[bangla_day], [english_date], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]

বিদ্যুতের দাম বাড়ায় খেটে খাওয়া মানুষের জীবনে নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা বিশিষ্টজনদের

প্রকাশঃ November 24, 2017 | সম্পাদনাঃ 24th November 2017

স্বাধীনতা ৭১ ডেস্ক : আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের দুই মেয়াদের শাসন আমলে ২০১০ সাল থেকে ২০১৭ সালের ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে আট বার। সাধারণ গ্রাহকপর্যায়ে এবার বিদ্যুতের দাম বেড়েছে গড়ে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ; যা ইউনিট প্রতি ৩৫ পয়সা। সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, ডিসেম্বর থেকেই কার্যকর করা হবে বিদ্যুতের এই নতুন হার। এর ফলে খেটে খাওয়া মানুষের জীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশিষ্টজনেরা। তাদের মতে, বছরের শেষের দিকে এসে সরকারের এমন সিদ্ধান্ত কার্যকরে জনজীবনে বিপর্যয় ডেকে আনবে। কারণ এই মূল্যবৃদ্ধির বিরূপ প্রভাব গাড়িভাড়া, বাসাভাড়া থেকে শুরু করে জীবনের সর্বস্তরে গিয়ে পড়বে।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২৩ নভেম্বর) রাজধানীর কাওরান বাজারের ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) ভবনে অবস্থিত এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়।

সর্বশেষ ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিদ্যুতের দাম গড়ে ২ দশমিক ৯৩ শতাংশ বাড়িয়েছিল সরকার। তাতে মাসে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারীদের খরচ বাড়ে ২০ টাকা; ৬০০ ইউনিটের বেশি ব্যবহারে খরচ বাড়ে কমপক্ষে ৩০ টাকা।

বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারের এমন সিদ্ধান্তে নির্দিষ্ট আয়ের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়বে। এতে পরিবহন খরচ থেকে শুরু করে বাসাভাড়াসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দাম বাড়বে। বাড়বে মুদ্রাম্ফীতিও।’

এদিকে অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখত  বলেন, ‘সরকার বিদ্যুৎ খাতে প্রচুর পরিমানে ভর্তুকি দেয়। এর পরিমাণ হয়তো কিছুটা কমিয়ে আনতেই এবার সরকার বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে। মূল্যস্ফীতি কমলে সরকার এমনটাই করে। তবে এর বিরূপ প্রভাব জনজীবনে অবশ্যই পড়বে। আর সরকারের এমন সিদ্ধান্ত বছরের শেষ মাসে এসে কার্যকর হওয়ায় আগামী ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এর জন্য বাড়তি ভোগান্তিতে পড়বে সাধারণ মানুষ।’ তিনি বলেন, ‘জনজীবনে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র উৎপাদনে কারখানাগুলোয় জ্বালানি তেল বা বিদ্যুৎনির্ভরতা কমিয়ে কয়লাভিত্তিক করতে পারলে এর উপকার পাওয়া যেত।’

আবারও বিদ্যুতের দাম বাড়ায় পণ্যের উৎপাদনব্যয় কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেবে বলে মন্তব্য করেছেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন। তিনি বলেন, ‘এই বছর গ্যাসের দাম বাড়ায় একদফা পণ্য উৎপাদনব্যয় বেড়েছে। সামনে এলএনজি আসছে। তখনও আবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হবে। তাই এ সময়ে বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোই যৌক্তিক ছিল। এভাবে চলতে থাকলে প্রতিযোগিতায় ব্যবসায়ীদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে। জনজীবনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। সব মিলিয়ে আমরা ব্যবসায়ীরাই বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হবো।’ বছরের শেষ মাসে এসে বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় নেওয়া উচিত ছিল বলেও মনে করেন তিনি।

একই অভিমত প্রকাশ করেছেন কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবীরও। তিনি বলেন, ‘এমন সিদ্ধান্তে জনজীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। সাধারণ মানুষের জীবনে কষ্ট বাড়বে। উৎপাদনব্যয় বাড়বে সব পণ্যের। এতে অস্থিরতাও বাড়তে পারে।’

ইআরসি সূত্রে জানা গেছে, এবার ৫০ কিলোওয়াট থেকে ৫ মেগাওয়াট, ৫ থেকে ৩০ মেগাওয়াট ও ২০ থেকে সর্বোচ্চ ১৪০ মেগাওয়াট ব্যবহারকারীদের জন্যও দর পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে। বেড়েছে কৃষি, ক্ষুদ্রশিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুতের দাম। সেচে ইউনিট প্রতি তিন টাকা ৮২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে চার টাকা করা হয়েছে। আবাসিক খাতসহ বিভিন্ন শ্রেণিতে ৫ থেকে ৭ দশমিক ২১ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়ানো হয়েছে। ক্ষুদ্রশিল্প প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুতের দাম অফপিকে ছয় টাকা ৯০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে সাত টাকা ৩৮ পয়সা, পিক সময়ে নয় টাকা ২৪ পয়সা থেকে বাড়িয়ে নয় টাকা ৮৪ পয়সা করা হয়েছে। আর ফ্ল্যাট রেটের ক্ষেত্রে সাত টাকা ৬৬ পয়সা থেকে বাড়িয়ে আট টাকা ২০ পয়সা করা হয়েছে। বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে আগের ফ্ল্যাট রেট নয় টাকা ৮০ পয়সার স্থলে করা হয়েছে ১০ টাকা ৩০ পয়সা, অফপিকের আট টাকা ৪৫ পয়সার স্থলে নয় টাকা ২৭ পয়সা এবং পিক আওয়ারের জন্য ১১ টাকা ৯৮ পয়সার স্থলে ১২ টাকা ৩৬ পয়সা দর নির্ধারণ করা হয়েছে।’

ইআরসি কমিশন চেয়ারম্যান মনোয়ার ইসলাম বলেন, ‘সব শ্রেণির গ্রাহকের ওপর আর্থিক চাপ কমাতে এবার পাইকারি বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়নি। ২০১৫ সালের তুলনায় এবার পাইকারিতে প্রতি ইউনিটে বিদ্যুতের দাম ছয় পয়সা করে কমানো হয়েছে। বিদ্যুতের ন্যূনতম চার্জ প্রত্যাহার করা হয়েছে।’ ফলে মাসে ৫০ ইউনিটের কম ব্যবহার করেন, এমন প্রায় ৩০ লাখ গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল কমবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এই বিভাগের আরো সংবাদ