[bangla_day], [english_date], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]

জঙ্গিবাদ রোধে প্রয়োজন সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান।

প্রকাশঃ July 21, 2016 | সম্পাদনাঃ 23rd July 2016

upsommpadokio-300x150-300x150

জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন সুধীজনেরা। ছেলেমেয়েদের ব্যাপারে সচেতন হওয়ার জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বুদ্ধিভিত্তিক বিষয়ে চর্চা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও খেলাধুলার প্রতি ছেলেমেয়েদের মনোযোগ আকর্ষণে পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। সম্প্রতি দেশে বড় ধরনের দুটি জঙ্গি হামলার ঘটনায় সবার মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে আলোচনা সভা, মতবিনিময় সভা, সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ড।

রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে এবং শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার ধরন এবং এতে জড়িতদের সম্পর্কে যা জানা যাচ্ছে তাতে এটাই প্রতীয়মান হচ্ছে যে, জঙ্গিবাদ এখন প্রজন্মের সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। নব্বইয়ের দশকে রাশিয়ার দখল থেকে আফগানিস্তানকে মুক্ত করতে বাংলাদেশ থেকে অনেকে গোপনে আফগানিস্তানে গিয়েছিলেন। সেখানে সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর তারা আফগান মুজাহিদদের সঙ্গে যোগ দিয়ে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেন। পরবর্তী সময়ে অনেকে আফগানিস্তানে গিয়ে তালেবান জঙ্গিগোষ্ঠীতেও যোগ দেন।

একসময় এই ব্যক্তিরা দেশে ফিরে আসেন এবং এদের মধ্যেই বেশ কয়েকজন বাংলাদেশে গড়ে তোলেন জেএমবি ও হুজির মতো জঙ্গি সংগঠন। এই সংগঠনগুলোর জঙ্গি তৎপরতা এবং রমনার বটমূলে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে ভয়াবহ বোমা হামলা, দেশের বিভিন্ন স্থানে সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় সরকার এই সংগঠনগুলোকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। পরবর্তী সময়ে সরকারের কঠোর পদক্ষেপের কারণে দেশে জঙ্গি তৎপরতা প্রায় বন্ধই হয়ে গিয়েছিল।

কিন্তু সম্প্রতি নতুন করে জঙ্গি তৎপরতার ঘটনা সকল মহলকেই নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে। এসব ঘটনায় জড়িতদের যে পরিচয় পাওয়া যাচ্ছে তাতে সবাই বিস্মিত। এদের মধ্যে রাজধানীর নামিদামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষাপ্রাপ্ত ও উচ্চবিত্ত পরিবারের তরুণ ছেলেরা রয়েছেন। এত দিন একটা ধারণা ছিল যে, মাদ্রাসায় ধর্মীয় শিক্ষাপ্রাপ্ত দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের জঙ্গিবাদে ও সন্ত্রাসবাদে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানরাও জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ছে। আর এ বিষয়টি রীতিমতো উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

জঙ্গিবাদ রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে ১০ দফা সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে জঙ্গি বিরোধী ইউনিট গঠন, শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা, আদর্শ গঠনে পদক্ষেপ নেওয়া, দীর্ঘদিন অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ ও মসজিদগুলোতে পর্যবেক্ষণ, সামাজিক চেতনা গড়ে তোলা, সামাজিকভাবে ঐক্যবদ্ধ হওয়া, পারস্পরিক যোগাযোগ গড়ে তোলা, সম্প্রীতির বন্ধন সৃষ্টি ।

এই সুপারিশের সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে আমরাও বলব কোমলমতি তরুণরা যাতে পথচ্যুত হতে না পারে সে জন্য পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজের প্রতিটি স্তরে সবাইকে সচেতন হতে হবে। পালন করতে হবে দায়িত্বশীল ভূমিকা। গড়ে তুলতে হবে সামাজিক আন্দোলন। আর এ জন্য এগিয়ে আসতে হবে সবাইকে।

 

 

এই বিভাগের আরো সংবাদ