[bangla_day], [english_date], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]

ফেল করেছি বহুবার, তবু নকল করিনি: রাষ্ট্রপতি

প্রকাশঃ January 11, 2020 | সম্পাদনাঃ 11th January 2020

ফেল করেছি বহুবার, তবু নকলের মত অনৈতিক পথ অবলম্বন করেননি কখনো। এমনকি পরিক্ষার হলে কোন সহপাঠীকেও বিরক্ত করিনি দেখানোর জন্যে, এমনি সোজা সরল বক্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ এবং এটাই তার জীবনের অহংকার এবং গর্ব বলে মনে করেন তিনি।

আজ শনিবার দুপুরে (১২.০০ ঘটিকায়) রাজধানীর গেন্ডারিয়ার ধূপখোলা মাঠে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাষ্ট্রপতি।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘ আজ শুনি শিক্ষকরা ছাত্রদের কাছে নকল সাপ্লাই করে। অনেক সময় শোনা যায় অভিভাবকেরাই নকল সাপ্লাই করে পাশ করাতে চায় তাদের সন্তানদের। এর চেয়ে দুঃখজনক আর কী হতে পারে। এদের কী শাস্তি হতে পারে। মনটা চায় আর কইলাম না… বুইঝ্যা নিয়েন… ।’

পরীক্ষায় নকল প্রবণতা ও অনৈতিক পন্থা অবলম্বনের কারণে দেশ ও জাতি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে জানিয়ে এর বিরুদ্ধে সবাইকে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আহ্বান জানান রাষ্ট্রের এই অভিভাবক।

নিজের জীবনের স্মৃতিচারণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমি ১৯৭০ সালে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচন করি। সে নির্বাচনে আমি ছিলাম গোটা পাকিস্তানে সর্বকনিষ্ঠ প্রার্থী। সত্তরের ৭ ডিসেম্বরের নির্বাচনে জয়লাভ করেছিলাম। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়ে যাওয়ায় পাকিস্তানের পার্লামেন্টে যেতে পারিনি।’

তিনি আরো বলেন, ‘রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার কারণে যথাসময়ে ডিগ্রি পাস করতে পারিনি। পরবর্তীতে ১৯৬৯ সালে ডিগ্রি পাস করি। তবে ৭১ সালে ল’ পরীক্ষা দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু স্বাধীনতা যুদ্ধের কারণে তা সম্ভব হয়নি। দেশ স্বাধীনের পর ৭২ সালে ল’ পরীক্ষার ব্যবস্থা হয়। চার পেপারে পরীক্ষা। তখন সারাদেশের পরীক্ষা হয়েছিল জগন্নাথ কলেজে। আমিও সেই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলাম।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘পরীক্ষা যখন দিতে গেলাম দেখলাম সবাই মোটা মোটা বই দেখে লিখে যাচ্ছে। বই সামনে ছাড়া খুব কমই দেখেছি। আমি তখন বাংলাদেশের গণপরিষদের সদস্য। ভাবলাম, আমি যদি এই কাজটি করি তাহলে কেমন হয়! মাঝে মাঝে সাংবাদিকরাও আসছে। তারা যদি কিছু লেখে! পরে সিদ্ধান্ত নিলাম, কপালে যা আছে হবে কিন্তু বই দেখব না। যা পারি তাই লেখলাম। ফলাফলে চার সাবজেক্টের মধ্যে দুই সাবজেক্টে পাস করি আর দুই সাবজেক্টে ফেল করি। পরে অবশ্য ১৯৭৪ সালে ভালোভাবে পড়াশোনা করে ল’ পরীক্ষা দিয়ে পাস করি।’

পরে তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মজা করে বলেন, ‘আমি যদি তখন নকল করতাম আর পত্রিকায় আসতো তাহলে তো আজ তোমরা বলতে, বেটা নকল করে পাস করেছ, এখন বড় বড় কথা বলো।’

এই বিভাগের আরো সংবাদ