[bangla_day], [english_date], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]

ঈশ্বর কণার সন্ধানে

প্রকাশঃ April 17, 2016 | সম্পাদনাঃ 17th April 2016

2016_04_16_16_23_22_TQL0F6Lp1KoNqTlLiJdoY4NP31maSI_original

কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট,স্বাধীনতা৭১ডট কম

ঢাকা: বিংশ শতাব্দীর তিরিশের দশক কেবল। তখন পর্যন্ত বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল, মহাবিশ্ব দাঁড়িয়ে আছে দু’ধরনের বলের খুঁটিতে ভর দিয়ে। একটা হলো মহাকর্ষ বল আর অন্যটা তড়িৎচ্চুম্বকীয় বল।

দুনিয়ায়, মহাবিশ্বে যা কিছু ঘটছে তা এই দুটি বলে কারণে। এই দুই বলের আকর্ষণ সীমা বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত। কিন্তু বিজ্ঞান এই দুইয়ে আটকে থাকল না। আবিষ্কার হল স্বল্প পাল্লার আরো দুই প্রকার বল। সবল ও দুর্বল নিউক্লিয় বল।

সবল নিউক্লিয় বল প্রোটন ও নিউট্রনদের নিউক্লিয়াসের মধ্যে শক্তিশালী বন্ধন তৈরি করে আটকে রাখে। আর দুর্বল নিউক্লিয় বল কাজ করে তেজস্ক্রিয় পরমাণুর নিউক্লিয়াসে। এই বল তেজস্ক্রিয় পরমাণুর নিউট্রনকে ভেঙে প্রোটনে পরিণত করে। আর সে কারণে তা থেকে বিটা-রশ্মি নির্গত হয়। বিটা রশ্মি মূলত ইলেকট্রনের স্রোত।

এই দুই ধরনের বল নিউক্লিয়াসের ব্যাসের সমান বা তার চেয়ে ক্ষুদ্র দৈর্ঘ্য-সীমার মধ্যে কাজ করে। তাই এদেরকে যদি বুঝতে হয় তবে কোয়ান্টাম মেকানিক্সের ওপর ভরসা করা ছাড়া উপায় নেই।

বিংশ্ব শতাব্দীর তিরেশের দশক। অর্থাৎ সবল নিউক্লিয় বলের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেল কোয়ান্টাম মেকানিক্স। সবল নিউক্লিয় বলের জন্য কোয়ান্টাম তো প্রতিষ্ঠিত হলো, তাহলে দুর্বল নিউক্লিয় বলের জন্য কেন নয়? এই চিন্তা-ভাবনা যখন চলছে তখন আবিষ্কৃত হলো দুর্বল বলের এক আশ্চর্য ধর্ম। তা হল, দুর্বল প্রক্রিয়ায় মূল কণিকার স্পিনিং ধর্ম ডান-বাঁমের সাম্যবস্থায় থাকে না।

বিষয়টা আরেকটু খোলসা করে বলা যাক। আগেই বলা হয়েছে, দুর্বল নিউক্লিয় বলের প্রভাবে তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে বিটা রশ্মির আদলে ইলেকট্রন বেরিয়ে আসে। একটা বিষয় জানা ছিল বিজ্ঞানীদের। ইলেক্ট্রন সব সময় নিজে নিজে লাটিমের মতো ঘোরে। একেই ইলেক্ট্রনের কোয়ান্টাম স্পিন বলে। যদিও কোয়ান্টাম মেকানিক্স ঠিক লাটিমের মতো ঘোরার ব্যাপারটা সমর্থন করে না। তবুও স্পিন সম্পর্কে কিছুটা ধারণা পাওয়ার জন্য বলা আরকি ।

যেহেতু ইলেকট্রন ঘোরে তাই এর নিজস্ব ‘কৌণিক ভরবেগ’ থাকে। এই ঘূর্ণন দু’দিকে হতে পারে। ডানহাতি ও বাঁহাতি স্ক্রু নিয়মে। ডানহাতি স্ক্রু নিয়ম হলো, ডান হাতের সাহায্যে স্ক্রু-ড্রাইভার দিয়ে স্ক্রু আটতে গেলে হাতটাকে যে ভাবে ঘোরাতে হবে। আর বাঁহাতি স্ক্রু নিয়ম হলো, বাঁহাতের সাহায্যে স্ক্রু-ড্রাইভার দিয়ে স্ক্রু আটতে গেলে হাতটাকে যে ভাবে ঘোরাতে হবে।

বিটা রশ্মির অন্তর্ভুক্ত ইলেকট্রনগুলো পরীক্ষা করে আর্শ্চজনক ফল পেলেন বিজ্ঞানীরা। এই ইলেক্ট্রনগুলোর সবই বাঁহাতি স্ক্রু নিয়মে ঘোরে। সত্যিই অদ্ভুত! এই আবিষ্কার ফার্মির তত্ত্বকে এগিয়ে দিল আরো একধাপ। তবে ফার্মির তত্ত্বে নতুন বিষয়টা যোগ করার দরকার হল  তত্ত্বটার মধ্যে একটা ডান-বামের অসাম্য থাকতে হবে।

এ কাজে এগিয়ে এলেন চার-চারজন মার্কিন বিজ্ঞানী। জর্জ সুদর্শন, রবার্ট মার্শাক, মারে গেলমান ও রিচার্ড ফাইনম্যান। এদের প্রচেষ্টায় ফার্মির তত্ত্বে আরও সুন্দর কাঠামো পেল। কিন্তু ইলেক্ট্রডাইনামিক্সের মতো সর্বাঙ্গসুন্দর কোয়ান্টাম তত্ত্ব তখনও পাওয়া যায়নি।

ধরা যাক, দুটো ইলেকট্রন ছুটে পরস্পরের কাছাকাছি এলো। কিন্তু তাদের মধ্যে পারস্পরিক বিকর্ষণের ফলে আবার ছিটকে দু’দিকে চলে গেল। এরকম ঘটনা কী হারে ঘটতে পারে? ইলেকট্রনগুলির কোনো বিশেষ দিকে ছিটকে যাওয়ার সম্ভাবনা কীরকম? অঙ্ক কষে এগুলোর উত্তর বের করতে গেলে ফল আসবে ‘অসীম’! ইলেকট্রন ছিটকে যাওয়ার হার কষতে গেলে সেরকমই হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ