[bangla_day], [english_date], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]

‘ষড়যন্ত্রের শিকার’ দাবি আসলাম চৌধুরীর, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

প্রকাশঃ May 14, 2016 | সম্পাদনাঃ 14th May 2016
Aslam-Chy-4

(স্বাধীনতা৭১ডটকম) ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরী জানিয়েছেন, বৈঠকটি হয়েছিল ব্যক্তিগত সফরে। বৈঠকে শুধু কুশল বিনিময় হয়েছে। সরকার উৎখাতের কোনো ষড়যন্ত্র করা হয়নি। ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে তিনি ফাঁদে পা দিয়েছেন। ভিডিও বার্তার পাশাপাশি একটি দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাতৎকারে তিনি এই দাবি করেন।

এদিকে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে আসলাম চৌধুরীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা সংস্থা। নিষেধাজ্ঞা জারির পর দেশের প্রতিটি বিমানবন্দরে ও স্থলবন্দরগুলোতে সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে তারা। অভিযোগ প্রমাণিত হলে যেকোনো সময় গ্রেফতার হতে পারেন আসলাম।

প্রমাণ হাতে পাওয়ার পর বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীসহ সাতজনের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে বলে জানান এই চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা।গোয়েন্দারা জানান, সাতজনের মধ্যে দু’জন হলেন মোসাদের বাংলাদেশি এজেন্ট। এদের মধ্যে এজেন্ট শিপন কুমার বসুর বাড়ি খুলনায় আর বিবেক দেবের বাড়ি ভারতের কলকাতায়। সাতজনের মধ্যে জামায়াত ঘরানার চার নেতা ও চট্টগ্রামের এক সাংবাদিক রয়েছেন।

‘ঘটনা তদন্তে উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে’ উল্লেখ করে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারের বিরুদ্ধে চক্রান্তের কিছু তথ্য আমরা মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পেরেছি। এটাতে যাদের সম্পৃক্ততার কথা বলা হচ্ছে এই বিষয়ে আমরা অনুসন্ধান করছি এবং সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আমরা এটি তদন্ত করে দেখছি। তদন্তে যদি এটার সত্যতা পাওয়া যায় তাহলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

‘জেরুজালেম অনলাইন ডটকম’ পত্রিকায় চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি প্রকাশিত এক সংবাদে বলা হয়েছে, ‘ইসরাইলের সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল ডিপ্লোমেসি অ্যান্ড অ্যাডভোকেসির প্রধান মেন্দি এন সাফাদি সম্প্রতি ভারত সফর করেছেন। সেখানে বিভিন্ন পর্যায়ে বৈঠক করছেন তিনি।

এন সাফাদি বলেছেন, ‘শিগগিরই সবক্ষেত্রে বাংলাদেশের দরজা ইসরাইলিদের জন্য খুলে দেওয়া হবে। বাংলাদেশের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করছেন তারা। নতুন সরকার ইসরাইলের সঙ্গে পূর্ণ কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলবে।’ তবে ওই প্রতিবেদনে ব্যবহৃত গ্রুপ ছবিতে বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীকে দেখা যায়নি।

এদিকে এই সংবাদ প্রকাশের পর অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরী গা ঢাকা দিলেও তার ঘনিষ্ঠজনদের দিয়ে রেকর্ড করা এক ভিডিও বক্তব্যে তিনি মোসাদের এজেন্ট মেন্দি এন সাফাদির সাথে বৈঠক করার কথা স্বীকার করেছেন। তবে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের কথা তিনি অস্বীকার করেন।

ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘ওদের নিজস্ব বৈঠক ছিল, সরকার উৎখাতের বৈঠক নয়। দিল্লি সফরকালে ট্যুরিস্ট বাসে চলার সময় সিপন বাবুর সঙ্গে পরিচয় হয়। পরিচয়ের পরে আমরা লোটাস টেম্পলে তাদের সাথে একটি ছবিও তুলি। পরে ওদের নেতা মেন্দি এন সাফাদির সাথে বৈঠক হয়। এতে আমার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। আমি গেছি ব্যবসায়িক কাজে। আমি মোসাদ সম্পর্কে জানতাম না। এখন লেখালেখির পর ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থার সম্পর্কে জানি।’

এদিকে রাজধানীর উত্তরার এক অফিসে দৈনিক যুগান্তর-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে আসলাম চৌধুরী বলেন, ‘ব্যবসায়িক সফরে ৫ মার্চ আমি দিল্লিতে যাই এবং ১০ মার্চ দেশে ফিরে আসি। ওই সময় ট্যুরিস্ট বাসে লোটাস টেম্পলে যাওয়ার সময় বাংলাদেশের শিপন কুমার বসুর সঙ্গে পরিচয় হয়। শিপন সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে কাজ করেন জানতে পেরে তার সঙ্গে বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা ও নির্যাতনের বিষয়টি আলাপ করি। এসব আলাপচারিতায় তার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক হয়ে যায়। তিনি একদিন একটি অনুষ্ঠানে নিয়ে যান। সেখানে আমি দর্শক সারিতে বসা ছিলাম। তেল আবিব-দিল্লি সম্পর্ক নিয়ে অনুষ্ঠিত ওই সেমিনারের শেষে চা-চক্রের পরে গ্রুপ ছবি তোলা হয়। শিপন আমাকে দর্শক সারি থেকে স্টেজে নিয়ে যান। আমি তখনও জানি না মেন্দি এন সাফারি ইসরাইলের লিকুদ পার্টির নেতা। তবে এখন মনে হচ্ছে আমি ষড়যন্ত্রের শিকার। কারও ফাঁদে পা দিয়েছি।

আত্মগোপনে থাকা প্রসঙ্গে আসলাম চৌধুরী বলেন, ‘আমি আত্মগোপনে থাকলে আপনারা আমার সঙ্গে দেখা করলেন কিভাবে? দু’একদিন হয়ত আমার মোবাইল বন্ধ ছিল। কয়েকদিন আগে আমার একটি ছোট অস্ত্রোপচার হয়েছে। চিকিৎসকরা পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে বলেছেন। তাই মোবাইলের সুইচ অফ রেখেছি। শিগগিরই প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করব। দলের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রয়োজনে পুরো বিষয়টি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের চিন্তাভাবনা আছে।’

প্রসঙ্গত, এক সময় জামায়াত ঘরানার ব্যবসায়ী হিসেবেই চট্টগ্রামে পরিচিত ছিলেন আসলাম চৌধুরী। প্রথম দিকে জিয়া পরিষদ নামে একটি সংগঠন করলেও পরবর্তীতে তিনি বিএনপিতে যোগ দিয়ে উত্তর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও পরে আহবায়ক হন। সবশেষ ঘোষিত বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটিতে যুগ্ম মহাসচিব করা হয় আসলাম চৌধুরীকে।

সম্প্রতি সরকারি দলের মন্ত্রী-নেতারা অভিযোগ করেন, বিএনপি দেশ ও মুসলিম বিশ্বের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদকে ব্যবহার করে বিএনপি ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করছে। গত ১০ মে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম অভিযোগ করেন, ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদকে ব্যবহার করে বিএনপি সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র করছে। একটা কেন, আমাদের কাছে এ ধরনের অনেক তথ্য-প্রমাণ আছে। যেগুলো জোড়া দিলে সরকার কালই বিএনপিকে নিষিদ্ধ করতে পারে।

তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘সম্প্রতি ইসরায়েল ও দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে বিএনপিকে জড়িয়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় কিছু খবর বেরিয়েছে। বিএনপির সঙ্গে ইসরায়েলের কোনো ধরনের সম্পর্কে নেই। বিএনপি ফিলিস্তিনের পক্ষে আছে, থাকবে।’

সরকারি দলের মন্ত্রী-নেতাদের অভিযোগ প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘কোনো ধরনের ষড়যন্ত্রের প্রশ্নই আসে না। বিএনপি একটি উদারপন্থী রাজনৈতিক দল। বিএনপি বিশ্বাস করে, নির্বাচনের মাধ্যমেই সরকার পরিবর্তন সম্ভব।’

এই বিভাগের আরো সংবাদ