[bangla_day], [english_date], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]

যেভাবে যৌন নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা করবেন আপনার সন্তানকে

প্রকাশঃ April 26, 2016 | সম্পাদনাঃ 26th April 2016

15e75f489a12dbe5f361a698dc76a56c

অনলাইন ডেস্ক : প্রতিদিন বিকৃত যৌন নির্যাতনে হারিয়ে যাচ্ছে হাজারো সুন্দর শৈশব। অনেকক্ষেত্রেই শিশুরা বুঝে উঠতে পারে না তাদের উপরে হওয়া অমানবিক নির্যাতনের সেই সব অভিজ্ঞতার কথা ৷ তাই শিশুদের প্রতি যৌনাসক্ত, বিকৃত মানুষগুলো থেকে যাচ্ছে লোকচক্ষুর আড়ালে ৷

সমাজবিদরা বলেন, নাবালিকা বা শিশুর ওপর যৌন নিপীড়নের ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটছে পরিবারের মধ্যে, পরিবারেরই কোনো মানসিক বিকারগ্রস্ত সদস্যের হাতে ৷ তাই সে সব ঘটনা পুলিশের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। এবং হচ্ছে না কোনো বিচার।

অথচ অভিভাবকরা একটু সতর্ক হলেই এসব বিষয় এড়িয়ে নিজেকে এবং প্রিয়জনকে অনাকাংক্ষিত বিপদ থেকে রক্ষা করা সম্ভব। নিচে কিছু পদক্ষেপের তালিকা দেওয়া হলো যেগুলো মেনে চললেই আপনার শিশুকে যৌন হয়রানির হাত থেকে রক্ষা করতে পারবেন।

১. আপনার শিশুকে কারো কোলে বসতে দিবেন না।

২. সন্তানের বয়স দু’বছরের বেশী হলেই তার সামনে আপনি আর কাপড়চোপড় পাল্টাবেন না।

৩. প্রাপ্ত বয়স্ক কেউ আপনার শিশুকে উদ্দেশ্য করে বলছে: ‘আমার বৌ’, ‘আমার বর’- এটা অ্যালাউ করবেন না।

৪. আপনার শিশু যখন বলছে সে খেলতে যাচ্ছে, কোন ধরণের খেলা সে খেলছে সেদিকে লক্ষ্য রাখুন, উঠতি বয়সি বাচ্চাদের মধ্যে অ্যাবিউজিং প্রবণতা বেশী পাওয়া যায়।

৫. স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছে না এমন কারো সাথে কোথাও যেতে আপনার শিশুকে জোরাজুরি করবেন না। পাশাপাশি লক্ষ্য রাখুন, আপনার শিশু বিশেষ কোন প্রাপ্ত বয়স্কের ভক্ত হয়ে উঠেছে কিনা।

৬. দারুণ প্রাণোচ্ছল কোন শিশু হঠাৎ নির্জীব হয়ে গেলে, তাকে প্রশ্ন করুণ। তার মনের অবস্থাটা পড়তে চেষ্টা করুণ।

৭. বয়ঃসন্ধি পেরোচ্ছে এমন বাচ্চাকে যৌনমূল্যবোধ সম্পর্কে শিক্ষা দিন। আপনি যদি এ কাজ না করেন, তবে সমাজ তাকে ভুলটা শিখিয়ে দেবে।

৮. কোন ছবি, কার্টুন ইত্যাদি বাচ্চাদের জন্য আনলে আগে তা নিজে দেখুন। কোন বই সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে তবেই তা সন্তানের হাতে দিন।

৯. আপনি নিশ্চিত হন যে, আপনি প্যারেন্টাল কন্ট্রোল অপশন অ্যাক্টিভেট করে রেখেছেন কেবল নেটওয়ার্কে, বিশেষ করে সেই সমস্ত নেটওয়ার্কে যেখানে আপনার শিশু প্রায়শই ভিজিট করে।

১০. তিন বছর বয়স হয়েছে এমন সন্তানকে তাদের ব্যক্তিগত গোপন স্থানসমূহ কিভাবে পরিস্কারপরিচ্ছন্ন রাখতে হয় তা শেখান। সতর্ক করে দিন যেন সেসব এলাকা কেউ স্পর্শ করতে না পারে- নিষিদ্ধদের মধ্যে আপনিও আছেন (মনে রাখবেন চ্যারিটি বিগিনস অ্যাট হোম এ্যান্ড উইথ ইউ)।

১১. কালো তালিকাভুক্ত করুণ সেই সব বই, গান, মুভি, পরিবার বা ব্যক্তিকে- আপনি মনে করেন যে বা যা আপনার শিশুর মনের সৌন্দর্য নষ্ট করতে পারে।

১২. আপনার শিশুকে ভিড়ের বাইরে গিয়ে দাঁড়ানোর মূল্যবোধ শেখান।

১৩. আপনার শিশু যদি কারো সম্পর্কে অভিযোগ করে তবে দয়া করে বিষয়টি নিয়ে মুখ বুজে থাকবেন না।

একটা সুন্দর শৈশক হলো মানুষের সুন্দর ব্যক্তিত্ব ও মূল্যবোধ গড়ে ওঠার ভিত্তি স্বরূপ। আর সেই ভিত্তি গড়ে তোলার মূল দায়িত্ব সচেতন বাবা-মায়ের। অতএব, আপনার সন্তানের বিষয়ে উপরোক্ত ব্যাপারগুলো খেয়াল রাখুন। তাকে সুন্দর একটি শৈশবের নিশ্চয়তা দিন।

এই বিভাগের আরো সংবাদ