[bangla_day], [english_date], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]

নগরীতে তল্লাশির নামে পুলিশের চরম হয়রানি

প্রকাশঃ April 16, 2016 | সম্পাদনাঃ 16th April 2016

 

policeঅনলাইন ডেস্কঃ (স্বাধীনতা৭১ডট কম) নগরীর বিভিন্ন এলাকায় চেকপোস্টে এবং চেকপোস্ট ছাড়াও যে কোনো স্থানে হঠাৎ করেই তল্লাশির নামে পুলিশি হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। অভ্যন্তরীণ এলাকা ছাড়াও নগরে প্রবেশের আগে চেকপোস্টে তল্লাশির সময় সাধারণ মানুষ চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
দিনে ও রাতে পুলিশের অতি উৎসাহী কিছু সদস্য ইচ্ছেমতো ট্যাক্সি-রিকশা এমনকি টেম্পুও থামিয়ে ‘অযথা’ তল্লাশি করছে। ভুক্তভোগীরা বলছেন, ‘আগে নির্দিষ্ট সময়ে, নির্দিষ্ট এলাকায় তল্লাশি চালানো হতো, এখন যেখানে সেখানে ইচ্ছেমতো তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এ সময় সাধারণ মানুষের সাথে পুলিশ দুর্ব্যবহারও করছে।’
চেকপোস্টে কিছু পুলিশ সদস্য উদ্দেশ্যমূলকভাবেও যাত্রী কিংবা পথচারীর সঙ্গে অসদাচরণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তারা নানাভাবে অসৌজন্যমূলক প্রশ্ন এবং বিব্রত করেন।
তল্লাশির তালিকায় সবচেয়ে ‘বেশি উৎসাহী’ দেখা যায় চকবাজার থানা পুলিশকে। গণি বেকারি মোড় ও প্যারেড পূর্ব কর্ণার এলাকায় অতিরিক্ত হয়রানি করছে চকবাজার থানা পুলিশ।
গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, অসাধু পুুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে দিনে অন্তত ৮-১০টি অভিযোগ জমা পড়ছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ সদর দপ্তর ও সিএমপি কমিশনারের কার্যালয়ে।
অভিযোগ, চেকপোস্টে কিংবা টহল পুলিশের সঙ্গে থাকে সোর্স। সোর্সের আড়ালে তারা নিজেরাও ভয়ঙ্কর অপরাধী। আবার অপরাধী সম্পর্কে পুলিশকে গোপন তথ্যও দেয় তারা। একদিকে প্রতিক্ষকে ফাঁসাতে পুলিশকে ব্যবহার করছে তারা। অন্যদিকে মাঠপর্যায়ে ‘ধান্ধাবাজির’ জন্য এ সোর্সকে ব্যবহার করছে পুলিশ। কর্মকর্তার সামনে পুলিশ সোর্স নিরীহদের আটকে তল্লাশির নামে হয়রানি করছে। টাকা-পয়সা হাতিয়ে নিচ্ছে।
তল্লাশির নামে পুলিশের হয়রানি থেকে প্রতিকার চান ভুক্তভোগীরা। আওলাদ হোসেন নামে এক ভুক্তভোগী জানান, গত ১১ এপ্রিল সন্ধ্যায় রাঙামাটি থেকে স্ত্রীকে নিয়ে শহরে ফেরার সময় নগরের অক্সিজেন এলাকায় পুলিশের তল্লাশি হয়রানির শিকার হন তিনি। বাস থামিয়ে পুলিশ তল্লাশি শুরু করে। এক পর্যায়ে তাদের বিয়ের কাবিননামা পর্যন্ত দেখতে চায়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কতিপয় অসাধু পুলিশ সদস্য তল্লাশির নামে বেপরোয়া আচরণ করছে। এসব পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে চেকপোস্টে দায়িত্ব পালনকালে পথচারীদের তল্লাশির নামে হয়রানি, আর্থিক বাণিজ্য মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে নিরীহদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করার অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে গুরু অপরাধে লঘু দণ্ডে পার পেয়ে যাচ্ছেন অধিকাংশরা। কোনো কোনো পুলিশ সদস্য সরকারি দলের নাম ভাঙিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আদেশ-নির্দেশও পাত্তা দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।
যদিও সিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, পুলিশের বিরুদ্ধে অপরাধের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি মেনে চলা হচ্ছে। প্রতিটি অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার দেবদাস ভট্টাচার্য্য’র মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।
গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টায় রিকশাযোগে নগরের জামালখান এলাকার কর্মস’ল থেকে চকবাজার এলাকার বাসায় ফিরছিলেন ইমন মাহমুদ। গণি বেকারি মোড়ে অস্থায়ী চেকপোস্টে পুলিশ ইশারা দিলে থামেন তিনি। বেসরকারি সংস্হার কর্মচারী পরিচয় দেয়া সত্ত্বেও ‘ইয়াবা আছে’ এমন অজুহাত দিয়ে তার মানিব্যাগ তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। তবে রাতের অন্ধকারে তল্লাশিকারী ওই পুলিশ সদস্যকে চিহ্নিত করতে পারেননি ইমন। কলেজ রোডের পুলিশ চেকপোস্টে এ ধরনের ঘটনা প্রায় ঘটছে বলে জানান ইমন।
জানতে চাইলে চকবাজার থানার ওসি আজিজ আহমেদ বলেন, ‘কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তবে জননিরাপত্তার স্বার্থে কলেজ সড়কে পুলিশের তল্লাশি অভিযান চালানো হয় বলে জানান ওসি আজিজ।
জানা গেছে, সিএমপির বিভিন্ন বিভাগে সোর্স আছে অর্ধশতাধিক। তবে যাদের বিরুদ্ধে নিরীহ লোকজনকে হয়রানির বেশি অভিযোগ পাওয়া যায় তাদের মধ্যে নগরের চাঁন্দগাও থানায় আছে নিজাম, রফিক ও নাহিদ। আকবর শাহ থানায় আছে হারুন, সেলিম. শরীফ, নাজিম. জসিম। নগর গোয়েন্দা বিভাগে আছে আশফাক, চৌধুরী, আসাদ, বাবলু, আশরাফ। বাকলিয়ায় আছে জামাল, ফারুক, আবদুল, হারুন। অক্সিজেন এলাকার মান্নান, বাকলিয়ার তাহেরুল, দিদারুল আলম, আবদুল হাকিম, আনোয়ার হোসেন, শাহ আমানত সেতু এলাকার কালাম মেম্বার, বায়েজিদ এলাকার কামাল, আলাউদ্দিন, সবুজ, পাঁচলাইশ এলাকায় রাজু।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, কলেজ রোড এলাকায় তল্লাশির নামে চকবাজার থানা পুলিশ লোকজনকে মাত্রাতিরিক্ত হয়রানি করছে। কাতালগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা চন্দন দাশ (ছদ্মনাম) জানান, সম্প্রতি বিকেলে ছিনতাইকারী সন্দেহে তিন যুবককে আটক করে পাঁচলাইশ থানায় নিয়ে যান এসআই মনিরুল। এর মধ্যে একজন পেশাদার ছিনতাইকারী হলেও বাকি দুইজন ছিল নিরীহ। সেদিন থানায় অবস্থান করে দেখা গেছে, নিরীহ ওই দুই যুবকের একজনকে থানা কার্যালয়ে এসআই মনিরের সামনেই তার দেহ তল্লাশি শুরু করে অজ্ঞাত সোর্স। এ সময় পুলিশ ছাড়া অন্য কেউ এভাবে তল্লাশি করতে পারে কি-না পরিচয় গোপন করে এ প্রতিবেদক এস আই মনিরুলকে প্রশ্ন করলে তিনি নিরুত্তর থাকেন।
গত ৯ এপ্রিল রাত সাড়ে দশটায় রিকশাযোগে ছোটবোন আছমাকে নিয়ে নগরের আন্দরকিল্লা থেকে মেমন মাতৃসদন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বড়বোনকে দেখতে যাচ্ছিলেন কলেজ পড়-য়া নূর আহমদ (ছদ্মনাম)। নিউমার্কেট মোড়ে তাদের বহনকারী রিকশার গতিরোধ করে ইমন ও তার বোনের সঙ্গে চরম অসৌজন্যমূলক আচরণ করে টহল পুলিশ।
এ সময় এক পুলিশ সদস্য নূর আহমদকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘কি রে বেটা প্রেমিকা লইয়া রাতের বেলা কই যাস।’ পুলিশের এ উক্তি শুনে বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে পড়ে যান নূর আহমদ। পরে আছমাকে নিজের বোন বলে পরিচয় দিলে পুলিশের ওই সদস্যের হাত থেকে রেহাই পান নূর আহমদ।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, চেকপোস্ট ও টহলে থাকা পুলিশ সদস্যরা পথচারী ও যাত্রীদের তল্লাশির নামে দুর্ব্যবহার করে হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা-পয়সা। অসাধু এসব পুলিশ সদস্য এতটাই বেপরোয়া যে, তাদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলেও ‘পকেটে ইয়াবা দিয়ে মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ার’ হুমকি দেওয়া হয়। অনেককে ফাঁসিয়েও দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
মাঠ পর্যায়ের এসব পুলিশ সদস্যের হাতে রাস্তাঘাটে লাঞ্ছিত হচ্ছেন সম্মানিত ব্যক্তিরাও। অসাধু পুলিশ সদস্যদের আচরণের কারণে প্রভাব পড়ছে পুরো পুলিশ বাহিনীর ওপর। এ কারণে পুলিশের নগরবাসীর আস্থার সংকটও তৈরি করেছে বলে মত দিয়েছেন অনেকে। সূ্ত্রঃ সুপ্রভাত বাংলাদেশ

এই বিভাগের আরো সংবাদ