[bangla_day], [english_date], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]

একটি বদলে যাওয়া জনপদের গল্প

প্রকাশঃ September 15, 2017 | সম্পাদনাঃ 15th September 2017

এস, এম ইসাহক আলী রাজু,গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধিঃ চলনবিলের অবহেলিত একটি গ্রাম রুহাই। বর্ষায় গ্রামটি দ্বীপের মত জেগে থাকে আর শুকনায় রোদে পুড়ে খাঁ-খাঁ। শত বছরের বঞ্চনা বুকে ধারন করে গ্রামটি। নাটোরের গুরুদাসপুর-সিংড়া আর সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার সীমান্তে গ্রামটির ভৌগলিক অবস্থান।
শত বছর ধরে ‘বর্ষায় নাও আর মেহন্তে পা’-নির্ভর যোগাযোগ ব্যবস্থায় আটকে ছিল রুহাই। কিন্তু গ্রামটির অদুরে বিলসায় চলনবিলেরর মাঝে নির্মিত হয়েছে ১৭৫ মিটার দীর্ঘ একটি ব্রিজ। সেই সাথে রুহাই থেকে গুরুদাসপুরের চাঁচকৈড় পর্যন্ত সাড়ে ১০ কি.মি. দীর্ঘ একটি পাকা সড়ক। এখন রুহাই থেকে রাজাপুর (উপজেলার শেষ সীমা) পর্যন্ত উম্মোচিত হয়েছে আধুনিক সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। এজন্য ব্যয় হয়েছে ১৬ কোটি টাকা।
এতে করে পিছিয়ে পড়া রুহাই, বিলশা, খুবজীপুর, সিংড়া উপজেলার বেড়াবাড়ি, ইটালি এবং সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার কুন্দইল, বারুহাস, তাড়াশ সদরের সাথে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। এখন বর্ষাকালেও মানুষ দেশের আভ্যন্তরিন জেলার পরিবহন সুবিধা গড়ে উঠেছে। সেই সাথে বিলজনপদের মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার চিত্র বদলে গেছে। বিশেষ করে চলনবিলের মাঝে বিলশায় ‘মা-জননীী সেতু এবং পাকা সড়ক তৈরির কারনে বর্ষাও সময় তৈরি হয়েছে মানুষের বিনোদনের পরিবেশ। বিকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নানা শ্রেণি পেশার মানুষ সেখানে জমায়েত হয়- চলনবিলকে উপভোগ করতে। চলনবিলের বিলসা গ্রামের কৃতি সন্তান, নাটোর জেলা আ.লীগের সভাপতি ও স্থানীয় সাংসদ অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুসের অক্লান্ত চেষ্টায় চলনবিলের বুকচিরে ১৬ কোটি টাকার ওই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হয়েছে। যা শত বছরে ইতিহাস বহন করবে।
নাটোর নির্বাহী প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানাগেছে- গুরুদাসপুর-তাড়াশ মৈত্রী সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় গুরুদাসপুর পৌর সদরের চাঁচকৈড় থেকে উপজেলার রুহাই সীমানা পর্যন্ত সাড়ে ১০ কি.মি. সড়কের মধ্যে ৩কি.মি. সাবর্মাচেবল (ডুবো সড়ক)। সড়কটি ওয়াটার লেবেল ৪মিটার উঁচু করা হয়েছে। ভরা বর্ষায় চলনবিলের উত্তাল ঢেউয়ে সড়কটি যাতে ক্ষতিগ্রস্থ না হয় সেজন্য সড়কের উভয় পাশে নেট ও ব্লক দিয়ে প্রতিরোধ ব্যবস্থা করা হয়েছে। এজন্য ব্যয় হয়েছে ৯ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। আর সাড়ে ১০ কি.মি. সড়ক ও দুই লেন বিশিষ্ট ১৭৫ মিটার আরসিসি গার্ডার সেতু। এজন্য ১৫ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ব্যয় বরাদ্দ রয়েছে। সড়কের জন্য ৯ কোটি ৩৯ লাখ টাকা এবং ৬ কোটি ৫ লাখ টাকা ব্যয় হবে ব্রীজ নির্মানে। মেসার্স আনোয়ার ট্রেডার্স ও সরকার কন্সট্রাকশন নামে দুটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ওই প্রকল্পের কাজগুলো বাস্তবায়ন করে।
গুরুদাসপুর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) রতন কুমার ফৌজদার জানান, চলনবিলের কৃষি ও কৃষকের পরিবহন ব্যবস্থা বিবেচনায় বিলসায় আরসিসি গার্ডার ব্রিজ নির্মান করা হয়। ছয় স্প্যান বিশিষ্ট ১৭৫ মিটার দীর্ঘ ও ৫ দশমিক ৫ মিটার প্রস্থের ওই ব্রীজের প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে একই সাথে গরু/মহিষের গাড়িসহ বাস-ট্রাক চলাচল করতে পারবে। সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে ব্রিজটিতে পৃথক দু’টি লেন রাখা হয়েছে। একই সাথে ভরা বর্ষায় যাতে নৌচলাচলে বাধাগ্রস্থ না হয়, সে বিষয়টি মাথায় রেখে নির্মান করা হয়েছে ব্রিজটি। চলনবিল বাসীর জন্য এটা একটি মডেল ব্রীজ। এজন্য ব্যয় হয়েছে ৬ কোটি ৫ লাখ টাকা।
খুবজীপুর মেধা বিকাশ ফাউন্ডেশনের সাধারন সম্পাদক সহকারি অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা জানান, অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারনে আগে মুর্মুষ রোগিকে বাঁশের মাচাল বানিয়ে পায়ে হেঁটে উপজেলা সদরের হাসপাতালে নিতে হতো। সময় বেশী লাগার কারনে পথেই অনেক রোগির মৃত্যু হতো। এখন ব্রিজ আর পাকা সড়ক নির্মিত হওয়ায় মাত্র ১০ মিনিটেই হাসপাতালে পৌঁছা সম্ভব হচ্ছে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ