[bangla_day], [english_date], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]

নিজেদের হিন্দু দেবতার বংশধর ভাবে যে মুসলিমরা।

প্রকাশঃ April 1, 2016 | সম্পাদনাঃ 1st April 2016

hindu-1

নিউজ ডেস্ক :ভারতের জনসংখ্যার একটি উল্লেখযোগ্য স্থান দখল করে আছে মুসলিমরা। বিভিন্ন সময়ে নানা কারণে এখানকার মুসলিম সম্প্রদায় আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ভারতের মুসলিম সমাজের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট হচ্ছে, অঞ্চলভেদে তাদের চিন্তাধারার মধ্যে পার্থক্য সূচিত হয়। সব মুসলিম একই ইসলামের অনুসারি হলেও প্রদেশভেদে তাদের মধ্যে প্রভেদ রয়েছে। এদের মধ্যে অনেকেই আছে যারা মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও নানা হিন্দু সংস্কৃতিও তাদের জীবনের সাথে জড়িত।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের মিওয়াট জেলার মুসলিমদের কথা। ‘মিও মুসলিম’ হিসেবেই পরিচিত তারা। নিজেদের মুসলিম বলেই স্বীকৃতি দেয় মিওরা। তবে হিন্দু ধর্মের অনেক আচরণবিধিও মেনে চলে। তাদের ধারণা, তারা রাম, কৃষ্ণ এবং অর্জুনের মতো হিন্দু দেবতাদের বংশধর। এমনকি দিওয়ালি, দুশেরা এবং হোলির মতো উৎসবগুলোও পালন করে।

ভারতের উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা এবং রাজস্থানজুড়ে প্রায় চার লাখ মিও মুসলিমের বাস। নিজেদের বিভিন্ন লোককথা আর পালাগানের জন্য পুরো মিওয়াট বেল্টজুড়ে বিখ্যাত মিও ‍মুসলিমরা। তাদের ইতিহাস বোঝা এবং তা নিয়ে গবেষণার জন্য মিওদের মুখে মুখে প্রচলিত উপকথাগুলোই যথেষ্ট। তাদের বেশিরভাগ উপকথাই হিন্দুদের ধর্মগ্রন্থগুলো থেকে নেয়া।

মূলধারার হিন্দু এবং মুসলিম সমাজ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা পরিচয় বহন করে মিওরা। বিয়ের ক্ষেত্রেও ইসলাম এবং হিন্দু উভয় ধর্মের রীতিনীতি অনুসরণ করে তারা। হিন্দু ধর্মের নিয়মানুসারে ‘জগ’ প্রথা পালন করে মিও মুসলিমরা। এটা তাদের জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ।

ধারণা করা হয়, বারো থেকে ষোল শতকের মধ্যে ধীরে ধীরে ইসলামে প্রবেশ করে মিওরা। তাদের নামগুলোতে এখানো হিন্দু যুগের উপাধি ‘সিং’ ব্যবহার করা হয়। তাদের নামগুলো হয়, রাম সিং, তিল সিং এবং ফতেহ সিং- এই ধরনের। এর মধ্যে ফতেহ সিং জানান, তিনি এবং তার গ্রামের লোকেরা বিশ্বাস করে, তারা মূলত হিন্দু ক্ষত্রিয় সম্প্রদায়ের লোক। এ সম্প্রদায়টির উদ্ভব ঘটেছে দেবতা অর্জুন থেকে। পরে তারা বিভিন্ন সুফি পীরদের সংস্পর্শে এসে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে।

তিনি বলেন, ‘আপনি যদি গ্রামের ভেতরে যান তবে দেখতে পাবেন মিওরা সবাই হিন্দুদের মতোই জীবন যাপন করে। আপনি হিন্দু এবং মিওদের মধ্যে কোনো পার্থক্য করতে পারবেন না। তবে শহরের কাছাকাছি যারা বাস করে তারা অনেকেই হিন্দু রীতিনীতি ত্যাগ করেছে।’
মিও সম্প্রদায়ের নারী শিক্ষাথীরা

এর কারণ বোঝা খুব কঠিন নয়। ভারতে অযোধ্যার দাঙ্গা এবং তার পরবর্তী ঘটনপ্রবাহ শান্তিপূর্ণ মিওয়াট বেল্টেও সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ভাইরাস ঢুকিয়ে দেয়। বাবরি মসজিদ ভাঙার কারণেই এ অঞ্চলে সহিংসতা সৃষ্টি হয়। এখন পর্যন্ত এখানে রাজনৈতিক বিভক্তিকরণ এবং বিচ্ছিন্নতা চলছে।

এরপর থেকেই মিওয়াতের বাসিন্দাদের পরিচয় একটি জটিল বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। মিওদের একজন বলেন, ‘যখন থেকে ভারতের হিন্দু জাতীয়তাবাদি সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবা সংঘ (আরএসএস) এবং রাজনৈতিক দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) রাজ্যে শক্তিশালী হয়ে ওঠে তখন থেকেই মিওরা নিজেদের মুসলিম হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসেছ।’

মিওদের মধ্যে এখন আগের চেয়ে বেশি ইসলামকরণের কাজ চলছে। তারা আগে প্রায় মসজিদে যেতোই না। এখন দিন দিন তারা ইসলামের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছে। এক সময় হিন্দুদের উপকথাগুলো মিওদের কাছে জনপ্রিয় থাকলেও এখন আরবীয় উপন্যাসগুলোই তাদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

অনেকের ধারণা, ভারতে একদিকে হিন্দু মৌলবাদের উত্থান এবং অপরদিকে ইসলামের বিপরীতধর্মী চেতনার কারণে পুরো দেশেই একটি পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। আর মিওরা এর বাইরে নয়। বাবরি মসজিদ ভাঙার পর থেকে মুসলিম আলেমরাও মিওদের বোঝাতে শুরু করেছেন, হিন্দু সংস্কৃতি ভালো নয়। এখন তাদের ইসলামে ফিরে আসা উচিত।

এই বিভাগের আরো সংবাদ