[bangla_day], [english_date], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]

জেএমবি নেতার চিঠিতে মিতু হত্যা মামলার তদন্তে অন্য মোড়

প্রকাশঃ June 18, 2016 | সম্পাদনাঃ 18th June 2016
 স্বাধীনতা৭১ডটকম

 

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : কারাবন্দি জেএমবি সদস্য ফুয়াদ ওরফে বুলবুলের একটি চিঠিতে নতুন মোড় নিয়েছে পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলার তদন্ত।

ওই চিঠি কাকে উদ্যেশ্য করে লেখা সেটা পরিষ্কার না থাকলেও তাতে পুলিশ সদস্যদের হত্যার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রতিশোধ নিতে প্রয়োজনে তাদের অফিসে কিংবা তারা ছুটিতে থাকা অবস্থায় হত্যার আহ্বান জানানো হয়।

মিতু হত্যাকান্ডের সাথে জেএমবি জঙ্গি বুলবুলের কোন যোগসূত্র আছে কিনা বাবুল আক্তরেকে না পেয়ে তার স্ত্রীকে হত্যা করা হলো কিনা এসব বিষয়ে জোরালো অনুসন্ধান  শুরু করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) । এতদিন নানা সন্দেহের ভিত্তিতে তদন্ত চললেও পিবিআই এখন এই একটি ক্লু ধরে অগ্রসর হচ্ছে। বুলবুলকে রিমান্ডে নিয়ে চিরকুটটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদেরও উদ্যোগ নিয়েছে পিবিআই।

ইতিমধ্যে বুলবুলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচদিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেছেন চট্টগ্রামের একটি আদালত।মঙ্গলবার দুপুরে মহানগর হাকিম হারুনুর রশিদ এ আদেশ দিয়েছেন।

আদালত রিমান্ড আবেদনের শুনানিতে আদালত পুলিশের পরিদর্শক শিল্পী রানী দেবনাথ বলেন, ফুয়াদ জেএমবির একজন ‘উচ্চপদস্থ সদস্য’। তিনি জেলখানা থেকে কারাগারের বাইরে থাকা  জিএমবি সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ‘গুপ্তহত্যার তথ্য’ সরবরাহ করেছেন বলে ‘তথ্য’ পাওয়া গেছে। এমনকি জেলাখানা থেকে বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের নির্দেশনা প্রদান করেছেন এমন তথ্যও পাওয়া গেছে।”

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, গত মাসে বুলবুলের লেখা ওই চিরকুটটি ফাঁস হয়েছে। এতে বুলবুলদের উপর কথিত নির্যাতন এবং নিজেকে ‘আইএস’ দাবি করা জেএমবি নেতা  জাবেদকে খুনের অভিযোগ এনে পুলিশ সদস্যদের হত্যার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিভিন্ন হাত ঘুরে চিরকুটটি পৌঁছেছে পিবিআই এবং একটি রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার কাছে। গত ৫ জুন  বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম ওরফে মিতু আক্তারকে হত্যার আগে চিরকুটটি অবশ্য নগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছেও পৌঁছেছিল। কিন্তু এ নিয়ে প্রাথমিক অনুসন্ধানের মধ্যেই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে যায়।

পুলিশ সূত্র জানায়, ফাঁস হওয়া চিরকুটে দেখা যাচ্ছে বাবুল আক্তারসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে হত্যার পরিকল্পনা জঙ্গিদের আছে। এখন বাবুল আক্তারকে না পেয়ে তার স্ত্রীকে খুন করে  ঙ্গিরা প্রতিশোধ নিলেও নিতে পারে।

২০১৫ সালের ৫ অক্টোবর নগরীর কর্ণফুলী থানার খোয়াজনগরে তৎকালীন অতিরিক্ত উপ কমিশনার (এডিসি) বাবুল আক্তারের নেতৃত্বে নগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি টিম অভিযান চালিয়ে বুলবুলসহ পাঁচ জেএমবি সদস্যকে গ্রেফতার করেছিল। এদের মধ্যে জেএমবির চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিস্ফোরক শাখার প্রধান মো. জাবেদ ওরফে জায়েদকে নিয়ে ডিবি আরেকটি অভিযানে গেলে সে গ্রেনেড বিস্ফোরণে মারা যায়। বুলবুলসহ বাকি চার সদস্যের কাছ থেকে পুলিশ জঙ্গি কর্মকাণ্ড সম্পর্কিত বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর তথ্য উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। ফাঁস হওয়া চিরকুটে জাবেদকে ‘হত্যা’ এবং জিজ্ঞাসাবাদে নির্যাতনের অভিযোগ এনে বাবুল আক্তারসহ গ্রেফতারকারী পুলিশ সদস্যদের হত্যার আহ্বান জানিয়েছে ফুয়াদ ওরফে মো.বুলবুল। বর্তমানে কারাবন্দি বুলবুল জেএমবির চট্টগ্রাম অঞ্চলের সেকেন্ড ইন কমান্ড বলে জানিয়েছিল নগর গোয়েন্দা পুলিশ।

এই বিভাগের আরো সংবাদ