[bangla_day], [english_date], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]

মথুরায় স্বাধীন রাষ্ট্রের ঘোষণা দিয়েছিলেন যাদব

প্রকাশঃ June 4, 2016 | সম্পাদনাঃ 4th June 2016

ঢাকা: নিজেকে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর অনুগামী দাবি করে ভারতের উত্তর প্রদেশের মথুরার জওহর বাগে স্বাধীন রাষ্ট্রের ঘোষণা দিয়েছিলেন রামবৃক্ষ যাদব। গতকাল মথুরায় পুলিশের উচ্ছেদ অভিযানে ২৪ জন নিহতের পর ওই অঞ্চল সম্পর্কে এমনই অনেক অজানা তথ্য সামনে আসছে।আজাদ হিন্দ ফৌজ নামে নিজস্ব সেনাবাহিনীও তৈরি করেছিলেন যাদব।

শুক্রবারের অভিযানে দুজন পুলিশ কর্মকর্তাসহ নিহত ২৪ জন। তবে প্রায় হাজার খানেক অনুগামী সহ যাদব এখনো পলাতক বলে জানিয়েছে পুলিশ।

উত্তরপ্রদেশের পূর্বাঞ্চলে গাজিপুরে রামবৃক্ষ যাদবের নিজ বাড়ি।সেখানে নানা রকম অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে এলাকাছাড়া হন। মথুরায় গিয়ে দুধের ব্যবসা শুরু করেন। কিন্তু অল্প দিনের মধ্যেই ব্যবসা লাটে ওঠে। তখন রামবৃক্ষ সপরিবার আশ্রয় নেন স্বঘোষিত ধর্মগুরু তুলসীদাস যাদব ওরফে জয় গুরুদেবজির আশ্রমে। দ্রুত তুলসীদাসের প্রিয়পাত্র হয়ে উঠেছিলেন তিনি। কিন্তু ২০১০ সালে রামবৃক্ষের উপর অসন্তুষ্ট হয়ে তাকে আশ্রম থেকে বের করে দেন তুলসীদাস। পরে অবশ্য আবার ফিরিয়েও নেন।

তুলসীদাস যাদবের মৃত্যুর পর ঘটনা অন্য দিকে মোড় নেয়। তুলসীদাস যাদব নিজেকে নেতাজির অবতার বলে দাবি করতেন। তার মৃত্যুর পর রামবৃক্ষের অনুগামীরা বলতে শুরু করেন, জয় গুরুদেবজির আত্মা রামবৃক্ষ যাদবের মধ্যে ঢুকে পড়েছে। তাই আশ্রমের প্রধান হবেন রামবৃক্ষ। অর্থাৎ রামবৃক্ষই এখন নেতাজির অবতার। কিন্তু রামবৃক্ষের বিরোধীর সংখ্যাও আশ্রমে কম ছিল না। তারা রামবৃক্ষের উদ্দেশ্য আঁচ করে আশ্রম থেকে তাকে বের করে দেন। এর পরই স্বাধীন ভারত বৈদিক সত্যাগ্রহ নামে সংগঠন তৈরি করেন রামবৃক্ষ যাদব।

সংগঠনের নাম নিয়ে অবশ্য মতান্তর রয়েছে। কখনও রামবৃক্ষ বলতেন তার সংগঠনের নাম স্বাধীন ভারত বৈদিক সত্যাগ্রহ, কখনও বলতেন সংগঠনের নাম স্বাধীন ভারত সুভাষ সেনা, কখনও বলতেন ভারতীয় সুভাষ সেনা। নিজেকে সুভাষচন্দ্র বসুর অনুগামী বলে দাবি করতেন এবং বলতেন নেতাজির অসমাপ্ত কাজ তিনিই শেষ করবেন।

সংগঠনের নাম বা কার্যকলাপ যাই হোক, রামবৃক্ষ যাদবের প্রভাব ক্রমশ বাড়ছিল। কারণ সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা দীর্ঘ দিনের। আর যে সময় আশ্রম থেকে বহিষ্কৃত হয়ে তিনি নিজের সংগঠন তৈরি করেছিলেন, তখনই উত্তরপ্রদেশে ক্ষমতায় আসে মুলায়ম সিং যাদবের সমাজবাদী পার্টি। মুলায়মের ভাই তথা রাজ্যের পূর্ত মন্ত্রী শিবপাল সিং যাদবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুবাদে মথুরায় বাড়তে থাকে রামবৃক্ষের প্রতিপত্তি। ২০১৪ সালের ১ জানুয়ারি রামবৃক্ষ যাদব অবস্থান ধর্মঘটের নাম করে ৩০০ একর জুড়ে ছড়িয়ে থাকা জওহর বাগ পার্কে ঢুকেছিলেন। দুই দিনের জন্য অবস্থান ধর্মঘটের অনুমতি নিয়ে পার্কে ঢুকে গত আড়াই বছর ধরে ৩০০ একরের ওই বিশাল এলাকা জবরদখল করে রেখেছিলেন রামবৃক্ষ যাদবের অনুগামীরা।

জানা গিয়েছে, রামবৃক্ষ যাদব ৩০০ একরের পার্ককে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। তাঁবু এবং অস্থায়ী বাসস্থান বানিয়ে পার্কের মধ্যেই নিজের সব অনুগামীর থাকার ব্যবস্থা করেছিলেন। স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য প্রশাসন এবং সেনাবাহিনীর ব্যবস্থাও করেছিলেন রামবৃক্ষ। সেনাবাহিনীর নাম দিয়েছিলেন আজাদ হিন্দ ফৌজ। সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ করেছিলেন চন্দন বসু নামে বাঙালিকে।

জওহর পার্কের ‘স্বাধীন রাষ্ট্রে’ক্রমশ বাড়ছিল জনসংখ্যা। উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে, এমনকী ভিন্নরাজ্য থেকেও লোকজন জোগাড় করে অনুগামীর সংখ্যা বাড়াচ্ছিলেন রামবৃক্ষ। নতুন ‘নাগরিক’দের জন্য দ্রুত তৈরি হচ্ছিল তাঁবু বা বাসস্থান। আজাদ হিন্দ ফৌজের জন্য বদাউন থেকে আমদানি করা হচ্ছিল প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র এবং গোলা-বারুদ।

প্রশাসনের কাছে যে এ সব খবর ছিল না তা নয়। গোয়েন্দা রিপোর্টে জওহর পার্কের পরিস্থিতি  নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল। পুলিশ-প্রশাসন জওহর পার্কে অভিযান চালাতে গিয়ে এক বার বড়সড় হামলার মুখেও পড়েছিল।

এই বিভাগের আরো সংবাদ