[bangla_day], [english_date], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]

বর্জ্য অপসারণ ও বিলবোর্ড উচ্ছেদই কেবল দৃশ্যমান

প্রকাশঃ April 28, 2016 | সম্পাদনাঃ 29th April 2016

small20160428124852

চট্টগ্রাম: ২৮ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) এক বছর পূর্ণ হলো চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনের। নানা ঘটনা আর নাটকীয়তায় টানটান উত্তেজনাপূর্ণ ভোটযুদ্ধে শেষ-হাসি হেসেছিলেন সরকারি দল আওয়ামী লীগের প্রার্থী আ জ ম নাছির উদ্দীন। ‘হাতি’ প্রতীকে ‘নগরপিতা’র আসনে বসেছিলেন নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে থাকা নাছির। বলা যায়, তার পূর্বসূরি তিনবার নির্বাচিত মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর হারানো পদটি পুনরুদ্ধার করেছিলেন তিনি।

এক বছরে নগরবাসী কী পেলেন তা-জানার চেষ্টা করেছে। নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ বলেছেন, আ জ ম নাছির উদ্দীনের সময়কালে এ পর্যন্ত দৃশ্যমান কাজ হয়েছে দুইটি। প্রথমটি বিলবোর্ড উচ্ছেদ, দ্বিতীয়টি রাতের বেলা বর্জ্য অপসারণ। এ দুইটি উদ্যোগ যেমন আলোচিত, প্রশংসিত হয়েছে তেমনি সমালোচিত হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বেতন-ফি বাড়ানো।

তারা বলছেন, নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী এখনো অনেক অনেক কাজ বাকি। বিশেষ করে জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল-নালার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, নতুন খাল খনন, প্রতিটি খালের মুখে স্লুইসগেট স্থাপন, ৪১ ওয়ার্ডে আলোকায়ন, কর্ণফুলীর ক্যাপিটাল ড্রেজিং, ১৯৯৫ সালের মাস্টারপ্ল্যান সময়োপযোগী করে বাস্তবায়ন, উপদেষ্টা পরিষদ গঠন, কল সেন্টার স্থাপন, ডিজিটাল সার্ভে স্কিম, স্মার্ট কার্ড স্কিম, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ই-হেলথ বা ই-সেবা চালু, পুরো নগরীকে ওয়াইফাই জোনে আনা, পাহাড় রক্ষা ও বনায়ন, পানিদূষণ রোধ, পানি সংকট নিরসন, জলাধার রক্ষা, ভিক্ষাবৃত্তি বিমোচন, দারিদ্র্য বিমোচন, বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, শিশুবান্ধব নগর, ব্যবসা-বাণিজ্যের সংকট নিরসন, আধুনিক কসাইখানা স্থাপন, নারী-পুরুষদের জন্যে পর্যাপ্ত পাবলিক পথচারী টয়লেট স্থাপন, ইঞ্জিনিয়ারিং মেটেরিয়াল অ্যান্ড ইক্যুইপমেন্ট টেস্টিং ল্যাব স্থাপন, শিক্ষার্থীদের জন্যে বাসে কনসেশন ভাড়া চালু এবং মেগাসিটির স্বপ্ন পূরণ বাকি রয়েছে।

ইস্ট ডেল্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মুহাম্মদ সিকান্দার খান বলেন, সরকারের সঙ্গে আ জ ম নাছির উদ্দীনের সুসম্পর্ক আছে বলে ভোটের সময় প্রচার করা হয়েছিল। তাই নগরবাসীর প্রত্যাশা ছিল সাবেক মেয়র মনজুর আলম সরকার বরাদ্দ দিচ্ছেন না বলে আক্ষেপ করতেন, সরকার দলীয় মেয়র প্রার্থী জিতলে তেমনটি করবেন না। কিন্তু এখন শোনা যাচ্ছে, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের জন্যে বাড়তি কোনো বরাদ্দ যেমন মেলেনি তেমনি আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কথা বলছেন মেয়র।

ড. সিকান্দার খান বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারে ভোটারদের মন জয় করার জন্যে অনেক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, অঙ্গীকার করা হয়। বাস্তবে দেখা যায় আইন, বিধিতে এগুলো মেয়রের আওতায় পড়ে না। তারপরও নগরপিতা হিসেবে আমরা আশা করবো, বর্তমান মেয়র নগরীর সব সরকারি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় করে, যোগসূত্র স্থাপন করে সমন্বিতভাবে চট্টগ্রামকে একটি গ্রিন, ক্লিন ও বিশ্বমানের শহরে পরিণত করবেন। মেয়রের মেয়াদ পাঁচ বছর বলা হলেও নির্বাচনের আগে-পরে কিছু সময় বাদ দিলে বাস্তবে কাজ করার সুযোগ থাকে চার বছর। তাই ঘর (চসিক) গুছিয়ে এখনই আটঘাট বেঁধে কাজে নেমে পড়তে হবে।

আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলেন, মেয়রের সফলতার প্রধান পরীক্ষা বর্ষা মৌসুমের জলাবদ্ধতা। যদি ভারী বৃষ্টিপাত হয়, যদি কাপ্তাই হ্রদের পানি ছাড়া হয়, যদি কর্ণফুলী ও শাখা নদীগুলোর, খালগুলোর পানি ধারণক্ষমতা বাড়ানো না হয়, যদি পাহাড় কাটা ও পাইলিংয়ের মাটি নালায় জমে থাকে তবে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার আশঙ্কা রয়েছে।

চসিকের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, চসিকের মূল কাজগুলো অত্যন্ত জটিল ও শ্রমসাধ্য। এখানে যে জনবল কাঠামো আছে তা দিয়ে শতভাগ কাজ আদায় করা কঠিন। তবুও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মেয়রকে সার্বিক সহযোগিতা করছেন। প্রশ্ন হচ্ছে, এভাবে কত দিন চলবে। এখননি নতুন জনবল কাঠামো অনুমোদন করিয়ে নেওয়ার সময়।

তবে সিটি করপোরেশনের অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী মনে করেন, নতুন মেয়র চসিকের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার মিশনে অনেক সাফল্য পেয়েছেন। ঠিকাদারদের পাওনা পরিশোধ, রাজস্ব আদায় বাড়ানো, দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অব্যাহতি, সরকার ঘোষিত পে-স্কেল বাস্তবায়নসহ অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছেন।

সর্বশেষ মঙ্গলবার (২৬ এপ্রিল) নগরীর হোটেল আগ্রাবাদের ইছামতী হলে শিল্পপতি, ব্যাংকার ও করপোরেট হাউসগুলোর সঙ্গে ডোর টু ডোর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত মতবিনিময় সভায় খোলামেলা বক্তব্য দেন দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এ পর্যন্ত অর্জনগুলো নিয়ে।

মেয়র বলেন, নির্বাচিত হওয়ার তিন মাস পর ২৬ জুলাই দায়িত্ব নিই। সেই হিসাবে এখন নয় মাস হলো। বিলবোর্ড উচ্ছেদের সময় অনেকে বলেছিলেন সব উচ্ছেদ হয়ে গেলে আমার লোকজনকে আবার অনুমোদন দেব। বাস্তবতা হচ্ছে আমার মেয়াদকালে আর বিলবোর্ড উঠবে না। এক মাসে ছোট-বড় ৫ হাজার ২৭টি বিলবোর্ড উচ্ছেদ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, রাতের বেলা বর্জ্য অপসারণ চ্যালেঞ্জিং ছিল। ২০ লাখ লিফলেট বিলি করেছি। মাইকিং করেছি। কিন্তু এটি হচ্ছে মন্দের ভালো। আমরা উন্মুক্ত ডাস্টবিন রাখবো না। ডোর টু ডোর বর্জ্য সংগ্রহ করবো। প্রতিটি বাসায় দুটি করে বিন দেবো। একটিতে পচনশীল, অপরটিতে অপচনশীল বর্জ্য রাখতে হবে। সেগুলো ভ্যানচালকরা বাসা থেকে সংগ্রহ করে নিয়ে আসবে। আমাদের দরকার ১০ লাখ বিন, ২ হাজার রিকশা ভ্যান। সব মিলে এটি চ্যালেঞ্জিং। ১০ হাজার টাকা করে রিকশাভ্যান চালকের বেতন ও বোনাস ধরলে খরচ হবে ২৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা। প্রতিমাসে ৭টি করে ওয়ার্ডকে ডোর টু ডোর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা হবে জানিয়ে মেয়র বলেন, এক্ষেত্রে সময় লাগবে ছয় মাস।

ঈদের পর থেকে হকারদের দিনের বেলা সড়ক ও ফুটপাতের ওপর বসতে দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন মেয়র।

এই বিভাগের আরো সংবাদ