[bangla_day], [english_date], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]

নিখিল হত্যায় দুই মামলা, আটক ৩

প্রকাশঃ May 1, 2016 | সম্পাদনাঃ 1st May 2016

6f701538391e6176a82ad17bdc26bc41-25

টাঙ্গাইলের গোপালপুরে নিখিল চন্দ্র জোয়ারদারকে হত্যার ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

গতকাল দুপুরের দিকে গোপালপুর পৌর এলাকার ডুবাইল বাজারে নিখিলকে (৫০) লোকজনের সামনেই কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। তিনি নিজের বাড়ির সামনে দরজির দোকান চালাতেন।

গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল জলিল বলেন, এ ঘটনায় গতকাল রাতে নিখিলের পরিবার ও পুলিশের পক্ষ থেকে মোট দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, নিখিলের স্ত্রী আরতি জোয়ারদার বাদী হয়ে গোপালপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি। অজ্ঞাত তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।

অন্যদিকে বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে একটি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। মামলার বাদী উপপরিদর্শক (এসআই) মোকসেদুল আলম। এই মামলায়ও অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে।

টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সঞ্জয় সরকার বলেন, নিখিল হত্যার ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে আটক করা হয়েছে।

পুলিশের বিবরণ অনুযায়ী, আটক হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—গোপালপুর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম, গোপালপুরের আলমনগর আলিম মাদ্রাসার শিক্ষক আমিনুল ইসলাম ও জন্টু মিয়া নামের এক ব্যক্তি।

পুলিশ জানায়, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে কটূক্তি করার অভিযোগে ২০১২ সালে নিখিল গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। ওই মামলাটি দায়ের করেছিলেন আটক আমিনুল।

পুলিশ বলছে, পারিবারিক শত্রুতা, জমি নিয়ে বিরোধ ও জঙ্গিবাদ-এই তিন বিষয় সামনে রেখে তাঁরা ঘটনার তদন্ত করবেন।

আজ রোববার দুপুরের দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে যান কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী।

গতকাল নিখিল খুন হওয়ার ছয়-সাত ঘণ্টার মধ্যে হত্যার দায় স্বীকার করে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)।

পুলিশ ও নিখিলের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো গতকাল সকালে নিখিল দোকান খোলেন। ১২টার দিকে একটি মোটরসাইকেলে করে তিনজন তরুণ ওই দোকানে আসে। তারা ‘কথা আছে’ বলে নিখিলকে দোকান থেকে ডেকে রাস্তার পাশে নিয়ে যায়। কথা শুরুর একপর্যায়ে তারা চাপাতি দিয়ে নিখিলের মাথা ও গলায় আঘাত করতে থাকে। নিখিলের চিৎকার শুনে তাঁর স্ত্রী আরতি বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন।

আরতি বলেন, বের হয়েই তিনি দেখেন দুই তরুণ নিখিলকে কোপাচ্ছে এবং একজন মোটরসাইকেলে বসে আছে। আরতি এ সময় এগিয়ে যেতে চাইলে তাঁকে রক্তমাখা চাপাতি দিয়ে ভয় দেখানো হয়। কয়েক মিনিটের মধ্যে মৃত্যু নিশ্চিত করে হামলাকারীরা মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়। এ সময় ঘটনাস্থলের কাছে থাকা এক ব্যক্তি ইট হাতে তাদের দিকে এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা ককটেল মারার ভয় দেখায়।

চলে যাওয়ার সময় হামলাকারীরা একটি ব্যাগ ফেলে যায়। পরে পুলিশ ওই ব্যাগ থেকে চারটি ককটেল-জাতীয় বস্তু ও দুটি চাপাতি উদ্ধার করে।

আরতি বলেন, তাঁর স্বামীর কোনো শত্রু ছিল না। কেন তাঁকে খুন করা হলো, তা তাঁরা বুঝতে পারছেন না।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, নিখিল অত্যন্ত নিরীহ ছিলেন। ২০১২ সালে ডুবাইল বাজারে আড্ডা দেওয়ার সময় মহানবী (সা.) সম্পর্কে তিনি নেতিবাচক মন্তব্য করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। ওই সময় তাঁর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল হয়। মিছিলকারীরা তাঁকে মারধর ও দোকান ভাঙচুর করেন। পরে মামলা করা হলে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। কিছুদিন জেল খাটার পর তিনি জামিনে মুক্তি পান। এরপরও এলাকায় ফিরতে তাঁর সমস্যা হচ্ছিল। পরে এলাকার লোকজনের সঙ্গে সমঝোতা করে তিনি বাড়িতে ফেরেন।

নিখিলের মেয়ে লিপি চন্দ্র বন্যা বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, স্থানীয় একটি চায়ের দোকানে ইসলাম অবমাননা করে যে মন্তব্য দেওয়ার অভিযোগ তাঁর বাবার বিরুদ্ধে আনা হয়, সেটি মিথ্যা। মিথ্যা অভিযোগে পুলিশ তাঁর বাবাকে গ্রেপ্তার করে। ২৪ দিন পর তিনি ছাড়া পান।

গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, উগ্রপন্থীরাই যে নিখিলকে খুন করেছে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। এর পেছনে অন্য কোনো বিষয় আছে কি না, সেটাও খতিয়ে দেখা হবে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ