[bangla_day], [english_date], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]

গুরুদাসপুরে প্রতিমা তৈরি করে জয়দেব বাবুর সংসার চলে

প্রকাশঃ September 18, 2017 | সম্পাদনাঃ 18th September 2017

এস,এম ইসাহক আলী রাজু গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধিঃ  প্রতিমা তৈরিতে তিন পুরুষের ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন জয়দেব বাবুর (৭৫) পরিবার। জমি-জমা না থাকা এবং বিকল্প কাজে অভিজ্ঞতা না থাকায় এই প্রতিমাকে ঘিরেই চলে পাঁচ সদস্যের পরিবার। বছর ঘুরে শারদীয় দূর্গোৎসব এলে বাড়ে পরিবারটির ব্যস্ততা। তখন জুটে ভালোমন্দ খাবার। আর বছরের অন্য মাসগুলোতে লেগে থাকে টানাপোড়েন। নাটোরের গুরুদাসপুর পৌর সদরে গুরুদাসপুর কর্মকারপাড়া মহল্লায় প্রতিমা শিল্পি জয়দেব বাবু’র পরিবারটির বসোবাস।  সংসারে ছেলে জীবন কৃষ্ণ কর্মকার (৫২) ও পুত্রবধু বুলবুলি রানী কর্মকার (৪৫) নাতি জয়ন্ত কর্মকার (২০) এবং স্ত্রী কমলা রানী (৭০) কে নিয়ে এই শিল্পি পরিবার। কষ্টের মাঝেও নাতি জয়ন্ত কর্মকারকে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করিয়েছে পরিবারটি। জয়ন্ত কর্মকার এখন পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি করছেন। জয়দেব বাব’ুর সাথে কথাবলে জানাগেছে, শত বছর আগে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের দুধগাড়ি ও খুবজীপুর ইউনিয়নের তেলকুপি গ্রামে সনাতন ধর্মীয় পাল বংশধরের বেশ কিছু কারিগর ছিল। তাঁরা প্রতিমা তৈরিতে পারদর্শী ছিলেন। তাঁদের কাছ থেকে জয়দেব বাবুর দাদা- মহিন্দ্রনাথ কর্মকার ও বাবা নগেন্দ্রনাথ কর্মকার  প্রতিমা তৈরির কাজটি প্রথমে রপ্ত করে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন।  কালের বিবর্তনে এক সময় পাল বংশের প্রতিমা শিল্পিরা দেশ ত্যাগ করেন।জয়দেব বাবুর বাপ-দাদারা তখন প্রতিমা তৈরির পেশাটি আঁকড়ে ধরেন ।  এসময় জয়দেব বাবু তাঁদের কাছ থেকে পেশাটি রপ্ত করেন এবং পেশা হিসেবে এখনও কাজটি করছেন জয়দেব বাবু। তাঁর হাত ধরে পরিবারের অন্য সদস্যরাও প্রতিমা তৈরিতে পারদর্শি হয়েছেন। তবে নাতি জয়ন্ত কর্মকার প্রতিমা তৈরিতে দক্ষতা অর্জন করেছেন বেশি। জয়ন্ত চাকরিতে চলে যাওয়ায় বাড়ির অন্য সদস্যরা পেশাটি আঁকড়ে ধরেছেন। তবে জয়দেব বাবু ও তাঁর স্ত্রী কমলা রানী’র বয়স হওয়ায় তাঁরা কেবল নির্দেশনা দেন। তবে প্রতিমা তৈরির মুল কাজটি করছেন ছেলে জীবন কৃষ্ণ কর্মকার (৫২) ও পুত্রবধু বুলবুলি রানী কর্মকার (৪৫)। প্রতিমা তৈরির মজুরি আর নাতি জয়ন্ত কর্মকারের পাঠানো টাকাতেই চলছে তাদের সংসার। উল্লেখ্য- উপজেলার মধ্যে এই একটি পরিবারই বাণিজ্যিকভাবে প্রতিমাসহ অন্যান্য মুর্তিগুলো তৈরি করে থাকেন।প্রতিমা শিল্পি জীবন কৃষ্ণ ও বুলবুলি রানী জানান,  শারদীয় দুগোর্ৎসবে ৩-৫টি করে প্রতিমা তৈরি করে থাকেন। প্রতিটি প্রতিমা তৈরির জন্য ৮-১০ হাজার টাকায় বিক্রি করে থাকেন। এছাড়াও বিশ্বকর্মা, লক্ষী, স্বরস্বতী, মনষাদেবী, লোকনাথ ও কালী প্রতিমা, গোপাল, রাধাগোবিন্দ ও পঞ্চতত্ত্ব প্রতিমা তৈরি করে থাকেন। দূর্গা প্রতিমা ছাড়া  অন্য ছোট সাইজের প্রতিমা তৈরি করে দুই হাজার টাকা থেকে তিন হাজার টাকার মধ্যে। বছর জুড়েই ঘরোয়া ভাবে এসব প্রতিমা ও মুর্তি তৈরির আয় থেকেই সংসারের চাকা সচল থাকে তাদের। প্রতিমা-মুর্তি তৈরিতে বাঁশ, দড়ি, খড়, মাটি, পাট, শুতলী, রং, তুলি ও ধানের তুষ উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কয়েক বছর ধরনে এসব উপকনের দাম বাড়লেও প্রতিমা-মুর্তির দাম বাড়েনি। তার পরও বেঁচে থাকার তাগিদে করতে হয় এসব কাজ।জয়বেদ বাবু আরো জানালেন, গুরুদাসপুর উপজেলায় ফিবছর ৩০-৩৫টি প্রতিমা দরকার হয়। কাজেরমান ভালো দিলেও অনেকে দেশের আভ্যন্তরিণ জেলা শহর থেকে বেশি দামে প্রতিমা কিনে এনে পুজার পর বিসর্জন দিয়ে থাকেন। আগে থেকে গ্রাহকরা প্রতিমার অর্ডার দিলে চাহিদাসহ সময়মত প্রতিমাগুলো সরবরাহ করতে পারেন। এতে আর্থিক ভাবে তাদের পরিবারটি লাভবান হতে পারে।গুরদাসপুর উপজেলা পুজা উদ্যাপন পরিষদের  সাধারন সম্পাদক বিমল চন্দ্র কুন্ডু জানান, জয়দেব বাবু পেশায় দক্ষ ও রুচিশীল শিল্পি। তাঁর প্রতিমাগুলো আকর্ষন করে ঠিক। কিন্তু তাঁর লোকবল কম থাকায় সময়মত প্রতিমা সরবরাহ করতে পারেননা। বাধ্য হয়ে দেশের অন্য জেলাগুলো থেকে বেশি দামে প্রতিমা কিনতে হয়।

এই বিভাগের আরো সংবাদ