[bangla_day], [english_date], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]

প্রেমিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে প্রেমিকের প্রতিশোধ

প্রকাশঃ May 15, 2016 | সম্পাদনাঃ 15th May 2016

3f47800ca9bb4864893cb6b95ce67b16

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি : ভৈরবে একটি আবাসিক হোটেলে প্রেমিকাকে ২ঘন্টা আটকে রেখে জোরপূর্বক ধর্ষণের ঘটনায় দীর্ঘ ৯মাস পর প্রেমিক মিজান (৩০) প্রতিশোধ নেয়ার জন্য হোটেল ম্যানেজার ওমর ফারুকের উপর গরম পানি নিক্ষেপ করেছে। 

আজ ১৫মে, রবিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভৈরব দূর্জয় মোড়ে অবস্থিত আল-জিহাদ নামে একটি আবাসিক হোটেলে এঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় হোটেল কর্তৃপক্ষ ওই যুবক প্রেমিক মিজানকে আটকিয়ে হোটেলের সামনে রাখা মটর সাইকেলে বেঁধে মারধর করে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ এসে অভিযুক্ত মিজানকে থানা হেফাজতে নিয়ে যায়।

সরেজমিন আল জিহাদ হোটেলের সামনে গিয়ে দেখা যায় মিজান নামের ওই যুবককে হোটেলের নিচে একটি মটর সাইকেলে বেঁধে রাখা হয়েছে। প্রেমিক মিজান উপজেলার আগানগর বড়বাড়ির হাবিবুর রহমানের ছেলে।

আহত হোটেল ম্যানেজার ওমর ফারুককে হোটেল মালিক নিয়াজ মুর্শেদ আঙ্গুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। অভিযুক্ত মিজান ম্যানেজারের শরীরে এসিড নিক্ষেপ করেছে বলে দাবি করছেন হোটেল মালিক নিয়াজ মুর্শেদ আঙ্গুও ও আহত ম্যানেজার ওমর ফারুক।

অপরদিকে অভিযুক্ত প্রেমিক মিজান জানান, ম্যানেজারের শরীরে ফ্লাক্সে করে গরমপানি নিক্ষেপ করেছে সে। তার অভিযোগ, প্রায় ৯ মাস আগে ২০১৫সালের ৫ আগষ্ট দুপুর পৌনে ১ টার দিকে তার প্রেমিকাকে নিয়ে আল জিহাদ হোটেলে আসেন। এসময় হোটেলের লোকজন তাকে ডিবি পুলিশের ভয় দেখিয়ে তাড়িয়ে দিয়ে তার প্রেমিকা আফিয়াকে দীর্ঘ ২ঘন্টা আটকে রেখে জোরপূর্বক হোটেলের লোকজন ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন। সেই ক্ষাভ থেকেই শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাড়ি থেকে ফ্লাক্সে গরম পানি নিয়ে এসে আল-জিহাদ হোটেলে উঠে ম্যানেজার ওমর ফারুকের উপর নিক্ষেপ করেছিল।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা: জোবায়ের আহামেদ জানান, রোগীর এটেন্ডেন বলছিল এসিড নিক্ষেপ করা হয়েছে। তাই আহত ওমর ফারুকের বুকে ক্ষত পেয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়। প্রাথমিক ভাবে রোগীর গায়ে এসিডের কোনো আলামত আমরা পাইনি। রোগী খোলা গায়ে ছিল এবং তাঁর শরীর ছিল ওয়াশ করা। এসিড নিক্ষেপ হলে শরীরের কাপড় পুড়ে যেত। প্রাথমিক আলামত পেলে বলতে পারতাম এসিড নিক্ষেপ করা হয়েছে। হালকা ক্ষত হয়েছে, দেখ মনে হচ্ছে গরম পানি দিয়ে পুড়া। আমরা বার্ন (পুড়া) রোগী হিসেবে হাসপাতালে রেকর্ড করেছি। ক্যামিকেল এনালাইসসি রির্পোটে বলা যাবে গরমপানি না এসিডের পুড়া।

এ ব্যপারে ভৈরব থানা অফিসার ইনচার্জ বদরুল আলম তালুকদার সাংবাদিকদের জানান, পূর্ব শত্র“তার জের ধরে হোটেল আল জিহাদেও ম্যানেজারের উপর এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি ফ্লাক্স উদ্ধার করেছে। মেডিকেল রিপোর্টে প্রমাণ হবে এসিড না গরমপানি। এঘটনায় অভিযুক্ত মিজানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অভিযুক্ত মিজানের বিরুদ্ধে ভৈরব থানায় গরমপানি নিক্ষেপ করার একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছিল।

এই বিভাগের আরো সংবাদ