[bangla_day], [english_date], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]

আর কত প্রাণ ঝড়লে জঙ্গিবাদ দমন হবে।

প্রকাশঃ June 13, 2016 | সম্পাদনাঃ 13th June 2016

Editorial20160419044402

চট্টগ্রামে হত্যাকাণ্ডের শিকার হলেন জঙ্গি দমন অভিযানে সাহসিকতার জন্য পদকপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু। একই দিনে নাটোরের বড়াইগ্রামের বনপাড়ায় সুনীল দানিয়েল গমেজ নামে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের এক মুদি দোকানিকে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সুনীলকে হত্যায় চরমপন্থী গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) দায় স্বীকার করেছে। তবে পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীকে হত্যার দায় কোন জঙ্গি গোষ্ঠী স্বীকার না করলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এর সঙ্গে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার দাবি করেছেন। এভাবে একের পর এক সন্ত্রাসী হামলা, হত্যাকাণ্ডের ঘটনা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেন মুখ খুবড়ে পড়েছে তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

গত জানুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রেজাউল করিম সিদ্দিকী, টাঙ্গাইলে দরজি নিখিল চন্দ্র জোয়ারদার, পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে সন্তগৌরীয় মঠের অধ্যক্ষ যজ্ঞেশ্বর রায়কে হত্যা করেছে জঙ্গিরা। এছাড়া গত বছর আশুলিয়ায় পুলিশ সদস্য, ঢাকা ও রংপুরে দুই বিদেশি নাগরিকসহ সংস্কৃতিকর্মী ও ভিন্নমতাবলম্বীদের হত্যার ঘটনা ঘটেছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হামলার ধরণ এক। হত্যাকাণ্ডের পরপরই আইএস কিংবা আল-কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশের বাংলাদেশ শাখা আনসার আল ইসলাম দায় স্বীকার করে বক্তব্য দিয়েছে। তবে পুলিশ প্রশাসন ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বারবার দেশে আইএস কিংবা কোনো আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের অস্তিত্বের কথা অস্বীকার করেছেন। জঙ্গিবাদ দমনে সাহসী হিসেবে পরিচিত পুলিশের এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুকে চট্টগ্রামে তার বাসভবনের কাছেই প্রকাশ্যে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্বপালনকালে বাবুল আক্তার জেএমবির গোপন আস্তানা থেকে বিপুল অস্ত্র-সরঞ্জাম উদ্ধারসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ অভিযান পরিচালনা করেছেন। সাহসিকতাপূর্ণ ভূমিকার জন্য গত এপ্রিলে তাঁকে পুলিশ সুপার হিসেবে পদোন্নতি দিয়ে সদরদপ্তরে যুক্ত করা হয়। জঙ্গিদের পক্ষ থেকে তাঁর ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ক্রমাগত প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। একইদিন নাটোরের বড়াইগ্রামের বনপাড়ায় সুনীল দানিয়েল গমেজকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। হত্যাকাণ্ডের কয়েকঘণ্টা পরই দায় স্বীকার করেছে আইএস।

পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী হত্যাকাণ্ডের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, জঙ্গিরাই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছে বলে তার বদ্ধমূল ধারণা। সৎ ও সাহসী পুলিশ অফিসারদের মনোবল ভেঙে দেওয়ার জন্য বাবুল আক্তারের স্ত্রীর ওপর কাপুরুষোচিত ও বর্বর এ হামলা চালানো হয়েছে। একইসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হামলাকারীদের গ্রেফতার করে শাস্তির মুখোমুখি করার ঘোষণা দিয়েছেন।

আমরা আশা করি, জঙ্গি তথা অপরাধীদের দমনে সরকার আরো শক্তিশালী ভূমিকা পালন করবে। বাস্তবতাকে অস্বীকার নয় বরং মেনে নিয়েই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম জোরদার ও গোয়েন্দা বাহিনীকে শক্তিশালী করতে হবে। আর তা না করা হলে কেবল আশ্বাসবানীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে বাঘের ঘরে ঘোগ বাসা বাধবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

 

এই বিভাগের আরো সংবাদ