[bangla_day], [english_date], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]

ঈদের আগেও নির্বিচারে ক্রসফায়ারের নামে হত্যালীলা চলছে: রিজভী।

প্রকাশঃ July 6, 2016 | সম্পাদনাঃ 6th July 2016

10_119127

ঢাকা: ঈদের আগেও নির্বিচারে হত্যালীলা চলছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, ক্রসফায়ারের নামে বিচারবহির্ভূতভাবে মানুষ হত্যার কোন কমতি দেখা যাচ্ছে না। একটি বেআইনি ভয়াবহ অপরাধ মোকাবেলা করার জন্য রাষ্ট্র কর্তৃক আরেকটি বেআইনি অপরাধ সংঘটিত হলে অপরাধের মাত্রা কখনোই কমেনা, বরং অপরাধ বৃদ্ধি পেয়ে আরও কদর্য রূপ লাভ করে।বুধবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এসব কথা বলেন।সম্প্রতি গুলশানে জঙ্গি হামলার পরদিন প্রধানমন্ত্রীর চার লেন প্রকল্পের উদ্বোধন করার সমালোচনা করেন রিজভী। এছাড়াও সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ প্রতিহত করতে বিএনপি চেয়ারপারসন যে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন তাতে সাড়া দিতে সরকারের প্রতিও আহ্বান জানান তিনি।রিজভী বলেন, ঈদের প্রাক্কালে আমাদের প্রত্যেকেরই প্রত্যাশা ছিল-একটি শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমূখর পরিবেশে ঈদ উদযাপন করার। সারা রমজান মাসটি কেটেছে ভয়ে, শঙ্কায়। কারণ গোটা মাসটিই রক্তঝরা সংঘাত-সংঘর্ষে কেটেছে। বছরব্যাপী বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ধর্মগুরু, ভিন্ন মতাবলম্বী ব্লগার, বিদেশি নাগরিকসহ নানা মতের মানুষকে হত্যার ধারাবাহিকতায় গত শুক্রবার রাতে গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে সন্ত্রাসী হামলায় দেশে দেখা গেলো উগ্রবাদের এক নতুন বিভৎস রূপ।’তিনি বলেন, ‘বৈশ্বিক সন্ত্রাসের নেটওয়ার্কের আওতায় বাংলাদেশকে অন্তর্ভূক্ত করার আলামত ফুটে উঠলো। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি বিরল দুর্ঘটনা। এর ব্যাপক প্রভাব পড়বে গোটা জাতির ওপর। বিশ্বসমাজে আমাদের রাজনীতি, সমাজ, সংস্কৃতি, অর্থনীতি সর্বত্রই নেতিবাচক পরিচিতি লাভ করতে থাকবে। বিশেষ করে আমাদের অর্থনীতি গভীর খাদে পতিত হবে। বিনিয়োগ, ব্যবসা-বাণিজ্য, উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানসহ সকল অর্থনৈতিক কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়ায় আশঙ্কা রয়েছে।’রিজভী বলেন, ‘এরকম একটি সহিংস জীবনসংহারী গোষ্ঠীর অপতৎপরতা নির্মূল করতে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বারবার তাঁর বক্তব্যে সবকিছুই খোলাসা করেই বক্তব্য রেখেছেন। তিনবারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশ পরিচালনায় তার যথেষ্ট অভিজ্ঞতা রয়েছে। বর্তমান এই দু:সহ দু:সময়ে সর্বমহলে তার বক্তব্য অভিনন্দিত হয়েছে। সুতরাং এই মূহুর্তে দোষারোপ ও বিভাজনের পুরনো পথে হাঁটলে দেশের সংকট আরো ঘনীভূত হবে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সন্ত্রাসী ঘটনায় উগ্রবাদী সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে তাদের নির্মূল করতে কোন পর্দা ঝুলিয়ে রাখলে সংকটের মর্মমূলে পৌঁছানো যাবে না। শর্তের কথা বলে কালক্ষেপণ করে জাতীয় ঐক্যকে বাধাগ্রস্ত করলে অশুভ শক্তিরই বাড়বাড়ন্ত হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে জাতীয় নিরাপত্তাকে সুরক্ষা দেয়া যে এ মূহুর্তে অত্যন্ত জরুরি, সেটি অনুভব এবং অভিজ্ঞতার সীমানার মধ্যে আনতে হবে। আর সেটি করতে ব্যর্থ হলে জাতির কাছে দায়ী থাকবে, কারণ তারাই ক্ষমতায়।’তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘গুলশানের সন্ত্রাসী হামলায় বিদেশি নাগরিকসহ দেশের মানুষ জিম্মি হওয়ার ঘটনা মোকাবেলা করতে সরকারি সিদ্ধান্তের দোদুল্যমানতার কারণে দীর্ঘসূত্রিতায় এতগুলো মানুষের প্রাণ ঝরে গেছে বলে এদেশের মানুষ বিশ্বাস করে। জনগণ এও মনে করে-খুব দ্রুত দেশের নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান চালালে হয়তো অনেক জীবন রক্ষা পেতো।’তিনি বলেন, ‘গোটা জাতি যখন উদ্বেগ উৎকন্ঠায় রুদ্ধশ্বাসে জিম্মি ঘটনা অবলোকন করছে, যখন এতজন দেশি-বিদেশি মানুষের প্রাণহানিতে দেশ-বিদেশে আহাজারি উঠেছে, দেশ-বিদেশের মানুষ যখন এই মর্মন্তুদ ঘটনায় শোকাচ্ছন্ন ঠিক সেই মূহুর্তে শনিবার সকালে অর্থাৎ সন্ত্রাসীদের মোকাবেলায় অভিযান পরিচালনার পরপরই প্রধানমন্ত্রী ঘটা করে চারলেনের সড়ক উদ্বোধন না করলেই পারতেন।’সম্প্রতি আলোচিত হত্যাকাণ্ডের আসামি ক্রসফায়ারে নিহত হওয়ার ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আতঙ্কের অনুভূতি সমাজে বিস্তার লাভ করবে। ইতিহাস জ্ঞানের অভাব রাজনীতির অঙ্গ হওয়ার কারনে ক্রসফায়ারের মতো কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। বন্দুকযুদ্ধের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যাই যদি রাষ্ট্রের বিধানে পরিণত হয়, তাহলে বিচার বিভাগ ও জনপ্রশাসনের প্রয়োজন কী?’

রিজভী প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, ‘এদেশ জনগণের, এদেশের যেকোন উদ্ভুত পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে এদেশের মানুষই যথেষ্ট। এজন্য সবার আগে প্রয়োজন সকলকে ঐক্যবদ্ধ করা। জনগণের ঐক্যবদ্ধ শক্তি যেকোন অশুভ শক্তিকে মোকাবেলা করতে সক্ষম।
(স্বাধীনতা৭১/৬জুলাই/বিইউ/এমআর)

এই বিভাগের আরো সংবাদ