[bangla_day], [english_date], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]

পানামা পেপারস কেলেঙ্কারিতে এত বাংলাদেশি!

প্রকাশঃ May 10, 2016 | সম্পাদনাঃ 10th May 2016
panama_112467
ঢাকা: অবৈধ উপায়ে বিদেশে টাকা পাচার করে পানামার আইনি প্রতিষ্ঠান মোসাক ফনসেকার সহায়তা নিয়েছেন যারা, তাদের তালিকা প্রকাশ হয়ে গেছে এক মাস হলো। এই তালিকায় কয়জন বাংলাদেশি আছেন তা জানা যায়নি এতদিন। কিন্তু এবার অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের আন্তর্জাতিক সংগঠন আইসিআইজে প্রকাশ করেছে এমন একটি তালিকা যাতে ৫০ জনেরও বেশি বাংলাদেশির নাম আছে।

পানামা পেপার্স নামে পরিচিত ফাঁস হয়ে যাওয়া অফশোর অ্যাকাউন্টের তথ্যের একটি তালিকা পাওয়া যাবে www.offshoreleaks.icij.org ওয়েব ঠিকানায়। সোমবার মধ্যরাতে দুই লাখের বেশি কোম্পানি ও ব্যক্তির নাম প্রকাশ করা হয় এখানে। আইসিআইজে জানায়, এই তথ্যভাণ্ডারে উল্লেখিত সবাই যে অবৈধ কাজ করেছে তা নয়, তবে এর মাধ্যমে অনেকে কর ফাঁকি বা আর্থিক তথ্য লুকানোর চেষ্টা করতে পারে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘পানামা পেপারসে অফসোর কোম্পানিতে বিনিয়োগের এই টাকা পাঠানো দুর্নীতি কি না সেটা নিশ্চিত নয়। তবে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে এটা তদন্ত করে বের করা। যদি কেউ অবৈধ চ্যানেলে এই টাকা পাচার করে তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া উচিত’।

জানতে চাইলে দুর্নীতি দমন কমিশনের(দুদক) সচিব আবু মো: মোস্তফা কামাল জানান, ‘এখনও আমরা বিষয়টি সম্পর্কে জানি না। খোঁজখবর নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

আইসিআইজের প্রকাশ করা তথ্যভাণ্ডারে বাংলাদেশিদের তালিকায় যাদের নাম আছে তাদের মধ্যে আছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাফরউল্যাহ ও তার স্ত্রী নীলুফার জাফরুল্লাহর নাম। এই তথ্যভাণ্ডারে নাম রয়েছে সিটিসেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেহবুব চৌধুরী, আইজিডাব্লিউ অপারেটর সেল টেলিকমের কফিল এইচ এস মুয়ীদ, এক্সেসটেলের মালিক জাইন ওমর, কিউবির অংশীদার আফজালুর রহমান, টেকনোমিডিয়ার সরকার জীবন কুমার, বাংলাট্রাকের আমিনুল হক ও তার ছেলে নাজিম আসাদুল হক এবং তারিক একরামুল হক।

ঢাকাটাইমসকে জাফরউল্যাহ অবশ্য বলেছেন, দেশে বিদেশে কোথাও তার অবৈধ কোনো বিনিয়োগ নেই। তিনি বলেন, ‘এগুলো বাজে কথা। যে প্রতিষ্ঠানের বরাত দিয়ে এসব কথা বলা হচ্ছে তার নামও আমি এর আগে শুনিনি।’

সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোরশেদ খানের সম্বন্ধী ও সিটিসেলের সাবেক চেয়ারম্যান আজমাত মঈনও এর মধ্যে রয়েছেন। আব্দুল মোনেম গ্রুপের এ এস এম মহিউদ্দিন মোনেম এবং আসমা মোনেমের নামও রয়েছে। তথ্য ভাণ্ডারে থাকা এদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। এছাড়া অন্যদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নাম রয়েছে দিলীপ কুমার মোদি, মল্লিক সুধীর, কাজী রায়হান জাফর, মো. ইউসুফ রায়হান রেজা, মাহতাবউদ্দিন চৌধুরী, বেনজির আহমেদ, ইসরাক আহমেদের। নোভেরা চৌধুরী, সৈয়দা সামিনা মির্জা, উম্মে রুবানা, বিলকিস ফাতিমা, সালমা হক এই নারীদের নাম রয়েছে তালিকায়।

এছাড়াও ফরহাদ গনি মোহাম্মদ, মো. আবুল বাশার,  নিজাম এম সেলিম, মোহাম্মদ মোকসেদুল ইসলাম, মো. মোতাজ্জারুল ইসলাম, মো. মোতাজ্জারুল ইসলাম, মো. সেলিমুজ্জামান, সৈয়দ সেরাজুল হক, এফ এম জুবাইদুল হক এই নামগুলো এসেছে।

তথ্য ভাণ্ডারে রয়েছে ক্যাপ্টেন এম এম জাউল, মোহাম্মদ শহীদ মাসুদ, খাজা শাহাদত উল্লাহ, মোহাম্মদ ফয়সাল করিম খান, মোহাম্মদ শহীদ মাসুদ, জুলফিকার হায়দার, মির্জা এম ইয়াহিয়া, নজরুল ইসলাম, জাহিদুল ইসলাম, এফ এম জুবাইদুল হক, এ এফ এম রহমাতুল বারী, খাজা শাহাদাত উল্লাহ- এই নামগুলোও।

আইনি প্রতিষ্ঠান মোসাক ফনসেকার ফাঁস হয়ে যাওয়া নথি ‘পানামা পেপার্সের’ মাধ্যমে বিশ্বের অনেক রাজনীতিবিদ, সরকারি কর্মকর্তা, রাষ্ট্রপ্রধান থেকে শুরু করে চিত্রতারকা এবং তারকা খেলোয়াড়দেরও গোপন সম্পদের খবর ফাঁস করে।

মোসাক ফনসেকার দাবি, তারা বেআইনি কোন কাজ করেনি। তথ্য প্রকাশ না করার জন্য গত সপ্তাহে আইসিআইজের কাছে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছিল মোসাক ফনসেকা। তবে আইসিআইজের দাবি, জনস্বার্থে এই তালিকা প্রকাশ করেছে তারা।

এই বিভাগের আরো সংবাদ