[bangla_day], [english_date], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]

বন্যাদূর্গত মানুষের পাশে কেউ না থাকলেও সরকার আছে এবং থাকবে।

প্রকাশঃ July 13, 2016 | সম্পাদনাঃ 13th July 2016
Feature Image 

কুড়িগ্রাম: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রাপ্ত মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম বলেছেন, কুড়িগ্রামের বন্যাদূর্গত মানুষের পাশে কেউ না থাকলেও সরকার আছে এবং থাকবে। পর্যাপ্ত ত্রাণ মজু রয়েছে। কোন মানুষ না খেয়ে মরবে না।

 

বুধবার দুপুরে কুড়িগ্রাম জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসন সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক খান মো. নুরুল আমিনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব শাহ কামাল, মহাপরিচালক রিয়াজ আহম্মেদ, যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ মোহসীন, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আমিনুল ইসলাম মঞ্জু মণ্ডল, সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি মো. জাফর আলী, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তবারক উল্লাহ্ প্রমুখ।

মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে তিনি কুড়িগ্রামসহ বন্যা দূর্গত ও প্রাকৃতিক দুূর্যোগ প্রবণ ২১টি জেলা পর্যায়ক্রমে সফর করছেন পূর্ব প্রস্তুতি নেয়ার জন্য। যাতে যে কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ হানা দেয়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যে সরকারি সহায়তা দূর্গত মানুষের হাতে পৌঁছানো যায়।

কুড়িগ্রাম অত্যন্ত ঝুঁকি পূর্ণ জেলা কারণ ভারত থেকে অধিকাংশ পানি এ জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত নদী দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। মানুষের দুর্ভোগ কমাতে এবং ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে সরকারের পক্ষ থেকে তিন ধরণের ব্যবস্থা থাকবে। বন্যার আগে, বন্যার সময় এবং বন্যা পরবর্তী ব্যবস্থা মাথায় রেখে সরকার কাজ করছে।

জেলা প্রশাসক খান মো. নুরুল আমিন প্রধান অতিথির কাছে বন্যা মোকাবিলায় কুড়িগ্রাম জেলার জন্য চার মাসের প্রস্তুতির চাহিদার কথা তুলে ধরেন। এর মধ্যে খয়রাতি সহায়তার জন্য ১ হাজার মেট্রিক টন চাল, খয়রাতি সহায়তার জন্য নগত ২৫ লাখ টাকা, ১ লাখ ২৩ হাজার ৫৯৪ পরিবারকে ভিজিএফ কার্ডের মাধ্যমে ২০ কেজি করে চাল সরবরাহ বাবদ (চার মাসে) ৯ হাজার ৮৮৭ দশমিক ৫২০ মেট্রিক টন চাল, নদী ভাঙ্গনের শিকার মানুষের জন্য দেড় হাজার বান্ডিল ডেউটিন এবং প্রতি বান্ডিল টিনের বিপরীতে ৩ হাজার টাকা হিসাবে ৪৫ লাখ টাকা সহায়তা প্রদানের দাবি জানান। এছাড়া দুর্গত এলাকায় ত্রাণ তৎপরতা ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য স্পিড বোট সরবরাহের দাবি জানানো হয়।

প্রধান অতিথি মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন।

এর আগে সকাল সোয়া ১১টায় মন্ত্রী কুড়িগ্রাম সার্কিট হাউজে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আমিনুল ইসলাম মঞ্জু মণ্ডলের সভাপতিত্বে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময় করেন। এসময় মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া দলীয় নেতাকর্মীদের বন্যার্তদের পাশে থাকার আহবান জানান। একই সঙ্গে জঙ্গি ও সন্ত্রাস-নৈরাজ্য দমনে জনগণকে সচেতন করে তুলতে অগ্রণী ভুমিকা রাখার পরামর্শ দেন।

অনিবার্য কারণ বশত: মন্ত্রী চিলমারী উপজেলায় বন্যা দুর্গত এলাকা পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম কর্মসূচি স্তগিত করেন। দুপুরে কুড়িগ্রাম সার্কিট হাউজে মধ্যাহ্ন ভোজ শেষে তিনি সড়ক পথে গাইবান্ধার উদ্দেশ্যে রওনা করেন। মঙ্গলবার তিনি সিরাজগঞ্জ ও বগুড়ায় বন্যা দুর্গত এলাকা পরিদর্শন ও দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন। রংপুরে রাত্রীযাপন শেষে বুধবার সকাল ১১টায় কুড়িগ্রাম এসে পৌঁছেন।

(স্বাধীনতা৭১/এআর)

এই বিভাগের আরো সংবাদ