[bangla_day], [english_date], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]

খোলা গুঁড়া মরিচে আফলাটক্সিন : লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকি

প্রকাশঃ April 6, 2016 | সম্পাদনাঃ 6th April 2016

morich-0120160331134650 দেশের বাজারে খোলা যে গুঁড়া মরিচ বিক্রি হচ্ছে তাতে ক্ষতিকর আফলাটক্সিনের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এই আফলাটক্সিনের কারণে মানুষের লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

সম্প্রতি জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের ন্যাশনাল ফুড সেফটি ল্যাবরেটরি কর্তৃপক্ষ উৎপাদক, পাইকারি ও খুচরা বাজার থেকে ২৭টি খোলা গুঁড়া মরিচের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করে। এতে ২২টিতেই আফলাটক্সিনের উপস্থিতি পাওয়া যায়।

শুধু তাই নয়, দেশে প্রচলিত বিশুদ্ধ খাদ্য আইন অনুসারে খাদ্যপণ্যে রং মেশানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও তিনটি নমুনায় ক্যান্সারের কারণ হতে পারে এমন লাল রং (সুধান রেড-১) মেশানোর প্রমাণ পাওয়া গেছে।

জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ‘মনিটরিং অ্যান্ড ইভালুয়েশন অব হর্টিকালচার প্রোডাক্টস্ অ্যান্ড আদার ফুড কমোডিটিস ফর কেমিক্যাল কন্টামিনেশন অ্যাট এনএফএসএল: অ্যান অ্যাপ্রাইজাল অব ফুড সেফটি সার্ভে ইন বাংলাদেশ’ বিষয়ক জরিপের অংশ হিসেবে ১৫ মার্চ থেকে ৩০ মার্চের মধ্যে এ গবেষণা চালায়। উৎপাদক, পাইকারি ও খুচরা বাজারের প্র্রতিটি থেকে ৯টি করে মোট ২৭টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়।

জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পাবলিক হেলথ ল্যাবরেটরি (পিএইচএল) ও এনএফএসএল প্রধান ও জরিপ  কার্যক্রমের প্রধান ইনভেস্টিগেটর ডা. শাহনীলা ফেরদৌসি বৃহস্পতিবার বিকেলে জাগো নিউজকে জানান, বাজারে বিক্রিত খোলা গুঁড়া মরিচ সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও গুদামজাত না করার কারণে এতে প্রাকৃতিকভাবে আফলাটক্সিন (এক ধরনের ফাঙ্গাস) পড়ে। ফাঙ্গাস পড়া গুঁড়া মরিচ বিক্রির জন্য বিক্রেতারা পরে তাতে বিষাক্ত রং মেশান।

Morich

তিনি জানান, আফলাটক্সিন মেশানো খাদ্য পণ্য নিয়মিত শরীরে প্রবেশ করলে তাৎক্ষণিককভাবে শারীরিক ক্ষতি না হলেও দীর্ঘমেয়াদে লিভার কান্সারের ঝুঁকি তৈরি হয়। এছাড়া আফলাটক্সিন শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে বাধার সৃষ্টি করে। সুধান-১ গ্রহনের ফলে প্রাথমিকভাবে চামড়ায় চুলকানি তৈরি করে; যা ক্যান্সার উৎপাদক হিসেবে চিহ্নিত, বংশ পরিক্রমায় সমস্যা সৃষ্টি করে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আন্তজার্তিক মানদণ্ডে খাদ্যপণ্যে আফলাটক্সিনের সর্বোচ্চ স্বাভাবিক পরিমাণ (কোডেক্স পিপিবি স্বাভাবিক মাত্রা) ধরা হয় ১৫। সম্প্রতি এনএফএসএল পাইকারি বাজারের খোলা গুঁড়া মরিচের দুটি নমুনায় ২১ দশমিক ৩৯ ও ১৯ দশমিক ১৩ মাত্রার আফলাটক্সিন পেয়েছে। অবশিষ্ট নমুনায় আলটক্সিনের পরিমাণ শূন্য দশমিক ৮৬ থেকে সর্বোচ্চ ৯ দশমিক ৬৪। উৎপাদক, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ের তিনটি নমুনায় সুডান-১ রং মেশানোর প্রমাণ পাওয়া গেছে।

অধিকাংশ নমুনায় আফলাটক্সিনের পরিমাণ কম পাওয়া গেছে সুতরাং এর ঝুঁকি কতটুকু জানতে চাইলে শাহনীলা ফেরদৌসী বলেন, স্বল্প মেয়াদে তেমন শারীরিক ক্ষতি না হলেও দীর্ঘমেয়াদে লিভার ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। দক্ষিণ আফ্রিকাতে আফলাটক্সিন ব্যবহারে বহু লোকের লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার প্রমাণ রয়েছে।

তিনি বলেন, আফলাটক্সিন এক ধরনের ফাঙ্গাস। যে কোন খাদ্যপণ্যে সঠিকভাবে সংরক্ষণের অভাবে ফাঙ্গাস পড়ে। সুতরাং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সকল পর্যায়ে সঠিক গুদামজাত পদ্ধতি অনুসরণ করা ব্যবসায়ীদের নৈতিক দায়িত্ব বলে তিনি জানান।

এই বিভাগের আরো সংবাদ