[bangla_day], [english_date], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]

সনাতন ধর্মের প্রসিদ্ধ তীর্থস্থান”বৃন্দাবন“

প্রকাশঃ August 7, 2016 | সম্পাদনাঃ 7th August 2016

স্বাধীনতা৭১ডেস্ক: ভারতের উত্তর প্রদেশের অন্তর্গত মথুরা জেলায় অবস্থিত একটি প্রসিদ্ধ তীর্থস্থান এবং স্থানটি খুবই প্রাচীন।

পঞ্চপাণ্ডব (যুধিষ্ঠির, ভীম, অর্জুন, নকুল ও সহদেব) মহাপ্রস্থান করার পর শ্রীকৃষ্ণের প্রপৌত্র বজ্রনাভ মথুরার রাজসিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন। একদিন বজ্রনাভের মা রোচনা দেবী তাকে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের একটি মূর্তি তৈরী করার জন্য আদেশ দেন।

মূর্তি প্রস্তুত হলে রোচনা দেবী বলেন, “মুখ ছাড়া এ মূর্তি শ্রীকৃষ্ণের মতো হয় নাই”। দ্বিতীয় মূর্তি প্রস্তুত হলো বটে কিন্তু তাতে কেবল বক্ষঃস্থল ভিন্ন শ্রীকৃষ্ণের আর কোন অঙ্গের মিল দেখা যায় নাই। তৃতীয় মূর্তিতে দুই চরণ ছাড়া শ্রীকৃষ্ণের কোন মিল খুঁজে পাওয়া যায় নাই।

বজ্রনাভ চতুর্থ মুর্তি তৈরীতে উদ্যত হইলে জননী বলেন, “তার আর দরকার নেই। এ তিন মূর্তিরই তুমি প্রতিষ্ঠা কর”।মায়ের আদেশে বজ্রনাভ গোবিন্দ, গোপীনাথ ও মদনগোপাল নামকরণ করে ব্রজমণ্ডলের বিভিন্ন স্থানে স্থাপন করেন এবং অন্যান্য স্থানে কৃষ্ণলীলার স্মরণ চিহ্ন হিসেবে প্রকৃত স্থানেই গ্রাম, কুণ্ড বা কুপ প্রতিষ্ঠা করেন।

Radha kund
খ্রীষ্টিয় একাদশ শতাব্দীতে গজনীর মাহমুদ মথুরা ও মহাবন আক্রমণ ও ধ্বংস করে তীর্থের গৌরব একেবারে নষ্ট করে ফেলেন। বৃন্দাবন প্রকৃত অর্থেই বনে পরিণত হয়ে যায়।কুতবুদ্দিনের সময়ে মথুরামণ্ডল দিল্লী রাজ্যের অধিভুক্ত হয়।

সম্রাট আকবরের রাজত্বকালে বৃন্দাবনের অদৃষ্ট সুপ্রসন্ন হয়। এ সময়ে চৈতন্যদেবের আদেশে সনাতন, রূপ প্রভৃতি গৌড়ীয় বৈষ্ণবগণ বৃন্দাবনে এসে বাস করেন এবং হারানো তীর্থ গৌরব পুণরুদ্ধারে যত্নবান হন।

পুরাতন মন্দির তিনটি ব্যবহার উপযোগী না দেখে চব্বিশ পরগণা জেলায় অবস্থিত বহড়ু গ্রামের জমিদার দেওয়ান নন্দকুমার বসু ১৮২১ সালে বহু ব্যয় করে তিনটি মন্দির প্রস্তুত করেন।

পরবর্তীকালে অন্যান্য যে সকল বিগ্রহগুলোর জন্য মন্দিরগুলো প্রতিষ্ঠা হয়েছে তা নিম্নরূপঃ- শেঠের মন্দির; সাহাজীর মন্দির; ব্রহ্মচারীর মন্দির; লালাবাবুর মন্দির অন্যতম।এছাড়াও, অনেক মন্দির ভক্ত বৈষ্ণবদের দ্বারা নির্মিত হয়েছে।

ঝুলনযাত্রাই বৃন্দাবনের সর্বপ্রধান পর্ব। তার পরেই অন্নকূট যাত্রা। শেষোক্ত পর্ব দীপান্বিতা অমাবস্যার পরদিনে সম্পন্ন হয়।
ইংরেজ সরকার কলকাতার রাজা স্যার রাধাকান্ত দেব বাহাদুর যখন বৃন্দাবন বাস করেন, সে সময়ে তিনি ইংরেজ সরকারকে আবেদন করে এ আদেশ প্রচার করেছিলেন যে, ইংরেজরা বৃন্দাবনের মধ্যে শিকারের উদ্দেশ্যে পশু বা পাখী বধ করতে পারবে না।

ভগবান কৃষ্ণের “বৃন্দাবনং পরিত্যজ্য পাদমেকং ন গচ্ছতি” – এ উক্তির সারমর্ম হৃদয়ে উপলদ্ধি করে বৈষ্ণবগণ এ স্থানকে সর্বপ্রধান তীর্থ ও বাঞ্ছনীয় বাসস্থান হিসেবে পরিগণনা করেন

বৃন্দাবনে অসংখ্য মন্দির আছে ও ভগবান শ্রীকৃষ্ণের অনেক ঐতিহাসিক চিহ্ন আছে

এই বিভাগের আরো সংবাদ