[bangla_day], [english_date], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]

সেঞ্চুরি করেও দলকে জেতাতে পারলেন না শামসুর

প্রকাশঃ May 25, 2016 | সম্পাদনাঃ 25th May 2016

shmsur-Rahman

ক্রীড়া ডেস্ক: সেঞ্চুরি পেতে পারতেন ষষ্ঠ রাউন্ডেই। বিকেএসপিতে ব্যক্তিগত ৯৫ রান থেকে কলাবাগান ক্রিকেট একাডেমির পেসার আব্দুল হালিমকে ছক্কা মেরে তিন অঙ্ক ছুঁয়েও ফেলেছিলেন গাজী গ্রুপের শামসুর রহমান। কিন্তু বলটি ছিল ‘নো’। গাজীর তখন জয়ের জন্য ১ রান প্রয়োজন থাকায় শামসুরের ছক্কাটি আর হিসাবে আসেনি।

সেদিন সেঞ্চুরি না পাওয়ার আক্ষেপটা বুধবার অষ্টম রাউন্ডে আবাহনীর বিপক্ষে মেটালেন এই ওপেনার ব্যাটসম্যান, সেই বিকেএসপিতেই। তবে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে নিজের দ্বিতীয় সেঞ্চুরির ম্যাচটি জয় দিয়ে রাঙিয়ে রাখা হলো না তার। ঢাকা লিগের ২০১৩-১৪ মৌসুমে এই আবাহনীর বিপক্ষেই মোহামেডানের হয়ে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে প্রথম সেঞ্চুরি (১০৫*) করেছিলেন শামসুর। মিরপুরে সেদিন তার সেঞ্চুরিতে ভর করে শেষ বলে ম্যাচ জিতেছিল মোহামেডান।

শামসুর নায়ক হতে পারতেন বুধবারও। ২৭৭ রান তাড়া করতে নেমে গাজীর অন্য ব্যাটসম্যানরা যেখানে আসা-যাওয়ার মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন সেখানে শামসুর একপ্রান্তে একাই বুক চিতিয়ে লড়ে গেছেন, তুলে নিয়েছেন দারুণ এক সেঞ্চুরি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দলকে জেতাতে পারলেন না। তাসকিন আহমেদের দারুণ বোলিংয়ে ৩২ রানের জয়ে সুপার লিগের আশা বাঁচিয়ে রেখেছে তামিম ইকবালের আবাহনী।

আবাহনীর করা ২৭৬ রানের জবাবে বুধবার রিজার্ভ ডেতে ব্যাট করতে নামে গাজী। কিন্তু শূন্য রানেই হারিয়ে ফেলে ২ উইকেট! আবাহনীর পেসার তাসকিনের প্রথম দুই বলেই ফিরে যান এনামুল হক বিজয় ও মেহদী হাসান। দুজনই ডাক মারেন। দলীয় ১৪ রানে শাহাদাত হোসেনের বলে বিদায় নেন পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান সাঈদ আনোয়ার জুনিয়রও (১)। খানিক বাদে তাসকিনের বলে বোল্ড ফরহাদ হোসেন (০)। ২৫ রানেই তখন ৪ উইকেট হারিয়ে মহাবিপদে গাজী গ্রুপ।

শামসুরের সঙ্গে জুটি বেঁধে স্কোরটা ৬৪ পর্যন্ত টেনে নিয়ে গিয়েছিলেন অধিনায়ক অলক কাপালি। কিন্তু ১৫ রান করে কাপালি বোল্ড হন আবুল হাসান রাজুর বলে। এরপরও একরকম একাই দলকে টেনে নিয়ে গেছেন শামসুর। ষষ্ঠ উইকেটে ইলিয়াস সানীর (১৩) সঙ্গে ৩৯ ও সপ্তম উইকেটে ফারুক হোসেনের সঙ্গে (২৯) ৭৫  রানের জুটি গড়ে শামসুর সেঞ্চুরি পূরণ করেছেন ১০৮ বলে।

শেষ ১০ ওভারে গাজীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৭৫ রান, হাতে ৩ উইকেট। ১৩৩ রান নিয়ে ক্রিজে থাকা শামসুরই তখন গাজীর আশার প্রদীপ জ্বেলে রেখেছিলেন। কিন্তু খানিক বাদেই তাসকিনের বলে শামসুর (১৩৬) এলবিডব্লিউ হয়ে গেলে গাজীর জয়ের আশাও শেষ হয়ে যায়। শেষ উইকেটে মোহাম্মদ শরীফ (২৫) ও আশিকুজ্জামানের (১০) ৩৩ রানের জুটি কেবল পরাজয়ের ব্যবধানই কমাতে পারে। ১৩০ বলে ১৩ চার ও ৩ ছক্কায় ১৩৬ রানের ইনিংসটি সাজান শামসুর।

৩২ রানে ৪ উইকেট নিয়ে আবাহনীর সেরা বোলার তাসকিন। এ ছাড়া আবুল হাসান ও রজত ভাটিয়া নেন ২টি করে উইকেট। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ক্রিকেটে ফেরা শাহাদাত হোসেন ৬ ওভারে ৪৯ রান দিয়ে নিয়েছেন ১ উইকেট।

আগের দিন টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ভারতীয় অলরাউন্ডার রজত ভাটিয়ার অপরাজিত ৯০, তামিমের ৫৫, মোসাদ্দেক হোসেনের ৪৭ ও লিটন দাসের ৩৭ রানের সুবাদে অলআউট হওয়ার আগে ২৭৬ রানের পুঁজি পেয়েছিল আবাহনী। পরে বোলারদের নৈপুণ্যে দারুণ এক জয়ও পেল তামিমের দল। আট ম্যাচে এটা আবাহনীর চতুর্থ জয়।

এই বিভাগের আরো সংবাদ