[bangla_day], [english_date], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]

সাগর বর্মন হত্যা মামলায় আদালতে ৪ শিশুর জবানবন্দী

প্রকাশঃ July 29, 2016 | সম্পাদনাঃ 30th July 2016

 

নারায়ণগঞ্জ::  নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় জোবেদা টেক্সটাইল ও স্পিনিং মিলে ১০ বছরের শিশু শ্রমিক সাগর বর্মণকে পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার তিন শিশু আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূল জবানবন্দী দিয়েছেন। এছাড়া ওই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীরও সাক্ষ্য জবানবন্দী রেকর্ড করা হয়েছে।

শুক্রবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইশতিয়াক আহমেদ এর আদালতে চার জবানবন্দী রেকর্ড করা হয়েছে। হত্যার দায় স্বীকার করা তিন শিশু হলো রাকিব (১২), সোহেল (১৩) ও আকাশ (১২)। তারা জোবেদা টেক্সটাইল ও স্পিনিং মিলের শ্রমিক। তারা সাগর বর্মণের সঙ্গেই কাজ করতো।

এছাড়া ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হাফিজুল ইসলামের (৯) সাক্ষ্য জবানবন্দী রেকর্ড করা হয়েছে। তার বাবার নাম দুলাল হোসেন।

রাকিবের (১২) বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার তাড়াইল এলাকার জাহাঙ্গীরপুর এলাকাতে। তার বাবার নাম রিটন। আকাশ (১২) একই জেলার করিমগঞ্জ থানার গুজাইদা নামাপাড়া এলাকার হক মিয়ার ছেলে। আর সোহেল (১৩) নরসিংদি জেলার কাজী কান্দি এলাকার আবদুল হান্নানের ছেলে। বৃহস্পতিবার আটকের পর তাদের তিনজনকে দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আনা হয়। পরে সেখান থেকে আবারও নেওয়া হয় থানাতেই।

নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক হাবিবুর রহমান জানান, আদালতে তিন শিশু হত্যাকা-ে নিজেদের দায় স্বীকার করেছেন। এছাড়া সাক্ষীর জবানবন্দীও রেকর্ড করা হয়েছে।

এর আগে জেলা পুলিশ সুপার ড. খন্দকার মহিদউদ্দিন জানান, তিন শিশু হত্যার সঙ্গে নিজেদের দায় স্বীকার করেছে। জিজ্ঞাসাবাদে ওই তিন শিশু তাদেরকে জানিয়েছে খেলা ও দুষ্টুমির ছলে বর্মণের মুখে ও পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে দেয় তারা। তবে হত্যার জন্য এ কাজটি তারা করেনি।

পুলিশ সুপার জানান, গত ২৪ জুলাই কারখানার ভেতরে দুপুরে খেলার ছলেই হঠাৎ করে তিন শিশু মিলে সাগরের মুখে ও পায়ুপথে কম্প্রেসার মেশিনের বাতাস ঢুকিয়ে ফেলে। ওই ঘটনায় ৯ বছরের এক শিশুকে আটক করা হয়েছে যিনি পুরো ঘটনার সাক্ষী।

এর আগে বুধবার মামলার এজাহারভুক্ত গ্রেপ্তারকৃত ২ আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। দুইজনের মধ্যে আজাহার ইমাম ওরফে সোহেল (৩৮) জোবেদা টেক্সটাইল ও স্পিনিং মিলের সিনিয়র উৎপাদক কর্মকর্তা। তিনি মামলার এজাহারভুক্ত আসামী। এছাড়া সোহাগ হোসেন হৃদয় (৩৫) লাইনম্যান হিসেবে কর্মরত ছিল। সোহেলকে সোমবার রাতে র‌্যাব-১১ ও হৃদয়কে মঙ্গলবার সকালে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করে।

উল্লেখ্য গত ২৪ জুলাই রোববার কারখানার ভেতরে ১০ বছরের সাগর বর্মণের পায়ুপথে হাওয়া ঢুকিয়ে হত্যার ঘটনায় নিহতের বাবা রতন বর্মণ বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখ সহ অজ্ঞাত আরো ৬জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। সোমবার পুলিশ এজাহারভুক্ত আসামী নাজমুল হুদাকে গ্রেপ্তার করে তাকে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়। শুনানী শেষে আদালত ৭ দিনের রিমা- মঞ্জুর করে। এছাড়া সাগর বর্মণ হত্যার ঘটনায় কারখানাটির চেয়ারম্যান ও এমডির বিরুদ্ধে শ্রম আদালতে মামলা দায়ের হয়েছে। মঙ্গলবার কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান সমূহের নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ের পরিদর্শক সামিউল আলম কুরশী বাদি হয়ে শ্রম আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। এতে শ্রম আইন লঙ্ঘন, নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র না দেয়াসহ নানা অভিযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিপূরণেরও আবেদন করা হয়েছে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ