[bangla_day], [english_date], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]

সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার মূল্য ২০ হাজার টাকা!

প্রকাশঃ April 1, 2016 | সম্পাদনাঃ 1st April 2016

photo-1459528605ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্ধ ইউনিয়নের শিকারপুর গ্রামে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের বাড়িতে হামলা চালিয়ে তাদের মারধর, ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও জিনিসপত্র লুটপাট করা হয়েছে।

টগরবন্ধ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থী মুরাদ হোসেন পরাজিত হওয়ায় তাঁর লোকজন এই হামলা চালায়। এতে ছয় নারীসহ সাতজন আহত হয়েছে।

এই হামলার ঘটনায় আজ শুক্রবার বিকেলে দুই পক্ষকে নিয়ে সালিসে বসে উপজেলা প্রশাসন। সালিসে পরাজিত প্রার্থী মুরাদ হোসেনকে হামলায় আহতদের চিকিৎসার জন্য ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া ঘরবাড়িতে হামলার জন্য ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করে তা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়।

শিকারপুর গ্রামের বাসিন্দা ইউনিয়ন পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিকাশ কুমার বিশ্বাস জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে টিটা পানাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট গণনা চলছিল। এ সময় ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য প্রার্থী মো. মুরাদ হোসেন (তালা) অপর ইউপি সদস্য প্রার্থী মো. নুরু মিয়ার (টিউবওয়েল) চেয়ে পিছিয়ে পড়েন। এর ফলে ওই কেন্দ্রের নুরু মিয়ার পোলিং এজেন্ট তাপস বিশ্বাসকে মারপিট করেন মুরাদ হোসেনের কর্মীরা। সন্ধ্যায় ফলাফল প্রকাশ হলে দেখা যায় মুরাদ হোসেনকে পরাজিত করে নুরু মিয়া জয়ী হয়েছেন। এই কারণে মুরাদ হোসেনের ১০-১২ জন সমর্থক সন্ধ্যায় লাঠিসোটা নিয়ে শিকারপুর গ্রামে হিন্দুপল্লীতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর, মারধর ও লুটপাট করে।

বিকাশ কুমার বিশ্বাস বলেন, হামলাকারীরা ওই গ্রাম থেকে মূল্যবান মালামালের সঙ্গে তিনটি গরু লুট করে নিয়ে গেলেও রাতে অন্য লোকের মাধ্যমে ফেরত দেন।

হামলার সময় খোকন বিশ্বাস, কালিপদ ভাণ্ডার, রবিন বিশ্বাস, আনন্দ বালা, তাপস বিশ্বাস, শ্রীবাস বিশ্বাস ও সত্যরঞ্জন বিশ্বাসের ঘরবাড়ি ভাঙচুর করা হয়। হামলাকারীদের লাঠির আঘাতে মনুমতি বিশ্বাস (৪৫) ও মলিনা বিশ্বাস (৫০) নামের দুই নারী আহত হয়ে পাশের কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। আহত অন্যদের মধ্যে রেখা রানী বিশ্বাস (৪০), ভক্তি বিশ্বাস (৪০), শিবানী বিশ্বাস (৪৫), লক্ষ্মী রানী বিশ্বাস (৪০) ও সুরজিৎ বিশ্বাস (২৫) প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

হামলার ব্যাপারে ইউপি সদস্য প্রার্থী মো. মুরাদ হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল করিম বলেন, ইউপি নির্বাচনে পরাজিত হয়ে এক প্রার্থীর লোকজন এ হামলা চালায়। তিনি বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে এ ব্যাপারে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে থানায় কোনো অভিযোগ দেয়নি।

বিকেলে আলফাডাঙ্গার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আবুল খায়ের জানান, দুই পক্ষকে উপজেলায় ডাকা হয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে। নইলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাতে আলফাডাঙ্গা থানার ওসি জানান, দুই পক্ষকে নিয়ে বিকেলে সালিস করা হয়। এতে হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসা বাবদ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে ইউপি সদস্য প্রার্থী মুরাদ হোসেনকে। হামলা করার অপরাধে তাঁকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করে তা সরকারি কোষাগারে জমা করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে আলফাডাঙ্গা উপজেলার পাচুড়িয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার দক্ষিণ পাচুড়িয়া গ্রামের নৌকার সমর্থক জাফর মুন্সির ছেলে সাদ্দাম মুন্সিকে (৩০) রামদা দিয়ে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীর প্রার্থীর লোকজন কুপিয়ে জখম করেছে বলে জানা গেছে। আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

এ ব্যাপারে প্রত্যক্ষদর্শী ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলমগীর হোসেন বলেন, সাদ্দাম সকালে পাশের উত্তর চরনারানদিয়া গ্রামে তাঁর শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার পথে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী খালিদ মোশাররফ রঞ্জুর সমর্থক চরনারানদিয়া গ্রামের ফজলার ডাক্তার ও ছেলে সোহেলের নেতৃত্বে নৌকায় ভোট দেওয়ার অপরাধে তাঁকে কুপিয়ে জখম করে। সাদ্দামকে মারাত্মক আহত অবস্থায় বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীর প্রার্থী খালিদ মোশাররফ রঞ্জুর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে ফোন রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এই বিভাগের আরো সংবাদ