষেপ

প্রকাশঃ May 28, 2016 | সম্পাদনাঃ 28th May 2016

146443551016

চাঁপাইনবাবগঞ্জ: ‘খবরের কাগজ ও পত্রপত্রিকা সংগ্রহ করে পড়ার অভ্যাস ছিল আমার মেয়ের। সে প্রায়ই বলত, লেখাপড়া করে শিক্ষক হবে। সব দুঃখ দূর করবে। সে নানান খবর আমাকে পড়ে শোনাত। আজ সে-ই খবর হয়ে গেল।’

বখাটে যুবকের হাঁসুয়ার এলোপাতাড়ি কোপে নিহত স্কুলছাত্রী কণিকা ঘোষের শোকার্ত মা এভাবেই বিলাপ করছিলেন।

নিহত কণিকা ঘোষ (১৬) মহিপুর এস এ এম উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী ছিল। আহত হয়েছে তার তিন সহপাঠী। আহতরা হলো তার সহপাঠী তানজিলা খাতুন, মরিয়ম খাতুন ও তারিন আফরোজ। তারা শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফিরছিল।

হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয় লোকজন বখাটে আবদুল মালেককে (২৬) হাঁসুয়াসহ আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।

শুক্রবার সকালে উপজেলার গোবরাতলা ইউনিয়নের মহিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মাধ্যমিক শিক্ষার রাজশাহী অঞ্চলের উপপরিচালককে ঘটনাটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, আবদুল মালেক মাদকাসক্ত ও বখাটে। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তিনি প্রায়ই হাঁসুয়া হাতে ঘুরে বেড়াতেন এবং লোকজনকে ভয় দেখাতেন। এর আগেও তিনি একাধিক লোকের ওপর হামলা চালিয়েছেন। মাদক সেবন করে মাতলামি করার অপরাধে বছর দেড়েক আগে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁকে কারাদণ্ড দিয়েছিলেন।

গোবরাতলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আসজাদুর রহমান বলেন, মহিপুর কলেজের শিক্ষক রুহুল আমিনের কাছে প্রাইভেট পড়া শেষ করে সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ওই চার ছাত্রী একসঙ্গে বাড়ি ফিরছিল। মহিপুর মোড় থেকে প্রায় ৩০০ মিটার দূরে গ্রামের পাকা রাস্তার ওপর আবদুল মালেক হাঁসুয়া নিয়ে পেছন থেকে অতর্কিত হামলা চালান ওই ছাত্রীদের ওপর। মালেকের এলোপাতাড়ি কোপে শিক্ষার্থীরা গুরুতর আহত হয়। তাদের চিৎকারে লোকজন এগিয়ে এসে ছাত্রীদের তিনজনকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে ও একজনকে স্থানীয় সেবা ক্লিনিকে নিয়ে যায়। সদর হাসপাতালের চিকিৎসকেরা কণিকা ঘোষকে মৃত ঘোষণা করেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) শফিকুল ইসলাম বলেন, কণিকার মাথা, হাতের কবজি, পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে হাঁসুয়া হাতে আবদুল মালেককে পালাতে দেখে ইউপি সদস্য ইউসুফ আলী ও কলেজছাত্র আসিকুল আলম তাঁকে আটক করেন। পরে স্থানীয় লোকজন পিটুনি দেওয়ার জন্য ছুটে আসে। জনরোষের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য মালেককে আটক করে রাখেন ইউপি চেয়ারম্যান আসজাদুর রহমান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এলে মালেককে তাদের কাছে সোপর্দ করা হয়।

মহিপুর গ্রামের সুফিয়া খাতুন বলেন, তাঁদের বাড়ির সামনে হামলার ঘটনা ঘটে। হামলা থেকে বাঁচতে দৌড় দেয় কণিকা। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁদের বাড়ির উঠানে এসে লুটিয়ে পড়ে। পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টার সময় মালেক পানিতে হাঁসুয়ার রক্ত ধুয়ে ফেলে এবং নিজের রক্তমাখা জামা বদলে ফেলে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাযহারুল ইসলাম বলেন, আটক আবদুল মালেক মাদকাসক্ত ও বখাটে। তাঁর বিরুদ্ধে এর আগেও লোকজনকে হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। নিহত ছাত্রীকে আগে থেকে উত্ত্যক্ত করতেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কণিকার তিন সহপাঠী বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। শুক্রবার সন্ধ্যায় তাদের চিকিৎসার খোঁজখবর নিতে হাসপাতালে যান প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের আশ্বাস দেন।

 

এই বিভাগের আরো সংবাদ