[bangla_day], [english_date], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]

দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত রিপোর্ট সাজানো বললেন তনুর পরিবার।

প্রকাশঃ June 13, 2016 | সম্পাদনাঃ 13th June 2016
দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত রিপোর্ট প্রত্যাখ্যান করলো তনুর পরিবার
ফাইল ছবি

কুমিল্লা: কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যার দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছেন তার মা আনোয়ারা বেগম।

রোববার (১২ জুন) বিকেলে কুমিল্লা সেনানিবাসের বাইরে একটি রেস্টুরেন্টে তনুর মা আনোয়ারা বেগম ও ভাই সোহাগ উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যানের বিষয়টি জানান।

এসময় তনুর মা আনোয়ারা বেগম বলেন, চিকিৎসক যে বিষয়টি বলছে তা মিথ্যা। আমার মেয়ে তনু পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তো। কুরআন শরীফ তেলায়াত করতো। তার সঙ্গে কোনো ছেলের সর্ম্পক ছিল না। নিজ ইচ্ছায় আমার মেয়ে কিছু করেনি। তাকে বাসায় নিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করে জঙ্গলে ফেলে গেছে তারা।

তিনি আরও বলেন, সুরতহাল রিপোর্টের সময় আমরা ডাক্তারকে যা বলেছি, তা লিখেনি। অথচ তারা সব লিখেছে বলে আমাদের থেকে স্বাক্ষর নিয়ে গেছে। সব ডাক্তারই আমার মেয়ের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখেছে। কিন্তু তারা রিপোর্টে এসব উল্লেখ করেনি। ডাক্তারদের সঙ্গে কেউ সহযোগিতায় আছে, তাদের ইশারায় এমন করছেন তারা।

আনোয়ারা বেগম বলেন, ময়নাতদন্তকারী ডাক্তার আমাদের বাসায় এসেছিল। আমি ডাক্তারকে বলেছি, তনুর নাক, মুখ, শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত ছিল। পায়ের পেশিতে বুট জুতা দিয়ে আঘাত করে থেতলে দেওয়ার চিহ্ন ছিল। আমার মেয়ের লম্বা চুলগুলো কেটে দিয়েছে।

এসময় তিনি অভিযোগ করে বলেন, শুনতেছি আমাদেরকে সেনানিবাস থেকে বের করে দেওয়া হবে। তনুর বাবার চাকরি থাকবে না। মেয়েকে ফিরিয়ে দিলে, আমরা চলে যাবো সেনানিবাস থেকে।

এর আগে দুপুর পৌনে ১টায় তনুর দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশ করেন ময়নাতদন্তকারী বোর্ড। পৌনে ১১টায় তনুর দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন কুমিল্লা সিআইডির কাছে হস্তান্তর করে ময়নাতদন্তকারী বোর্ড কর্তৃপক্ষ। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের কর্মচারী ফারুক এ প্রতিবেদন সিআইডির অফিসে পৌঁছে দেন।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ও দ্বিতীয় ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক দলের প্রধান ডা. কামদা প্রসাদ সাহা বাংলানিউজকে বলেন, মৃত্যুর আগে তার সেক্সুয়াল ইন্টারকোর্স হয়েছে, তা বোঝা গেছে। এর অর্থ তনুর যৌনকার্য হয়েছে। যেহেতু দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের সময় ১০দিন পর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছিল, তাই সেটা অনেকটা পঁচা ছিল। পঁচা-গলা মরদেহ থেকে নতুন করে কোনো আঘাতের চিহ্ন বোঝা সম্ভব হয়নি। ফলে অধিকতর তদন্ত করে মৃত্যুর কারণ খুঁজে বের করার জন্য তদন্তকারী সংস্থাকে পরামর্শ দিয়েছি। কিভাবে তার মৃত্যু হয়েছে এ বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা দিতে পারেনি ময়নাতদন্তকারী বোর্ড।

দ্বিতীয় ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক দলের সদস্য ডাক্তার ওমর ফারুক বাংলানিউজকে বলেন, মৃত্যুর আগে তনুর সঙ্গে সেক্সুয়াল ইন্টারকোর্স হয়েছে। তার মানে এটা নয় যে, ধর্ষণ হয়েছে। সেক্সুয়াল ইন্টারকোর্স আর ধর্ষণ ভিন্ন জিনিস। দু’টিই আলাদা বিষয়। মৃত্যুর আগে তার সঙ্গে যৌন ক্রিয়া হয়েছে, অথবা তার যৌন ক্রিয়ার অভিজ্ঞতা আছে। তবে এ যৌন ক্রিয়া কখন হইছে, তার সময় সীমা জানি না।

২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকার একটি ঝোপঝাড় থেকে সোহাগী জাহান তনুর মরদেহ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি প্রথমে পুলিশ, তারপর ডিবি পুলিশ, সর্বশেষ সিআইডি তদন্ত করছে। ২৮ মার্চ ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের জন্য তনুর মরদেহের দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের জন্য আদালতে আবেদন করে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

ডিবির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৩০ মার্চ তনুর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এরপর ৪ এপ্রিল কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ থেকে প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। ওই প্রতিবেদনে তনুকে হত্যা এবং ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়।

পরবর্তীতে আদালতের অনুমতি নিয়ে তনুর মরদেহে থাকা কাপড়-চোপড় ডিএনএ পরীক্ষার জন্য সিআইডি ঢাকায় তাদের পরীক্ষাগারে পাঠায়। পরে প্রকাশিত ডিএনএ প্রতিবেদনে তনুর কাপড়ে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়। তনুর মৃতদেহে মোট ৪ জনের ডিএনএ পাওয়া যায়।

এ প্রতিবেদন পাওয়ার পর সিআইডি কুমিল্লার বিশেষ পুলিশ সুপার ড. নাজমুল করিম জানিয়েছিলেন, আমরা ডিএনএ প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হয়েছি, তনু ধর্ষণের শিকার হয়েছিল।

এই বিভাগের আরো সংবাদ