[bangla_day], [english_date], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]

সৌদি আরবে রোহিঙ্গা পাচার করছে পুলিশের ইমিগ্রেশন শাখার একটি সংঘবদ্ধ চক্র।

প্রকাশঃ May 28, 2016 | সম্পাদনাঃ 28th May 2016

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দর দিয়ে ওমরা হজের নামে সৌদি আরবে রোহিঙ্গা পাচার করছে পুলিশের ইমিগ্রেশন শাখার একটি সংঘবদ্ধ চক্র। সম্প্রতি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। এই তদন্ত করছে পুলিশ সদর দপ্তর। প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণ মেলায় এক কর্মকর্তাসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে বদলি করা হয়েছে।

গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গা পাচারের জন্য ওই কর্মকর্তা প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও আর্থিক সুবিধা নিয়ে ইমিগ্রেশন শাখায় বেশি জনবল নিয়োগ দিয়েছেন, যাদের বেশির ভাগের গ্রামের বাড়ি কক্সবাজার জেলায়।

সূত্র বলছে, চারদলীয় জোট সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া এসব পুলিশ সদস্য ঘুরেফিরে ইমিগ্রেশন শাখায় কাজ করতে বেশি আগ্রহী। একবার বদলি হলে ফের তদবির করে ফিরে আসেন ইমিগ্রেশন শাখায়। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে বাগিয়ে নেন বদলির আদেশ। এ ক্ষেত্রে গোপনে চলে মোটা অঙ্কের লেনদেনও।

নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (ইমিগ্রেশন) আরেফিন জুয়েল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ইমিগ্রেশন থেকে কিছু পুলিশ সদস্য একবার বদলি হলে ঊর্ধ্বতন মহলে নানা তদবির করে ফের পুরনো জায়গায় ফিরে আসেন। তারা রোহিঙ্গা পাচারের সংঘবদ্ধ চক্রের সঙ্গে জড়িত।

অতিরিক্ত উপকমিশনার জানান, ইমিগ্রেশন শাখার কিছু পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ওমরার নামে সৌদি আরবে রোহিঙ্গা পাচারের অভিযোগ রয়েছে। এ-সংক্রান্ত গোয়েন্দা প্রতিবেদন পাওয়ার পর পুলিশ সদর দপ্তর বিষয়টি তদন্ত করছে।

সূত্র জানায়, ইমিগ্রেশন শাখায় কোনো পুলিশ সদস্যেও ছয় মাসের বেশি দায়িত্ব পালনের নিয়ম নেই। কিন্তু এ ক্ষেত্রে কোনো নিয়মই মানা হচ্ছে না। একবার বদলি হলে কয়েক মাস পর ঘুরেফিরে সেখানেই পোস্টিং নিতে গোপনে চলে টাকার খেলা।

গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ২০০৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত ঘুরেফিরে শাহ আমানত বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন শাখায় কর্মরত রয়েছেন বর্তমানে থাকা বেশির ভাগ পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তারা। এ সময়ের মধ্যে অন্তত এক লাখ রোহিঙ্গা ওমরা ভিসায় সৌদি আরব গিয়ে আর ফেরেনি। এসব রোহিঙ্গা সেখানে গিয়ে বাংলাদেশি পরিচয়ে বসবাস করছে।

সেখানে নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ায় ক্ষুণ্ন হচ্ছে বাংলাদেশের সুনাম। বর্তমানে ওমরা ভিসা বন্ধ থাকলেও বিমানবন্দর দিয়ে থেমে নেই রোহিঙ্গা পাচার। পুলিশ সদর দপ্তরের একটি কমিটি এসব বিষয় তদন্ত করে দেখছে বলে জানায় গোয়েন্দা সূত্র।

পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজি পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা পরিচয় গোপন রাখার শর্তে জানান, সিএমপির সাবেক এক কর্মকর্তাসহ ইমিগ্রেশন শাখার কিছু পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ওমরার নামে সৌদি আরবে রোহিঙ্গা পাচারকাজে সহায়তার অভিযোগ উঠেছে। গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিষয়টি এখন তদন্তাধীন।

তবে এই তদন্তের বিষয়টি তিনি অবগত নন বলে জানিয়েছেন সদ্য যোগদান করা সিএমপির কমিশনার ইকবাল বাহার। তিনি  বলেন, “রোহিঙ্গা পাচারের কোনো বিষয় কিংবা ইমিগ্রেশন পুলিশের কোনো অনিয়ম পুলিশ সদর দপ্তর তদন্ত করছে কি না তা আমার জানা নেই। তবে কোনো অনিয়মের তথ্য-প্রমাণ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”গোয়েন্দা প্রতিবেদনে যা আছে

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে, পরিদর্শক আবদুল্লাহ আল হারুন প্রথম ২০০৬ সালে বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন শাখায় যোগ দেন। উপপরিদর্শক থাকাকালে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ঘুরেফিরে একাধিকবার ইমিগ্রেশন শাখায় কর্মরত ছিলেন। চলতি বছর উপপরিদর্শক থেকে পরিদর্শক পদে পদোন্নতি পান তিনি। পদোন্নতি পেয়ে ফের ইমিগ্রেশন শাখায় বদলির আদেশ বাগিয়ে নেন তিনি।

অভিযোগ আছে, চলতি বছর এপ্রিলে ওই কর্মকর্তা পদোন্নতি পেয়ে ঢাকায় বদলি হন। চট্টগ্রাম ছাড়ার সময়  হারুনের বদলির আদেশে সই করলেও আদেশের তারিখ দেখানো হয় ২০ দিন আগের। এর আগে ইমিগ্রেশন শাখায় ২০০৬ সাল থেকে উপপরিদর্শক হিসেবে তিনবার দায়িত্ব পালন করেন হারুন।

সূত্র বলছে, বর্তমানে ওমরা ভিসা বন্ধ থাকলেও বিগত ১০-১১ বছর ধরে ইমিগ্রেশন শাখা শাসন করছে ২০০৫ ব্যাচে নিয়োগপ্রাপ্ত কিছু অসাধু পুলিশ সদস্য। তাদের অধিকাংশই কক্সবাজার জেলার বাসিন্দা। সেখানকার একটি সিন্ডিকেট ওমরা ভিসার নামে সৌদি আরবে রোহিঙ্গা পাচার করছে।

এ ছাড়া চোরাচালানিদের সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা পাচারকাজে যুক্ত থাকার অভিযোগ ওঠায় ইমিগ্রেশন পুলিশের (বর্তমানে নেই) সহকারী উপপরিদর্শক বখতেয়ারের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ৪ জানুয়ারি একটি সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন ইমিগ্রেশন বিভাগের তৎকালীন পরিদর্শক প্রদীপ কুমার দাশ।

জানা গেছে, এক বছর আগে বিমানবন্দরে জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসে নিয়োগ পান আনার কলি নামের এক নারী কর্মকর্তা। তিনি (আনার কলি) পরিদর্শক হারুনের আপন বোন।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আরও যাদের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা পাচারকাজে সহায়তার অভিযোগ উঠেছে তারা হলেন-পরিদর্শক আবদুল্লাহ আল হারুনের মামাতো ভাই এসআই মোজাহিদ, এসআই রাশেদ, জমির ও মোজাহিদ। অবশ্য তারা এখন ইমিগ্রেশন শাখায় নেই। গোয়েন্দা প্রতিবেদন পাওয়ার পর তাদের বিভিন্ন স্থানে বদলি করা হয় পুলিশ সদর দপ্তর থেকে।

জানা গেছে, ইমিগ্রেশন শাখায় বর্তমানে কর্মরত আছেন ৫৯ জন। এর মধ্যে একজন অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার, একজন সহকারী পুলিশ কমিশনার। মঞ্জুরিকৃত তিনজনের বিপরীতে পরিদর্শক আছেন ৭ জন; ১৯ জনের বিপরীতে এসআই আছেন ২৫ জন; তিনজনের বিপরীতে এএসআই আছেন ১২ জন; দুইজনের বিপরীতে কনস্টেবল আছেন ১৫ জন।

এই বিভাগের আরো সংবাদ