[bangla_day], [english_date], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের প্রতি নজরদারি বাড়াতে হবে।

প্রকাশঃ July 20, 2016 | সম্পাদনাঃ 23rd July 2016

Editorial20160419044402

দেশে ভয়াবহ দুটি জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় জড়িত হিসেবে যাদের পরিচয় প্রকাশ পেয়েছে তাদের মধ্যে রাজধানীর নামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীও রয়েছেন । সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত তরুণরা এভাবে জঙ্গিবাদের দিকে ঝুঁকে পড়ায় সকল মহলেই উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

১ জুলাই রাতে গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলায় নিহত হয় তিন বাংলাদেশি ও ১৭ বিদেশি। অভিযানে নিহত জঙ্গিদের ছবি প্রকাশের পর জানা যায়, এদের মধ্যে তিনজন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কলাস্টিকার ছাত্র। প্রথম ধাক্কা সামাল না দিতেই কয়েকদিন পর সাইট ইন্টেলিজেন্সের সুবাদে সিরিয়ার রাকা থেকে ধারণ করা একটি ভিডিও প্রকাশ পায়। এতে তিন বাংলাদেশি তরুণ দেশে আইএসের হয়ে আরো হুমকি চালানোর ঘোষণা দেয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচয় প্রকাশ পেলে জানা যায়, এদের মধ্যে একজন ছিলেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। একজন পেশায় ছিলেন দন্ত চিকিৎসক।

তৃতীয় ধাক্কাটি এলো ঈদের দিন কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ঈদের জামাতের মাঠের কাছে হামলার পর। নিহত হামলাকারীদের মধ্যে একজন ছিলেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। আমরা আরেকটু পেছনে ফিরলে দেখতে পাব, গত মাসে মাদারীপুরে হিন্দু ধর্মাবলম্বী এক শিক্ষকের ওপর হামলার সময় ধরা পড়েন ফাহিম নামে এক তরুণ। পরে জানা যায়, তিনি রাজধানীর উত্তরার একটি কলেজের ছাত্র। তারও আগে ২০১৩ সালে ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দারের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত হিসেবে নাম আসে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর।

হলি আর্টিজানে ভয়াবহ হামলার আগে জঙ্গিবাদের কথা উঠলেই অভিযোগের তীর উঠতো মাদ্রাসার দিকে। বলা হতো মাদ্রাসাগুলো জঙ্গিবাদের আখড়া। অথচ ২০১৩ সাল থেকে নিয়ে এ পর্যন্ত বেশ কয়েকটি বড় বড় জঙ্গি হামলায় বার বার উঠে এসেছে নামীদামী বেসরকারি স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নাম। জঙ্গিবাদ যে তার সর্বগ্রাসী থাবা সমাজের প্রতিটি স্তরে বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছে এসব হামলার ঘটনা তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। অথচ আজ থেকে আড়াই বছর আগে যখন বিষয়টি প্রথম ধরা পড়ে ওই সময় সরকার তথা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব ব্যাপারে কোনো উদ্যোগই নেওয়া হয়নি। এমনকি যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির নাম বারবার এসেছে, সেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির কর্তপক্ষ যে আদৌ কোনো উদ্যোগ নেয়নি তা দৃশ্যমান হচ্ছে।

ইতিমধ্যে খবর বেরিয়েছে, সারা দেশ থেকে অর্ধশতাধিক তরুণ নিখোঁজ হওয়ার প্রাথমিক তথ্য পেয়েছে পুলিশ। এসব তরুণের নিখোঁজ থাকার বিষয়ে দেশের বিভিন্ন থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) হয়েছে। গুলশানে ও শোলাকিয়ায় হামলাকারীরাও ঘটনার কয়েক  মাস আগে বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছিল। সুতরাং এটি অনুমেয়, যে অর্ধশতাধিক তরুণের নিখোঁজ সংবাদ আমরা পাচ্ছি এরা হয়তো কোনো জঙ্গি সংগঠনে যোগ দিয়েছে।

ইতিমধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১০ দিন বা তার বেশি অনুপস্থিত থাকা শিক্ষার্থীদের নাম, পরিচয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। আমরা সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। তবে শিক্ষার্থীরা যেন আর জঙ্গিবাদীদের তৎপরতার শিকার না হন, সে জন্য সরকারকে ব্যাপক উদ্যোগ নিতে হবে। এর জন্য স্কুল-কলেজগুলোতে সরকারের নজরদারি বাড়াতে হবে। শিক্ষক এবং অভিভাবকরা যাতে জঙ্গিবাদের কুফল ও ভয়াবহতা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতন করে তোলেন তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে পাঠক্রমে জঙ্গিবাদবিরোধী রচনা অর্ন্তভূক্ত করতে হবে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ