[bangla_day], [english_date], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]

সফটওয়্যার খাতের উন্নয়নে ব্যর্থ বেসিস

প্রকাশঃ June 9, 2016 | সম্পাদনাঃ 9th June 2016

ঢাকা : দেশের সফটওয়্যার রপ্তানি আয় ২০১৮ সালের (পাঁচ বছরের) মধ্যে ১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর ঘোষণা দিয়েছিল সফটওয়্যার প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিস (বেসিস)। ঘোষণার আড়াই বছর পেরিয়ে গেলেও এরমধ্যে লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেক অর্জন করতে পারেনি সংগঠনটি। সবচেয়ে হতাশাজনক ব্যাপারটি হল, ধীরে ধীরে এ আয় কমছেই।

আর্থিক পরিমাণ হিসাব করলে এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি। অর্থাৎ অর্ধেক সময়ে বেসিসের অর্জন হওয়ার কথা ছিল সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি। কিন্তু বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হিসাবে এই খাতে অর্জন হয়েছে আড়াই হাজার কোটি টাকার মতো।

আগামী ২৫ জুন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ সফটওয়ার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসের (বেসিস) ২০১৬-১৯ মেয়াদের নির্বাচন। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ওয়াদা ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ কার্যক্রম সফল করতে বিভিন্ন খাতে গুরুত্ব ও অগ্রাধিকার দিয়েছে বেসিসকে। সফটওয়ার উৎপাদন ও রপ্তানিতে সরকারের বিশেষ গুরুত্ব ও প্রণোদনার কারণে ট্রেড বডি হিসেবে বিশেষ গুরুত্বের স্থান পেয়েছে বেসিস। সেসব কারণে এই নির্বাচনটিও গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতি বছরে বড় ধরনের প্রণোদনা গ্রহণ করেও গত কয়েক বছরে বেসিসের নেতৃত্বে বাংলাদেশের সফটওয়্যার খাতের প্রবৃদ্ধি ক্রমশ কমেছে। খোদ বেসিসের করা ২০১৫ সালের এক জরিপ দেখা যায়, ২০১০–১১ অর্থবছরের পর থেকে সফটওয়্যার খাতের প্রবৃদ্ধি ক্রমশ কমেছে। ২০১২ সাল থেকেই সফটওয়্যার রপ্তানিতে গতি ধীর হয়ে গেছে। এমনকি সবচেয়ে হতাশাজনক বছর ছিল ২০১৪–১৫ অর্থবছর।

এ ব্যাপারে বেসিসের বর্তমান সভাপতি শামীম আহসান বাংলামেইলকে বলেন, ‘আমাদের সফটওয়্যারখাতের প্রবৃদ্ধি নিয়ে আসলে অনেক তথ্য ঘাটতি রয়েছে। বিগত বছরগুলোতে সফটওয়্যার রপ্তানি করতে গিয়ে আমাদের সদস্যরা ব্যাংকের যেই সি-ফরম (প্রয়োজনীয় কাগজপত্র) জমা দেন, তখন সেখানে তারা বিস্তারিত না লেখায় বাৎসরিক হিসাবে অনেক কিছুই যুক্ত করা হয়নি। প্রকৃতপক্ষে ওই ফরমে সেবা রপ্তানির পাশাপাশি এটা যে সফটওয়্যার খাতেও যুক্ত হচ্ছে তা উল্লেখ করার প্রয়োজন ছিল।’

পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সফটওয়্যার এবং কম্পিউটার ও প্রযুক্তি বিষয়ক সেবা রপ্তানির আয়ে ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) রপ্তানি আয় এসেছে ১০ কোটি ৭০ লাখ তিন হাজার মার্কিন ডলার। টাকার অংকে যা ৮০০ কোটি টাকার বেশি। যার প্রবৃদ্ধির হার ৯ দশমিক ০৭ শতাংশ। ২০১৪-১৫ অর্থবছরের ১১ মাসে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ছয় দশমিক ২২ শতাংশ। এটি ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ছয় দশমিক ২২ শতাংশ বেশি। তখন প্রবৃদ্ধি ছয় শতাংশ হলেও লক্ষ্যমাত্রা থেকে এ খাতের আয় ছয় দশমিক ১২ শতাংশ পিছিয়ে ছিল। এ সময়ে আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয় ১৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার। ২০১২-১৩ শেষে আয় ছিল ১০ কোটি ১৬ লাখ ডলার।

এবিষয়ে জানতে চাইলে শামীম আহসান বাংলামেইলকে বলেন, ‘পরিসংখ্যান ব্যুরোর রিপোর্টে অনেক বিভ্রান্তি রয়েছে। এখানে অনেক তথ্যই উঠে আসেনি । আমরা নিজেরা একটি পরিসংখ্যান করেছি, সেখানে আরো অনেক বেশি অর্জন হয়েছে।’

পরে বেসিসের করা পরিসংখ্যান উল্লেখ করে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়, তথ্যপ্রযুক্তি খাত থেকে দেশের জিডিপিতে ১ শতাংশ অবদান রাখার ঘোষণার পেছনেও বিস্তর গবেষনা করা হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাত থেকে রপ্তানি আয় প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি কোম্পানিগুলো প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশ ব্যাংকের সি-ফর্মের জটিলতায় এটি সরকারি হিসেবে প্রায় ১৩২ মিলিয়ন ডলার, বাস্তবিক অর্থে এটি প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার) ও ফ্রিল্যান্স-আউটসোর্সিং পেশাজীবীরা প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার আয় করছে। এছাড়া দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের স্থানীয় বাজার প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার।

সবমিলে বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের মোট বাজার প্রায় ৯০০ মিলিয়ন ডলার, যা দেশের জিডিপির প্রায় ০.৫২ শতাংশ। প্রায় আড়াই বছরে আমরা এই অবস্থানে এসেছি। আমরা মনে করি, দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের ধারাবাহিকতা থাকলে, পাবলিক প্রোকিউরমেন্টে দেশি কোম্পানির জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হলে, আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিংয়ে নজর বাড়ালে এবং আন্তর্জাতিক মানের ভালো উদ্যোগ তৈরি হলে এই সময়ের মধ্যে জিডিপিতে ১ শতাংশ অবদান রাখা সম্ভব হবে।

১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠনটি ১৭ সদস্য নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল। বর্তমানে বেসিসের সদস্য সংখ্যা ১০৭৩। ২৫ জুন অনুষ্ঠিত হবে বেসিসের নির্বাচন। প্রযুক্তি খাতে উন্নয়নের জন্য এই নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। প্রযুক্তি খাতে সমস্যাগুলো সমাধান করে বেসিসের ভূমিকা হবে অগ্রগণ্য এমনটাই আশা করেন প্রযুক্তিবিদরা।

এই বিভাগের আরো সংবাদ