[bangla_day], [english_date], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]

আমি ‘দুই বছর শেকলবন্দি ছিলাম’

প্রকাশঃ June 28, 2016 | সম্পাদনাঃ 28th June 2016

Pic71467102358

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানির অপহৃত ছেলে আলি হায়দার গিলানিকে তিন বছর পর গত মে মাসে আফগানিস্তান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। আফগান ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনীর অভিযানে তাকে উদ্ধার করা হয়।

 

পাকিস্তানের মুলতান থেকে অপহৃত হয়েছিলেন আলি হায়দার গিলানি। সেখানে তিনি পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। সম্প্রতি বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের বন্দিজীবনের কথা বলেছেন আলি হায়দার। তিনি জানান, তার বাবাকে হুমকি দেওয়ার জন্যেই আল-কায়েদা তাকে অপহরণ করেছিল।

 

আলি হায়দার বলেন, ‘আমার বাবা যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তখন আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনকে হত্যা করা হয়েছিল। বাবা দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানেও অভিযান শুরুর নির্দেশ দিয়েছিলেন। তারা (অপহরণকারীরা) আমাকে বলেছিল, তারা এর প্রতিশোধ নিতে চায়।’

 

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর পুত্র জানান, অপহরণকারীরা তাকে প্রথমে পাঞ্জাবের শিল্প শহর ফয়সালাবাদে নিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে তাকে উপজাতি অধ্যুষিত উত্তর ওয়াজিরিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়।

 

 

আলি বলেন, ‘আমাকে দুটি বছর শেকলবদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। আমাকে একটি ছোট্ট ঘরে রাখা হয়েছিল। এক বছর দুই মাস আমার আকাশ দেখার কোনো সুযোগ ছিল না। দেহে সূর্যের আলো পড়লে তার অনুভূতি কেমন হয় তা ভুলেই গিয়েছিলাম।’

 

আলির কাছে একটি দিনপঞ্জি ছিল। বন্দি থাকাকালে ওই দিনপঞ্জিতে নিজের প্রতিদিনের ভা্বনাগুলো লিখে রাখতেন তিনি। আর এই লেখালেখিটাই তাকে মানসিকভাবে সুস্থির থাকতে সহযোগিতা করেছে।

 

আলি বলেন, ‘আমি প্রচুর প্রার্থনা করতাম। নিজের সন্তানের কথা সব সময় ভাবতাম। ওর জন্যই বেঁচে থাকতে হবে বলে মনকে বোঝাতাম।’

 

আল-কয়েদার যোদ্ধারা কোনো ধরনের শারীরিক নির্যাতন চালায়নি উল্লেখ করে আলি বলেন, ‘ওরা তাকে মানসিকভাবে নির্যাতন করত। তারা বলত, তুমি মুসলমান না, তোমার বাবা মুসলমান না।  তোমরা জাহান্নামে যাবে।  তোমার পরিবার তোমার কোনো উপকার করতে পারবে না।’

 

আলিকে যেখানে বন্দি রাখা হয়েছিল সেই এলাকাটিতে তালেবান ও আল-কায়েদার বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়। ২০১৪ সালে অভিযানে তীব্রতা বৃদ্ধি পায়। এখানে প্রায়ই বিমান ও ড্রোন হামলা চালানো হতো।

 

 

আলি বলেন, ‘আমি একটি সহিংসতাপূর্ণ এলাকায় ছিলাম। ড্রোন, ট্যাংক, মর্টার ও বিমান হামলা হতো। ড্রোনের শব্দ ছিল ভয়ংকর। মাথার ওপর দিয়ে বড় আকারের একটি মৌমাছি ক্রমাগত চক্কর দিলে যে ধরনের শব্দ হয়, ড্রোনের শব্দটা ছিল ঠিক তেমনই। কেবল দু-এক দিন নয়, দিনে ও রাতে তিন, চার এমনকি পাঁচটি ড্রোন একসঙ্গে চক্কর দিতো।’

 

জানুয়ারি ড্রোন হামলার চালানোর পর আল-কায়েদা আলিকে তালেবানের হাতে তুলে দেয়। তাকে নিরাপদে রাখতেই উত্তর ওয়াজিরিস্তানের শাওয়াল এলাকায় তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ওই এলাকায় অভিযান জোরদার করলে তালেবান সীমান্ত পাড়ি দিয়ে আফগানিস্তানের পাকতিকা প্রদেশে পালিয়ে যায়। নিজেদের সঙ্গে আলিকেও নিয়ে যায় তারা।

 

এই বিভাগের আরো সংবাদ