[bangla_day], [english_date], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]

রানা প্লাজা ধসের৭৭ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে বাকি ২৩ শতাংশ উদ্যোগের গতি স্থবির।(টিআইবি)

প্রকাশঃ April 22, 2016 | সম্পাদনাঃ 22nd April 2016

7d2d5762cd57e1caa98fce0a5c5de1af-_AZI7729রানা প্লাজা ধসের পরে সরকারসহ বিভিন্ন পক্ষ থেকে নেওয়া উদ্যোগের ৭৭ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে অথবা অগ্রগতি সন্তোষজনক। অন্যদিকে বাকি ২৩ শতাংশ উদ্যোগের গতি কম অথবা স্থবির। দুর্ঘটনার পর সরকারসহ বিভিন্ন পক্ষ ১০২টি উদ্যোগ নিয়েছিল।

দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি)ক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, অনেক কিছুই হয়েছে কাগজে-কলমে, নীতি, বিধিমালা ও আইনে। সেগুলোর কার্যকর প্রয়োগ ও অব্যাহত রাখা অপরিহার্য। যেসব উদ্যোগের অগ্রগতি হয়নি, সেগুলোতে নজর দেওয়া দরকার।

রানা প্লাজা ধসের তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে  বৃহস্পতিবার তৈরি পোশাক খাতে ‘সুশাসন: অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক ওই গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে টিআইবি। এ উপলক্ষে ধানমন্ডিতে সংস্থাটির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, যেসব বিষয়ে অগ্রগতি হয়নি, তার মধ্যে বড় একটি বিষয় হলো রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিচার। যত দিন পর্যন্ত দায়ী ব্যক্তিদের বিচার না হবে, তত দিন পর্যন্ত অন্যান্য অগ্রগতি অর্থহীন। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে না পারি যে অপরাধ করলে শাস্তি পেতে হয়, তাহলে সে অপরাধ হতেই থাকবে।’

টিআইবি উল্লেখ করেছে, রানা প্লাজা মামলায় ৪১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট আদালত গ্রহণ করেছেন। পরপর দুবার সাক্ষী হাজিরে ব্যর্থতায় মামলা দীর্ঘসূত্রিতায় আটকে পড়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা চারটি মামলার একটিতে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। পোশাকখাতের অপর দুর্ঘটনা তাজরীন ফ্যাশনসের মামলায়ও তিন বছর পর সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়েছে।

রানা প্লাজা ধসের পর তৈরি পোশাক খাতে ৬৩টি বিষয়ে সুশাসনের ঘাটতি চিহ্নিত করে টিআইবি। তা থেকে উত্তরণে বিভিন্ন অংশীজন ১০২টি উদ্যোগ নেয়। ওই সব উদ্যোগের অগ্রগতি নিয়ে প্রতিবছর পর্যালোচনা করছে সংস্থাটি। সংবাদ সম্মেলনে সর্বশেষ প্রতিবেদনটি তুলে ধরেন সংস্থাটির গবেষণা ও নীতি বিভাগের কর্মসূচি ব্যবস্থাপক মনজুর ই খোদা। এ সময় সংস্থাটির উপনির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক সুমাইয়া খায়ের, গবেষণা ও নীতি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল হাসান ও সহকারী কর্মসূচি ব্যবস্থাপক নাজমুল হুদা উপস্থিত ছিলেন।

টিআইবির প্রতিবেদনে ধীরগতি অথবা স্থবির হয়ে থাকা উদ্যোগগুলোর মধ্যে আছে অগ্নি প্রতিরোধ ও নির্বাপণ বিধি কার্যকর করা, ঠিকা কারখানার নীতিমালা তৈরি, রাজউকের সক্ষমতা বৃদ্ধি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বিরোধ নিষ্পত্তিতে সেল গঠন, পোশাক কারখানা-অধ্যুষিত এলাকায় ফায়ার স্টেশন স্থাপন, দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয়ভাবে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণ, ক্রেতাদের পণ্যের দাম বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি, শিল্প পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি ইত্যাদি।

প্রতিবেদনে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জও চিহ্নিত করা হয়। টিআইবি বলেছে, শ্রম আইনের বিভিন্ন ধারার অপব্যবহারের মাধ্যমে শ্রমিকদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। শ্রম পরিদপ্তরের কোনো কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মালিকদের সঙ্গে যোগসাজশে ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধনের আগে শ্রমিকদের পরিচয় জানিয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

টিআইবি পোশাক খাতের জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় গঠন, বিজিএমইএ বা বিকেএমইএর সদস্য তালিকার বাইরে থাকা কারখানাগুলোর মান নিশ্চিতে উদ্যোগ নেওয়া, যত দ্রুত সম্ভব শ্রমিক তথ্যভান্ডার তৈরি, কারখানা সংস্কার বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুত ঋণ সহজ সুদে কারখানার মালিকদের দেওয়ার ব্যবস্থা করাসহ বেশ কিছু সুপারিশ করেছে প্রতিবেদনে।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘পোশাক খাতের নিরাপত্তার উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। অন্য কোনো দেশে তিন বছরে এত বড় খাতে এত অগ্রগতি হয়েছে কি না, তা দেখার বিষয়। আমি মনে করি, এটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার দাবিদার।’ তিনি বলেন, যেসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তা চূড়ান্ত পর্যায়ে নিতে হবে এবং ধরে রাখতে হবে। শুধু নীতি বা আইনি কাঠামো যথেষ্ট নয়, এগুলোর প্রয়োগও জরুরি।

এই বিভাগের আরো সংবাদ